স্পোর্টস ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
গ্যালারি জুড়ে তখন হলুদের চেনা গর্জন আর মাঠ জুড়ে ব্রাজিলিয়ান সাম্বার নান্দনিক ছন্দ। ফেবারিট হিসেবে মাঠে নেমে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেই চেনা একক আধিপত্য বজায় রাখল কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। স্কটল্যান্ডকে রীতিমতো ফুটবল পাঠ দিয়ে ৩-০ গোলে উড়িয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে পা রাখল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোল এবং মাথেউস কুনহার এক স্ট্রাইকে নিশ্চিত হয় সেলেসাওদের এই দাপুটে জয়। টানা ১৫টি বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে ওঠার অনন্য রেকর্ড গড়ল ব্রাজিল। অন্যদিকে, এই হারের পর ৩ পয়েন্ট এবং মাইনাস ৩ গোল ব্যবধান নিয়ে সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের একটি হয়ে শেষ ৩২-এ যাওয়ার জন্য এখন ভাগ্যের ওপর চেয়ে থাকতে হবে স্কটল্যান্ডকে।
মায়ামির এই ম্যাচে মাঠের দাপুটে ফুটবলের পাশাপাশি গ্যালারির উন্মাদনা রূপ নেয় ভিন্ন মাত্রায়। কুনহার বদলি হিসেবে দর্শকদের তুমুল করতালির মধ্যে ম্যাচের ৭৬ মিনিটে মাঠে প্রবেশ করলেন নেইমার জুনিয়র। ২০২৩ সালের শেষভাগের পর, অর্থাৎ দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামলেন ব্রাজিলের এই রেকর্ড গোলদাতা। নেইমার গোল না পেলেও তাঁর মাঠে ফেরাই ছিল সেলেসাও ভক্তদের জন্য এই জয়ের রাতে সবচেয়ে বড় পাওনা।
প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ ড্রয়ের পর ব্রাজিলিয়ানদের ওপর ২০০২ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ জেতার যে চাপ ছিল, তা থেকে ধীরে ধীরে দল বেরিয়ে আসছে বলে মনে করেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। হাইতি পর এই ম্যাচ একই স্কোরলাইনে শেষে নিজের দর্শন পরিষ্কার করে আনচেলত্তি সরাসরি বলেন, “আমরা আমাদের সেরা ফুটবলটা খেলার জন্যই কাজ করছি। তবে আমাদের লক্ষ্য কিন্তু সুন্দর ফুটবল খেলা নয়। আমরা জানি ভালো খেললে জেতাটা সহজ হয়, কিন্তু মূল উদ্দেশ্য হলো জয়। আমরা যদি বিশ্বকাপ জিতি, তবে আমরা ভালো খেলেছি। আর যদি বিশ্বকাপ জিততে না পারি, তার মানে আমরা অত্যন্ত বাজে খেলেছি।”
স্কটিশদের সব পরিকল্পনা ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই ভেস্তে যায় এক মারাত্মক ভুলে। স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাকেনা বক্সের ভেতর বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ১৯ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার হায়ানের গায়ে মারেন। বলের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে ভিনিসিয়ুস অত্যন্ত দ্রুততায় স্কটিশ কিপার অ্যাঙ্গাস গানকে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান। এই গোলের মাধ্যমে জাইরজিনিও (১৯৭০), রোমারিও (১৯৯৪), রোনালদো ও রিভালদোর (২০০২) পর ব্রাজিলের পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। ম্যাচ শেষে জয়ের অবদান নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে ভিনিসিয়ুস বলেন, “গোল পাওয়াটা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। তার চেয়েও বড় কথা হলো বড় ম্যাচগুলোতে অবদান রাখা, যা আমি আজ করতে পেরেছি। জাতীয় দলে আমার এমন অনেক সময় গেছে যখন আমি আমার আসল খেলাটা দেখাতে পারিনি, তবে আজ আমি নিজের খেলায় উন্নতি করতে পেরেছি।”
শুরুর লিডের কিছুক্ষণ পর জ্যাক হেনড্রিকে ফাউল করার অপরাধে ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে ভিনির আরেকটি গোল বাতিল করেন রেফারি, যা নিয়ে ডাগআউটে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আনচেলত্তি।
তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারেসের ডানপ্রান্ত থেকে বাড়ানো দারুণ এক ক্রসে স্কটিশ কিপার ও ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে কাছ থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ভিনিসিয়ুস। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর চতুর্থ গোল, যা তাকে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও হালান্ডের পাশে বসিয়েছে।
ম্যাচের ৬০ মিনিটে গিমারেসের রক্ষণচেরা পাস থেকে স্কটল্যান্ডের জালে শেষ বলটি জড়ান কুনহা। স্কোরলাইন সেখান হয় ৩-০। ম্যাচের শেষদিকে স্কট ম্যাকটমিনের দুটি দুর্দান্ত হেড লিভারপুল কিপার আলিসন বেকার দারুণ দক্ষতায় রুখে দিলে স্কটল্যান্ডের ফেরার সব আশা শেষ হয়ে যায় এবং সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে গ্রুপ সেরা ব্রাজিল।
Posted ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh