বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের লাখো প্রবীণের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। বিভিন্ন সংস্থার পূর্বাভাস বলছে, ২০২৭ সালে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাসিক ভাতা গড়ে প্রায় ৭৭ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দেয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।দ্য সিনিয়র সিটিজেন্স লিগ-এর সর্বশেষ প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, আগামী বছর ভাতা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে অবসরপ্রাপ্তদের গড় মাসিক ভাতা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ১০৩ ডলারে পৌঁছাবে।
অন্যদিকে এএআরপি এবং স্বাধীন বিশ্লেষক মেরি জনসন যথাক্রমে ৩ দশমিক ৬ ও ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলেছেন।তবে এই সম্ভাব্য বৃদ্ধির পরও গড় মাসিক ভাতা প্রবীণদের আনুমানিক ২ হাজার ৭০০ ডলারের জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ৫৯৭ ডলার কম থাকবে। ফলে অনেক প্রবীণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামাল দেয়া এখনও কঠিনই থেকে যাবে।
বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার বার্ষিক সমন্বয় নির্ধারণ করা হয় জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় পদ্ধতিতে। এ জন্য সিটির মজুরিভিত্তিক কর্মীদের মূল্যসূচক ব্যবহার করা হয়। প্রতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতির গড় হিসাব করে পরের বছরের জানুয়ারি থেকে নতুন ভাতা কার্যকর করা হয়। কিন্তু এই পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন প্রবীণ অধিকারকর্মীরা। তাদের যুক্তি, কর্মজীবী মানুষের ব্যয়ের ধরন আর প্রবীণদের ব্যয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। প্রবীণদের চিকিৎসা ও আবাসন ব্যয় বেশি হলেও পোশাক বা যাতায়াতে তুলনামূলক কম খরচ হয়। ফলে বর্তমান হিসাব তাদের প্রকৃত আর্থিক চাপের প্রতিফলন ঘটায় না।
এই কারণে দ্য সিনিয়র সিটিজেন্স লিগ প্রবীণদের জন্য আলাদা মূল্যসূচক ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে। তাদের প্রস্তাবিত সূচকটি প্রবীণদের প্রকৃত ব্যয়ের অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
এএআরপি-এর আর্থিক নিরাপত্তাবিষয়ক সহ-সভাপতি রিচ জনসন বলেন, এই সূচক ব্যবহার করা হলে ১৯৮৬ সালের পর থেকে অধিকাংশ বছরেই সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার বৃদ্ধি আরো বেশি হতো। তার হিসাব অনুযায়ী, সেই পদ্ধতি চালু থাকলে ২০২৫ সালে একজন গ্রহীতার মাসিক ভাতা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৮ দশমিক ১ শতাংশ বেশি হতে পারতো।তবে নতুন সূচক নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকায় এর পরিসংখ্যানগত নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস-এর মতে, এই সূচকে আবাসন ব্যয়ের যে হিসাব ধরা হয়েছে, তা অনেক প্রবীণের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। কারণ অনেকেই অবসরের আগেই নিজেদের বাড়ির ঋণ পরিশোধ করে ফেলেন। তবুও প্রবীণদের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ভাতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন দ্য সিনিয়র সিটিজেন্স লিগ-এর নির্বাহী পরিচালক শ্যানন বেন্টন।তিনি সতর্ক করে বলেন, অর্থের অভাবে অর্ধেকের বেশি প্রবীণ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া কমিয়ে দিচ্ছেন বা বন্ধ করে দিচ্ছেন। তার মতে, এই পরিস্থিতি শুধু প্রবীণদের জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
Posted ৩:৪৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh