বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পরিচালিত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে নতুন শর্ত আরোপকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ছে। ফেডারেল সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২০ ঘণ্টা কাজ, চাকরি-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ বা অনুমোদিত স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। অন্যথায় তারা খাদ্য সহায়তা সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া এবং স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় লাখো মানুষ এই সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। নতুন নীতির আওতায় নির্ভরশীল সন্তানবিহীন কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অথবা নির্ধারিত স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের প্রমাণ দিতে হবে।
সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং সুবিধাভোগীদের স্বনির্ভর হতে উৎসাহিত করবে। তবে সামাজিক সংগঠন, দারিদ্র্যবিষয়ক গবেষক এবং অধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, শ্রমবাজারের বাস্তবতা, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান এবং কম মজুরির চাকরির বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই এ ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন খণ্ডকালীন, অস্থায়ী বা অনিয়মিত কাজে নিয়োজিত মানুষ। নিউইয়র্ক শহরে এ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেশি। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু নিউইয়র্ক সিটিতেই প্রায় ৪০ হাজার মানুষ খাদ্য সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বড় শহরগুলোতে এই প্রভাব আরও ব্যাপক হতে পারে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি নতুন নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি না করে খাদ্য সহায়তার ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করলে ক্ষুধা ও সামাজিক দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। তার ভাষ্য, অনেক মানুষ ইতোমধ্যেই কাজ করছেন, কিন্তু উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে শুধুমাত্র উপার্জনের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য সহায়তা পাওয়া অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের আয়মূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।
কিন্তু কম মজুরি, খণ্ডকালীন চাকরি এবং অনিশ্চিত কর্মঘণ্টার কারণে তারা এখনও সরকারি সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর অনেক সুবিধাভোগী তাদের যোগ্যতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় সামাজিক সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন তথ্য ও সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম জোরদার করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্য সহায়তার সুযোগ সীমিত হলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো আরও আর্থিক চাপে পড়বে। বিশেষ করে অভিবাসী পরিবার, গৃহহীন ব্যক্তি এবং অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। এক পক্ষের মতে, কর্মক্ষম মানুষকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ ইতিবাচক। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, পর্যাপ্ত চাকরির সুযোগ ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না করে এমন কঠোর শর্ত আরোপ করলে তা বাস্তবে দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে।
Posted ১:৫৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh