বাংলাদেশ অনলাইন : | রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ শুরুর এক মাস পূর্ণ হতেই দেশজুড়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ। শনিবার (২৮ মার্চ) আয়োজিত এসব মিছিল ও সমাবেশ ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় ধাপের কর্মসূচি।
‘নো কিংস’ আন্দোলনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সব ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ৩০০ এর বেশি কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে সবচেয়ে বড় জমায়েত দেখা যায়। একই সঙ্গে ইউরোপের রোম, প্যারিস এবং বার্লিনেও এই আন্দোলনের সমর্থনে সমান্তরাল কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এবারের কর্মসূচিতে আয়োজকরা শুধু বড় শহরেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং রক্ষণশীল অধ্যুষিত ছোট শহর ও এলাকাগুলোতেও মানুষকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চালান। প্রগতিশীল অলাভজনক সংগঠন ইনডিভিজিবলের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিয়া গ্রিনবার্গ বলেন, এই আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে কতজন মানুষ অংশ নিয়েছেন তা নয়, বরং তারা কোথায় অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করছেন।
সবচেয়ে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল অঞ্চলে। গত বছরের ডিসেম্বরে এই এলাকাতেই ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চালানো হয়, যেখানে ৩ হাজারেরও বেশি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা মোতায়েন করে জোরপূর্বক বহিষ্কার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে জানুয়ারিতে ওই অভিযানের সময় দুই মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেত্তি ও রেনি নিকোল গুড নিহত হন। এই ঘটনার জেরে সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং শনিবারের বিক্ষোভে তাদের স্মরণ করা হয়।
মিনেসোটার ওই সমাবেশে প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে রক সংগীতের কিংবদন্তি ব্রুস স্প্রিংস্টিন এবং লোকসংগীতশিল্পী জোয়ান বায়েজ সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অন্যদিকে, অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো পূর্বে ধারণ করা এক ভিডিও বার্তায় বলেন, আপনাদের সাহস, অঙ্গীকার এবং দৃঢ়তা আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে। সরকারি বাহিনীর সশস্ত্র চাপের মুখেও আপনারা যে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
ওয়াশিংটন ডিসিতে লিঙ্কন মেমোরিয়াল ও ওয়াশিংটন মনুমেন্টের আশপাশে বিক্ষোভকারীরা নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড ও সাইনবোর্ড হাতে জড়ো হন। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, আমরা এই দেশকে কোনোভাবেই কর্তৃত্ববাদী শাসন বা ধনকুবেরদের নিয়ন্ত্রণে যেতে দেব না। যুক্তরাষ্ট্রে জনগণের শাসনই চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
এর আগে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের প্রথম দুটি বড় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত বছরের জুন ও অক্টোবরে, যেখানে লাখো মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। এবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করে তুলছে। ডেমোক্র্যাট দল ট্রাম্পের কমতে থাকা জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসে নিজেদের আসন সংখ্যা বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করছে।
Posted ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh