এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শী : | রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করা
১০ জিলহজ তারিখে মুজদালিফা থেকে ফজর নামাজের পর মিনায় আগমন করে জামরায়ে আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করা, কোরবানি করা এবং মাথা মু-ানোর পর এই দিনেই চতুর্থ একটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়, তা হলোÑ কাবাঘরের তাওয়াফে জিয়ারত করা। এ প্রসঙ্গে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) কোরবানির দিনই কাবাঘরের তাওয়াফ করেছেন। তারপর তিনি মক্কা থেকে মিনায় আগমন করলেন এবং এখানেই জোহরের নামাজ আদায় করলেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, বায়হাকি)
রাসূলুল্লাহ (সা.) এই যে কাবাঘরের তাওয়াফ করলেন একে তাওয়াফে ইফাজা কিংবা তাওয়াকে জিয়ারত বলা হয়। এই তাওয়াফ হজের অন্যতম রোকন বা ফরজ। ইহা না করলে হজ পূর্ণ হতে পারে না। এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। এই তাওয়াফের জন্য দুটি সময় আছে। একটি কোরবানির দিন পাথর নিক্ষেপ করা, কোরবানি করা, মাথা মু-ন করার পর দ্বিপ্রহর পর্যন্ত তাওয়াফে জিয়ারত আদায় করা। যদি সন্ধ্যা পর্যন্ত বিলম্ব হয়, তথাপি কোনো দোষ হবে না। আর দ্বিতীয়টি হলো জায়েজ সময়। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে কোরবানির পরের দিন প্রথম সূর্যোদয় কাল পর্যন্ত তাওয়াফে জিয়ারত আদায় করা যায়। উপরোক্ত হাদিসে বলা হয়েছেÑ রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে মিনায় ফিরে এসে এখানেই জোহরের নামাজ আদায় করেছেন। কিন্তু হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত ও সহিহ মুসলিম শরিফে উদ্ধৃত হাদিসে বলা হয়েছেÑ রাসূলুল্লাহ (সা.) উটের উপর আরোহণ করেন। কাবাঘরের তাওয়াফে ইফাজা বা তাওয়াফে জিয়ারত আদায় করলেন এবং মক্কা শরিফেই জোহরের নামাজ আদায় করলেন। এই দুটি বর্ণনায় সুস্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ করা যায়।
এই পার্থক্য দূরীকরণে ও উভয় বর্ণনার মাঝে সমতা বিধানকল্পে ইমাম নবভী (রহ.) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) দ্বিপ্রহরের আগেই তাওয়াফে জিয়ারত শেষ করেন। পরে মক্কাতেই আউয়াল ওয়াক্তে জোহর নামাজ আদায় করেন। তারপর মিনায় প্রত্যাবর্তন করে দেখতে পান যে, সাহাবায়ে কেরাম মিনায় জোহর নামাজ আদায় করছেন। এখানেও তিনি জামাতে শরিক হয়ে নফল হিসেবে জোহর নামাজ আদায় করলেন। কেননা, তিনি নিজেই বিধান দিয়েছেন, একবার নামাজ আদায় করার পর যদি দেখতে পায় যে, সেই নামাজের জামাত দাঁড়িয়ে গেছে, তাহলে সে নফল স্বরূপ জামাতে শামিল হয়ে পুনর্বার নামাজ আদায় করতে পারে। এ প্রসঙ্গে ইমাম শাওকানি (রহ.)ও একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। (তোহফাতুল আহওয়াজি, বুলুগুল আমানি) মহান আল্লাহ পাক আমাদের যথাযথভাবে হজ আদায় করার তাওফিক এনায়েত করুন, আমিন! ওয়াল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন!!
Posted ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh