নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্ক অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশের বেশ কজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনার পাশাপাশি ২৫০ জন সিনিয়র সিটিজেনকে বিশেষ সম্মাননা জানালো ‘অ্যল কাউন্টি সোস্যাল এডাল্ট ডে কেয়ার’। এ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা হাতে প্রবাস প্রজন্মের উচ্ছ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে প্রবাসীদের আমেজকে ভিন্ন এক মাত্রায় উন্নীত করেছিল। আর এ সম্মাননার পর্বটি সম্পন্ন হয় নিউইয়র্ক সিটির পাশে প্রবাহিত ইস্ট রিভার ও হাডসন নদীতে ‘বিনোদন জাহাজ’-এ। কুইন্সের করোনায় অবস্থিত ‘ওয়ার্ল্ডফেয়ার ম্যারিনা’ পার্টি হল সংলগ্ন ঘাট থেকে জাহাজটি ছাড়ার প্রাক্কালে সকলকে স্বাগত জানান আয়োজক সংস্থার প্রেসিডেন্ট ও সিইও মোহাম্মদ কাদের সিআইপি। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সকলকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন তিনি।মোহাম্মদ কাদের সিআইপিকে পাশে নিয়ে নিউইয়র্ক স্টেট এ্যাসেম্বলীম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিনের কম্যুনিটি লিঁয়াজো নীল ত্রিবেদি প্রবাসী বাংলাদেশীদের কর্মনিষ্ঠার প্রশংসা করেন এবং আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের ক্ষেত্রে এই দেশটির রাজনীতি ও প্রশাসনের সাথে আরো জোরালো সম্পর্ক রচনার তাগিদ দেন।

সেই পথটি সুগম করতে ‘অ্যল কাউন্টি হোমকেয়ার গ্রুপ’র এই শাখাটি অপরিসীম ভ’মিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে একাকার বেলুন উড়িয়ে স্বাধীনতা দিবসের এই কর্মসূচির শুভ সূচনা ঘটানো হয় কয়েকজন সিনিয়র সিটিজেনের মাধ্যমে। এ সময় সেখানে ছিলেন ‘অ্যল কাউন্টি হোমকেয়ার গ্রুপ’র চেয়ারম্যান সিফা আমিনসহ কম্যুনিটির বিশিষ্টজনেরা। এরপর সকলে তিন তলাবিশিষ্ট স্কাইলাইন প্রিন্সেস-এ আসন গ্রহণ করেন। প্রিয়-পরিচিতজনেরা আড্ডায় মেতে উঠেন। শুরু হয় স্বাধীনতা দিবসের আমেজে গান। জনপ্রিয় শিল্পী রিজিয়া পারভিন, নাজু আকন্দ এবং কামরুজ্জামান বকুল বাঙালি স্টাইলে নেচে-গেয়ে আমেরিকার স্বাধীনতার জয়গান উচ্চারণ করেন।
এমনি অবস্থায় অ্যল কাউন্টি হেল্্থ কেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং গ্রুপটির সহযোগী মিডিয়া ‘বাংলা গেজেট’র প্রকাশক সিফা আমিনকে পাশে নিয়ে মোহাম্মদ কাদের সিআইপি উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণকে সম্মাননা-স্মারক প্রদান করেন। মোহাম্মদ কাদের এ সময় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার জন্যে যুদ্ধ করা কেউই বেঁচে নেই, তাই আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসমসাহসী ভ’মিকা পালনকারিগণের মধ্যে যারা এই নিউইয়র্ক অঞ্চলে বাস করছেন, সেই গর্বিত সন্তানদের সম্মান জানানোর মধ্যদিয়ে স্বাধীনতার গৌরব-গাথা অধ্যায়ের রুমন্থন করার চেষ্টা করছি। মুক্তিযোদ্ধাগণের মধ্যে ছিলেন কন্ঠশিল্পী রথন্দ্রিনাথ রায়, সম্পাদক-সাংবাদিক লাবলু আনসার, এই সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসান, চিত্র নির্মাতা ও পরিচালক আবুল বাশার চুন্নু, আব্দুস সাদেক, শহিদুল ইসলাম, শওকত আকবর রীচি, মো, নাজিমউদ্দিন, মোহাম্মদ জালালউদ্দিন সরকার, প্রাণ গবিন্দ কুন্ডু, মো, জাহিদ হোসেন, মোহাম্মদ এ কাদির প্রমুখ। এ সময় একাত্তরের স্মৃতিচারণ শেষে বীর বাঙালিদের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করতে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের গান ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে’ পরিবেশন করেন রথীন্দ্রনাথ রায়। উল্লেখ্য, এই সংস্থাটির মেডিকেল ট্রেনিং স্কুল রয়েছে, যেখানে ৮৩ ঘন্টার একটি কোর্স (এইএইচএ-হোম হেল্থ এইড)সম্পন্ন করলে স্বাস্থ্যসেবায় উচ্চ বেতনে চাকরি জুটে যাচ্ছে। এ ধরনের একটি কোর্স (এইচএইচএ) সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করা ৪৫ বাংলাদেশীর মধ্যে ২ জুলাই বর্ণাঢ্য এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সার্টিফিকেট বিতরণ করার ধারাবাহিকতায় এই নৌ-ভ্রমণের কর্মসূচিটি সমগ্র কম্যুনিটিতে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।
Posted ১:৫২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3082 বার পঠিত)
(2507 বার পঠিত)