বাংলাদেশ অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬
ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস ক্যাপিটলে সিনেট রিপাবলিকানদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকের পর মার্কিন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। ছবি : এএফপি
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে আনার একটি প্রচেষ্টা মার্কিন সিনেটে ব্যর্থ হয়েছে। বিদেশে ট্রাম্পের সামরিক অভিযান সীমিত করার সমর্থকদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর : আল জাজিরার।
সিনেটে উত্থাপিত ‘যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবটি’ পদ্ধতিগত ভোটে ৪৭-৫২ ব্যবধানে বাতিল হয়ে যায়। রিপাবলিকান সিনেটররা মূলত দলীয় লাইন বজায় রেখে ট্রাম্পের পাশেই দাঁড়িয়েছেন।
প্রস্তাবটির সমর্থকরা বলছেন, ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইরানে হামলা চালিয়ে নিজের সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী, কেবল ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ মোকাবিলায় আত্মরক্ষার জন্য প্রেসিডেন্ট হামলা চালাতে পারেন; অন্যথায় যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের।
সিনেটর টিম কেইন যুক্তি দেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন এমন কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি যে আমেরিকা ইরানের কাছ থেকে কোনো আসন্ন আক্রমণের হুমকির মুখে ছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই হামলার পক্ষে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করেছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় গড়ে তোলার চেষ্টা করছে ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার জন্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে।
সিনেটর জেমস রিশের যুক্তি দেন, দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রেসিডেন্টের কেবল অধিকারই নয়, বরং কর্তব্য। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান গত বছর ধ্বংস হওয়া তাদের পারমাণবিক সম্পদ পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে ও আলোচনার টেবিলে বসে সময়ক্ষেপণ করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইসরায়েল ইরানে বড় হামলার পরিকল্পনা করছিল, যার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সম্পদের ওপর হামলা হতে পারত। যদিও ট্রাম্প পরে দাবি করেন, ইরানই ইসরায়েলের ওপর আসন্ন হামলার ছক কষছিল।
১৯৭৩ সালের ‘যুদ্ধ ক্ষমতা আইন’ অনুযায়ী, কোনো সামরিক অভিযানে ৬০ দিনের বেশি সেনা মোতায়েন রাখতে গেলে প্রেসিডেন্টের কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।
পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, মার্কিন অভিযান কেবল শুরু হয়েছে ও এই অঞ্চলে আরও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হবে।
ট্রাম্প নিজে ধারণা করছেন এই সংঘাত ‘চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ’ স্থায়ী হতে পারে। তবে জেমস রিশের মতো রিপাবলিকানরা আশা করছেন এটি ‘খুব দ্রুত’ শেষ হবে।
যদিও এই প্রস্তাবটি পাস হলেও ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করার সুযোগ ছিল, তবুও এই ভোটাভুটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ এটি প্রেসিডেন্টের একক যুদ্ধের ক্ষমতার সীমা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের সরাসরি প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে। প্রতিনিধি পরিষদেও একটি পৃথক প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে, তবে সিনেটের ফলাফলের পর সেটিও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Posted ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh