বাংলাদেশ অনলাইন : | মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান কয়েক দফায় শক্তিশালী মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।
আজ মঙ্গলবার ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, তেল আবিবের একটি বহুতল আবাসিক ভবন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরায়েলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে কোনো বেসামরিক নাগরিক আটকে আছে কি না, তা খুঁজে দেখতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতি সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নাকি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপশনের কারণে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এর আগে সোমবার (২৩ মার্চ) ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যালয় লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালায়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সম্পূর্ণ অবসানের লক্ষ্যে ইরানের সাথে ‘অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে।
এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে পূর্বনির্ধারিত হামলার পরিকল্পনা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন।
তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফোর জানিয়েছে, এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র জ্বালানি কেন্দ্রের ওপর কার্যকর হলেও অন্যান্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ট্রাম্পের এই দাবিকে কেন্দ্র করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আলোচনা হয়নি। আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে তারা ‘ফেক নিউজ’ বা ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, সরাসরি আলোচনা না হলেও পাকিস্তান, মিশর, ওমান ও উপসাগরীয় দেশগুলো দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে।
এছাড়াও রয়টার্স জানায়, চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সাথে ইরানি কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক হতে পারে।
এর আগে ট্রাম্পও জানিয়েছেন, তার বিশেষ প্রতিনিধিরা রোববার রাতভর আলোচনা চালিয়েছেন এবং অধিকাংশ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে সরবরাহ হয়।
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপক ওঠানামা করছে। ট্রাম্পের আলোচনার খবরের পর তেলের দাম সাময়িকভাবে কমলেও মঙ্গলবার নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৪.২ শতাংশ বেড়ে ১০৪.২১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
Posted ৪:৫১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh