বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টদের জন্মসূত্রে আমেরিকান সিটিজেনশিপ পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করার ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশের ওপর বুধবার (১ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই ঘন্টাব্যাপী শুনানি চলাকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায় এক ঘন্টা সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত ছিলেন, এবং গ্যালারিতে বসে শুনানি শোনে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে নজীরবিহীন এক ঘটনা।
আগামী জুন মাসের শেষদিকে অথবা জুলাই মাসের প্রথম দিকে সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ের ওপর রায় ঘোষণা করবে। নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, শুনানি চলাকালে বিচারপতিতেদের যুক্তি প্রদর্শন থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভের সাংবিধানিক অধিকার বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে আদেশ দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করার সম্ভাব্যতার ব্যাপারে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতি সন্দিহান।
সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল বিচারপতিগণ আগেই তাদের সন্দেহ পোষণ করেছিলেন যা আমেরিকান ভূখন্ডে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো শিশু, তাদের বাবা-মার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস যাই হোক না কেন, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমেরিকান নাগরিকত্ব লাভ করবে।
উল্লেখ্য, ১৮৬৮ সালে আমেরিকান গৃহযুদ্ধের পর সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে নাগরিকত্বের ধারার সঙ্গে জড়িত হয়েছিল। এর আগে ১৮৫৭ সালে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়েছিল। সংশোধনীর মূল বিধানে বলা হয়েছে যে “যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা ন্যাচারালাইড এবং এর এখতিয়ার সাপেক্ষে সকল ব্যক্তি” যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। সংবিধান জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের গ্যারান্টি দেওয়ার জন্য একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে আদালতের রায় এবং নির্বাহী কার্যক্রমে নানাভাবে আলোচিত হয়ে আসছে।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ওপর সুপ্রিম কোর্ট ১৮৯৮ সালে একটি রায় দিয়েছিল যে, স্যান ফ্রান্সিসকোতে চাইনিজ আনডকুমেন্টেড বাবা-মার আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী ওং কিম আর্ক একজন আমেরিকান সিটিজেন। বিভিন্ন সময়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকারের বিরোধী প্রশাসন যুক্তি দিয়েছে ১৪তম সংশোধনী যখন গৃহীত হয়েছিল, তখন এটি ছিল আমেরিকায় বসবাসরত ক্রীতদাসদের বংশধরদের ক্ষেত্রে প্রয়োগের উদ্দেশ্যে। তারা আরও বলেছে যে, চতুর্দশ সংশোধনী আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টদের আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে, সংশোধনীটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার কারণে।
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বেশ ক’জন রক্ষণশীল বিচারপতি আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের একজন আইনজীবীর উদ্দেশ্যে প্রশ্নও করেন, যা বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জ, এবং বিরাট পরিণতিমূলক মামলার ফলাফলে এর কি প্রভাব পড়তে তা স্পষ্ট নয়। গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাহী আদেশে আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী যেকোনো স্ট্যাটাসের দম্পতির সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব লাভের সুযোগ নিষিদ্ধ করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট যদি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় প্রদান করে, তাহলে আমেরিকান হওয়ার অর্থ কী- তা পুনরায় সংজ্ঞায়িত করতে হতে পারে এবং প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্ট দম্পতির আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী দুই লাখের বেশি শিশুর নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে।
Posted ১২:১৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh