বাংলাদেশ অনলাইন : | মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি : সংগৃহীত
ইরান, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তারা বিরল খনিজ নিয়ে করা চুক্তিটির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও পর্যালোচনা করছেন। এ সপ্তাহে বেইজিং যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দুদিনের ওই সফরের বিষয়ে পূর্বালোচনা করতে গিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা এসব তথ্য দিয়েছেন। রয়টার্স বলছে, বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির শীর্ষ নেতারা ছয় মাস পর ফের মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন। এ বৈঠকে তারা বাণিজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ এবং মতবিরোধের অন্যান্য ক্ষেত্রে সৃষ্ট টানাপোড়েনের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করবেন। বুধবার ট্রাম্পের বেইজিং পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর বৃহস্পতি ও শুক্রবার নানা বিষয়ে শীর্ষ বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এটি ২০১৭ সালের পর তার প্রথম বেইজিং সফর হবে।
উড়োজাহাজ, কৃষি ও বাণিজ্য নিয়ে চুক্তি: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন কিছু বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। কর্মকর্তাদের মতে, দুই দেশ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে নতুন কিছু ফোরাম গঠনের বিষয়ে একমত হতে পারে। এ ছাড়া চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং বিমান, কৃষিপণ্য এবং জ্বালানি কেনার ঘোষণা দিতে পারে। ‘বোর্ড অব ট্রেড’ এবং ‘বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট’ নামে নতুন ব্যবস্থাও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হতে পারে, যদিও এগুলো পুরোপুরি কার্যকর করতে পরে আরও আলোচনা লাগবে।
দুই দেশ তাদের চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের বিরতি আরও দীর্ঘ করার বিষয়েও আলোচনা করবে। এ সমঝোতার ফলে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ মিনারেল) সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। যদিও এ চুক্তি নবায়ন হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
তাইওয়ান, পরমাণু অস্ত্র, ইরান ও এআইর মতো জটিল বিষয়ও উঠবে আলোচনায়: এর মধ্যে রয়েছে তাইওয়ান, পারমাণবিক অস্ত্র, ইরান ও এআই। চীনের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং চীন এখনো ইরানের তেলের বড় ক্রেতা। ট্রাম্প প্রশাসন চীনের ওপর চাপ দিচ্ছে, যাতে তারা ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে প্রভাবিত করে। কারণ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে উত্তেজনা বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র চীনের রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও উদ্বিগ্ন। কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প একাধিকবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান ও রাশিয়া বিষয়ে কথা বলেছেন। বিশেষ করে চীন এসব দেশের অর্থনীতি ও সামরিক সরঞ্জামে কীভাবে সহায়তা দিচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অন্যদিকে, তাইওয়ান ইস্যুতে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অসন্তুষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সমর্থক এবং অস্ত্র সরবরাহকারী। কিন্তু চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন তাইওয়ানের আশপাশে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। এআই নিয়েও দুই দেশের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, চীনের উন্নত এআই প্রযুক্তির কারণে ভবিষ্যতে সংঘাত তৈরি হতে পারে। তাই দুই দেশের মধ্যে এআই বিষয়ে যোগাযোগের একটি আলাদা ব্যবস্থা তৈরি করার চিন্তা চলছে। বৈ
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বহুদিন ধরেই চীনের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা করতে চায়। কিন্তু চীন এখনো এতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
Posted ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh