বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
গত ১৪ জুলাই মঙ্গলবার নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন এশিয়ান কমিউনিটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গোলটেবিল বৈঠকে সিটিতে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যার ওপর মতবিনিময় করেন। সিটি হলের রেডরুমে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে ডেপুটি লিডার সান্ড্রা উং, ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ার লিন্ডা লি, ওভারসাইট তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান শেখর কৃষ্ণান, বার্ধক্য কমিটির চেয়ার সুসান ঝুয়াং এবং কাউন্সিল সদস্য ফিল ওং উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নিউইয়র্ক সিটির ২০২৭ আর্থিক বছরের বাজেটে এশীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিনিয়োগ, ইমিগ্রান্টদের সহায়তা এবং আইনি পরিষেবা, এশিয়ান-আমেরিকান প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্সদের ওপর বিদ্বেষ ছড়ানোর বিরুদ্ধে লড়াই করা, সিটিবাসীদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, আবাসন সমস্যা দূর করার ব্যাপারে পদক্ষেপ আরও জোরদার করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

স্পিকার জুলি মেনিন বলেন, সিটি কাউন্সিল জননিরাপত্তা থেকে শিক্ষা পর্যন্ত সকল বিষয়ে নিউইয়র্কবাসীদের বক্তব্য জানতে আগ্রহী এবং এক্ষেত্রে এশিয়ান কমিউনিটি মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমার সহকর্মীরা জনসাধারণের কল্যাণে সিটি কাউন্সিলকে জোরালো ভূমিকায় দেখার আশা করেন। সিটির পাঁচটি বরো জুড়ে এশিয়ান আমেরিকান সম্প্রদায়ের সমস্যা সমাধানের পক্ষে কথা বলে তারা কাউন্সিলকে সহায়তা করেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য। স্পিকার মেনিন নিউইয়র্ক সিটিকে নিরাপদ এবং আরও সাশ্রয়ী করতে, ছোট ব্যবসার বিকাশে সহায়তা করতে, শিক্ষার সুযোগ সম্প্র্রসারিত করতে এবং আবাসন সংকট মোকাবিলায় কাউন্সিলের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
মেনিন জানান, ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে ইয়র্কসিটির এশিয়ান কমিউনিটি, বিশেষ করে এশিয়ান আমেরিকান প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্স কমিউনিটি অন্তর্ভূক্ত, যাদের সহায়তা উদ্যোগের জন্য প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলার, এশিয়ান আমেরিকান শিক্ষা প্রকল্পের জন্য প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার, কিউনিন এশিয়ান ও এশিয়ান-আমেরিকান গবেষণা ইনস্টিটিউটের জন্য প্রায় ১ মিলিয়ন, এশিয়ান আমেরিকান প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্স কমিউনিটির জন্য আইনি সহায়তা হিসেবে ২ মিলিয়ন ডলারের বেশি এবং কমিউনিটি সাপোর্ট ইনিশিয়েটিভের জন্য প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যা যুব কর্মসূচি, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিকভাবে উপযুক্ত পরিষেবা সহ বিভিন্ন কার্যক্রমের সুযোগ সৃষ্টি করবে। তিনি আরও বলেন, সিটির পাবলিক স্কুলগুলোর জন্য এশিয়ান আমেরিকান প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্স স্টাডিজ পাঠ্যক্রম তৈরি করছে এমন ‘এশিয়ান আমেরিকান এডুকেশন প্রজেক্ট’ এর জন্য প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার এবং এশিয়ান আমেরিকান ইতিহাস ও বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান প্রসারের লক্ষ্যে কিউনির ‘এশিয়ান আমেরিকান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের’ জন্য প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া এশিয়ান আমেরিকান প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্স অভিবাসীদের জন্য সাংস্কৃতিকভাবে উপযুক্ত ও ভাষাগতভাবে সহজলভ্য আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য ২ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বরাদ্দ থাকবে।
অভিবাসী সহায়তার জন্য নিউইয়র্ক সিটির সার্ভিস ও বিভিন্ন ভাষায় তথ্য সেবা দিতে নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের সাথে চলমান অংশীদারিত্ব নিউইয়র্ক সিটি কমিউনিটি ইন্টারপ্রেটার ব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য প্রায় ১.৮ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। অভিবাসন আইনি সেবা দানকারীদের সহায়তা করতে ৮৬.৪ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল তহবিল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগও রয়েছে বলে স্পিকান মেনিন জানান।
তিনি জানান, এশিয়ান আমেরিকান প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্স সিটিতে বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ১.২ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে, যা বিদ্বেষমূলক অপরাধ প্রতিরোধ ও তা মোকাবিলায় কমিউনিটি-ভিত্তিক কাজকে সহায়তা করতে সিটির বিভিন্ন নেইবারহুডে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের কোয়ালিশনের মাধ্যমে এ উদ্যোগের সমন্বয় করা হবে।
এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে: এশিয়ান আমেরিকানস ফর ইকুয়েলিটি, এশিয়ান আমেরিকান ফেডারেশন এবং কোরিয়ান আমেরিকান ফ্যামিলি সার্ভিস সেন্টার ইত্যঅদি। তিনি বলেন, সিটিবাসীর যাতায়াতে গণপরিবহনে ন্যায্য ভাড়া ব্যবস্থা রক্ষা করার যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ লাখ নিউইয়র্কবাসী সাবওয়ে, বাস ও প্যারা-ট্রানজিট সার্ভিসে যাত্রীরা অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন। শিশু বিকাশের কর্মসূচি প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ‘এনওয়াইসি কিডস রাইজ প্রোগ্রাম’ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পাবলিক স্কুলের কিন্ডারগার্টেনের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি কলেজ সেভিংস অ্যাকাউন্টে ১,০০০ ডলার প্রদান করা হবে।
স্পিকার মেনিন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীগুলোর মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ঢেলে সাজানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন যে বিভিন্ন দোকানে গ্রাহকের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন মূল্য আদায় এবং যখন তখন মূল্য বৃদ্ধির ঘটনা প্রতিরোধের মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা ও জনশক্তি উন্নয়নে ৩৩ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করা হচ্ছে। অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে সার্ভিস সহজ করা, অপ্রয়োজনীয় জরিমানা ও ফি বাতিল করে প্রবৃদ্ধি সহায়তা করার কথাও তিনি বলেন। আবাসন সম্পর্কে স্পিকার মেনিন বলেন, সিটির পাঁচ বরোতে প্রায় ৩,০০০ ছোট, খালি বা অব্যবহৃত প্লটে ৩৫,০০০ পর্যন্ত আবাসন ইউনিট নির্মাণের লক্ষ্যে পুরোনো নির্মাণ বিধিমালা সংস্কার করা হচ্ছে।
Posted ২:২০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh