বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে বিএনপি নেতারা অন্তহীন প্রতারণার দলিল বলায় সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপিই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। গণভোটের চারটি প্রশ্ন জনগণ বুঝবে না– এমন দাবি করা হলে বিএনপির ৩১ দফাও জনগণ বোঝেনি বলেই ধরে নিতে হয়। এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে জনগণকে মূর্খ বলা হয়েছে।
গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ৮ জুলাই (বুধবার) ঢাকার কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সেমিনারে এসব কথা বলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা।
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল ড. (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে সেমিনারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নতুন হোক বা পুরোনো–কোনো ফ্যাসিবাদই আমরা মেনে নেব না। গণভোটের রায়ের অবমাননা সহ্য করব না, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সেই রায় বাস্তবায়নের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। বক্তৃতা করেন মানবাধিকার কর্মী রুবি আমাতুল্লাহ, সাবেক রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, জুলাই শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, আহত জুলাই যোদ্ধা কামরুল আহসান প্রমুখ।
জুলাই যোদ্ধাদের অবমাননা না করার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলের নেতা বলেন, ‘কেউ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে জুলাইকে অপমানের চেষ্টা করলে জনগণই তার জবাব দেবে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ১১ দলকে ‘হারানোর ষড়যন্ত্রে’ অন্তর্বর্তী সরকার জড়িত ছিল অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেছেন, যাদের পরিচয় ছিল দল নিরপেক্ষ, তারাও এই ষড়যন্ত্রে শরিক ছিল। নির্বাচনের রায় আমরা মেনে নিয়েছিলাম। কারণ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করলে, দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে এর শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো কেউ জানে না। ১১ দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংস্কারের প্রশ্নে অবস্থান স্পষ্ট। মৌলিক পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নেওয়া হবে না।
প্রধনামন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে কর্নেল অলি বলেন, আপনার সরকার এ পর্যন্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যেগুলোর প্রতি আমরা সমর্থন জানিয়েছি। ভারতীয় গণমাধ্যমে এ নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। চারদিকে শত্রু পরিবেষ্টিত অবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আমরা যদি আপনার সমালোচনা করি, তা প্রকাশ্যেই করি। কিন্তু আপনার আশপাশে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন, যারা প্রকাশ্যে নয়, গোপনে আপনার এবং দেশের ক্ষতি করছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, বিএনপি জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে মূল রাজনৈতিক ধারার বাইরে ঠেলে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। অতীতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু আন্দোলনের পর ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি অনেক প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বারবার আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এবার তাই তাদের ওপর নির্ভর নয়, নিজস্ব রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে তুলছি। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি ৩১ দফায় জনগণকে আশ্বস্ত করেছিল, তারা শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্র ব্যবস্থারও মৌলিক সংস্কার চায়। কিন্তু মুখে তারা সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিরোধিতা করেছে।
Posted ১২:৩০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh