বাংলাদেশ অনলাইন : | মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ভয়াবহ বৈরী আবহাওয়া, টর্নেডো ও তুষারঝড়ের কবলে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় ১১ রাজ্যের ১ কোটিরও বেশি বাসিন্দাকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় রবিবার শুরু হওয়া তুষারঝড় সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা নাগাদ অব্যাহত থাকবে বলে জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিন এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দুর্যোগে নিপতিত এলাকার ৫ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল অথবা বিলম্বিত হচ্ছে। কদিনের উত্তপ্ত আবহাওয়ার পরই হঠাৎ বৈরী রূপ ধারণ করায় আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তনের সামগ্রিক প্রভাবকে দায়ী করছেন।
জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে নিপতিত রাজ্যগুলো হচ্ছে আলাস্কা, হাওয়াই, ম্যারিল্যান্ড, উইসকনসিন, মিনেসোটা, মিশিগান, সাউথ ডেকটা, নর্থ ডেকটা, ওয়াইওমিং, মন্টানা এবং ওয়াশিংটন ডিসি। এসব রাজ্যের সড়ক-মহাসড়ক বরফে ঢেকে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট গভর্নরের অফিস থেকে সর্বসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে।
এসব রাজ্যে সোমবার অপরাহ্ণ নাগাদ ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। হঠাৎ বদলে যাওয়া আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি প্রসঙ্গে ম্যারিল্যান্ড রাজ্যের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মার্ক চেনার্ড গণমাধ্যমে বলেছেন, সারা আমেরিকাতেই, এমনকি আপনি যদি অত্যাবশ্যকভাবে চরম মাত্রা না দেখে থাকেন, তবে সাধারণভাবে ঠান্ডা থেকে উষ্ণ বা উষ্ণ থেকে ঠান্ডা, আবার ঠান্ডা থেকে উষ্ণে পরিবর্তিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে গত কয়েক সপ্তাহে-যা একেবারেই ভিন্ন চিত্র। একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করে জাতীয় মহাসাগরীয় এবং বায়ুম লীয় প্রশাসনের প্রধান বিজ্ঞানী রায়ান মাউ বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যেই এমন বৈপরীত্য অনুভব করছেন। সোমবার সকালের তথ্য অনুযায়ী, উপরোক্ত ১১টি রাজ্যের ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ মাইল বেগে তুষারঝড় বইছে। বেশ কটি এলাকার ওপর দিয়ে আচমকা টর্নেডো বইয়ে যাওয়ায় বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে বলে স্টেট গভর্নর অফিস সূত্রে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, উপরোক্ত রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে আর কখনোই এমন বৈরী আবহাওয়া কেউ দেখেনি কিংবা ইতিহাসেও লেখা নেই। উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের তুষারপাতে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত তেমনি সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিমের বেশ কটি রাজ্যে অসহনীয় তাপ প্রবাহিত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মাউ এবং চেনার্ড।
অ্যারিজোনা রাজ্যের ফিনিক্স সিটিতে মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট। গত ১০০ বছরের তাপমাত্রা সংরক্ষণের ইতিহাসে কোনো বছরই ২৬ মার্চের আগে ১০০ ডিগ্রির ওপরে ওঠেনি এবং সাধারণত ১০০ ডিগ্রির ওপরে উঠেছে মে মাসের শুরুতে। আর এভাবেই জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ংকর প্রভাব জনজীবনকে গ্রাস করছে হঠাৎ বদলে যাওয়া আবহাওয়া। অ্যারিজোনায় যখন ১০৭ ডিগ্রিতে জনজীবনকে বিষিয়ে তুলেছে, একই সময়ে মিনিয়াপলিস এবং শিকাগো সিটিতে হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা প্রবাহিত হচ্ছে। মধ্য আটলান্টিকের আশপাশে তথা উত্তর-পূবাঞ্চলীয় স্টেটসমূহে তাপমাত্রা মাইনাস ১০ হচ্ছে। জর্জিয়া স্টেটের কোনো কোনো এলাকায় হিমাঙ্কের নিচে বইছে তাপমাত্রা।
Posted ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh