বাংলাদেশ ডেস্ক : | শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
নিউইয়র্ক স্টেটে মারাত্মকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য স্বেচ্ছামৃত্যুর একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন অনুমোদিত হয়েছে। গভর্নর কেথলিন হোচুল এস ১৩৮/এ১৩৬ আইনে স্বাক্ষর করে এই আইনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করেছেন, যা ছয় মাসের কম সময় বাঁচার সম্ভাবনা থাকা রোগীদের “মেডিকেল এইড ইন ডাইং” বা চিকিৎসাগত মৃত্যুর সুবিধা দেবে। আইনটি রোগীদের নিজস্ব ইচ্ছায় জীবন শেষ করার সুযোগ দেবে, যাতে কষ্ট কমানো যায়, কিন্তু জীবনকাল হঠাৎভাবে সংক্ষেপিত হবে না।
]গভর্নর হোচুল বলেন, “আমাদের রাজ্য সর্বদা নিউইয়র্কবাসীর স্বাধীনতা ও দেহগত স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করবে। এর মধ্যে রয়েছে মারাত্মকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে জীবন শেষ করার অধিকার। আমার মায়ের অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস (অখঝ) রোগে যন্ত্রণায় ভোগার অভিজ্ঞতা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে প্রভাবিত করেছিল। তাই আমি বিশ্বাস করি, আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই আইনের মাধ্যমে নিউইয়র্কবাসীরা কষ্ট কমানোর সুযোগ পাবেন, জীবন নয়, বরং মৃত্যুর সময় সংক্ষেপিত হবে।”
আইনটি স্পষ্ট করেছে যে কেউ বাধ্যতামূলকভাবে মেডিকেল এইড ইন ডাইং নেবে না, এবং কোনো স্বাস্থ্যকর্মী বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এটি প্রদানের জন্য বাধ্য করা হবে না। আইনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে:
প্রেসক্রিপশন লেখা এবং এটি কার্যকর হওয়ার মধ্যে ৫ দিনের বাধ্যতামূলক অপেক্ষার সময়।
রোগীর মৌখিক অনুরোধ ভিডিও বা অডিওতে রেকর্ড করা।
রোগীর মানসিক স্বাস্থ্য যাচাই করা একটি মনোবিজ্ঞানী বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দ্বারা।
যিনি রোগীর মৃত্যু থেকে আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন, তিনি সাক্ষী বা অনুবাদক হতে পারবেন না।
আইনটি আরও নির্দিষ্ট করেছে যে মেডিকেল এইড ইন ডাইং শুধুমাত্র নিউইয়র্ক রাজ্যের বাসীদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে, রোগীর প্রথম মূল্যায়ন অবশ্যই সরাসরি চিকিৎসকের মাধ্যমে হবে, এবং ধর্মভিত্তিক হোম হসপিস প্রদানকারী চাইলে এই পরিষেবা দিতে অস্বীকার করতে পারবেন। আইনের লঙ্ঘনকে পেশাগত অন্যায় আচরণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এছাড়া, আইন কার্যকর হওয়ার ছয় মাস পর স্বাস্থ্য বিভাগকে নিয়মাবলী তৈরি ও কর্মী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার সময় দেওয়া হয়েছে।
ডিসেম্বরে গভর্নর হোচুল আইনটির পৃষ্ঠপোষক, সমর্থক এবং মারাত্মকভাবে অসুস্থ নিউইয়র্কবাসীর সঙ্গে প্রেস কনফারেন্সে আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন। আইন কার্যকর হওয়ার পর, নিউইয়র্কে টার্মিনালি অসুস্থ ব্যক্তিরা নিজেদের মৃত্যু প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও কষ্টমুক্তভাবে সম্পন্ন করার অধিকার পাবেন, যা একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Posted ১০:১১ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh