বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের ফ্রেশ মেডোজে অবস্থিত আল-মামুর স্কুল গর্বের সঙ্গে স্কুলের গ্রেড ৮ ও গ্রেড ১২-এর স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠান উদযাপন করেছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত উৎকর্ষ, নেতৃত্বের গুণাবলী, ইসলামী চরিত্র এবং উল্লেখযোগ্য অর্জনকে সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে এমন শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যাদের নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং ঈমান তাদেরকে সমাজ ও বিশ্বের জন্য অর্থবহ অবদান রাখার উপযুক্ত করে তুলেছে। গ্রেড ৮-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিশিষ্ট নাগরিক অধিকার ও নির্বাচন আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট আলি নাজমি অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি তাঁকে মেয়রের বিচার বিভাগীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান নিয়োগ করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তিনি নিউইয়র্ক সিটির ফ্যামিলি কোর্ট, সিভিল কোর্ট এবং অন্তর্বর্তীকালীন ক্রিমিনাল কোর্টের বিচারক নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের মূল্যায়ন ও সুপারিশকারী কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং জনআস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জনাব নাজমি শিক্ষার্থীদের সততা বজায় রেখে উৎকর্ষ বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি তাঁদের নিজস্ব মূল্যবোধে অটল থাকতে এবং সমাজের সেবায় শিক্ষা ও যোগ্যতাকে সহমর্মিতা ও উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে আল-মামুর স্কুল বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক সামি-উর-রব-ও শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি গ্রেড ৮-এর শিক্ষার্থীদের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানান এবং উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রবেশের পরও উৎকর্ষ সাধনের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে সাফল্যের ভিত্তি হলো কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং দৃঢ় নৈতিক মূল্যবোধ। গ্রেড ১২-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন কেভিন শাকিল, টেকবাইটস ইনস্যুরেন্স ব্রোকারেজ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং আমেরিকাস মুসলিম নেটওয়ার্ক এর প্রতিষ্ঠাতা। একজন উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি নেতা হিসেবে তিনি নিউইয়র্ক জুড়ে মুসলিম পেশাজীবী, নাগরিক নেতা এবং সমাজ পরিবর্তনকারীদের সংযুক্ত ও স্বীকৃতি দেওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন। তাঁর নেতৃত্বে কমিউনিটি সম্পৃক্ততা, পেশাগত উন্নয়ন এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম নতুন মাত্রা লাভ করেছে। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উৎকর্ষ অর্জন, ঈমানে অটল থাকা এবং নিজেদের প্রতিভা সমাজ ও মানবতার কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আল-মামুর স্কুল বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মহসিন পাটওয়ারী। তিনি জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং চারটি স্টুডেন্ট রিসার্চ সাপোর্ট প্রোগ্রামের পরিচালক। তিনি নিউইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির মেডগার এভার্স কলেজে ১৫ বছর বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষাপ্রশাসন, পেশাগত ও সামাজিক নেতৃত্বে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বহু সম্মাননা ও পুরস্কার লাভ করেছেন। ড. পাটওয়ারী অতীতে আল-মামুর স্কুলের পরিচালক এবং জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একজন ফুলব্রাইট সিনিয়র স্পেশালিস্ট পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ এবং একাধিকবার জেএমসি নির্বাচন কমিশন, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ নির্বাচন কমিটি এবং সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি গ্র্যাজুয়েটদের অসাধারণ সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং আল-মামুর স্কুলে অর্জিত মূল্যবোধ ও আদর্শকে ধারণ করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধনের আহ্বান জানান। তিনি নতুন গ্রাজুয়েটদের স্মরণ করিয়ে দেন যে তারা তাদের বিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্বাসের প্রতিনিধি এবং উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনে তারা আরও সাফল্য অর্জন করবে বলে তাঁর দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করেন। ২০২৬ সালের ব্যাচ আল-মামুর স্কুলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা গ্র্যাজুয়েট ব্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ব্যাচ শিক্ষাগত উৎকর্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। এই ব্যাচের সর্বোচ্চ একাডেমিক সম্মান ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হিসেবে অর্জন করেছে সাফিয়া সারতাজ। তাঁর অসাধারণ ফলাফল ও অধ্যবসায় তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। সহ-স্যালুটেটোরিয়ান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন জেসশান আহমেদ এবং জান্নাতুল ইসলাম, যারা তাঁদের পুরো শিক্ষাজীবনে অসামান্য সাফল্য ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন।

২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েটদের উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে: একজন ন্যাশনাল মেরিট স্কলারশিপ ফাইনালিস্ট, যিনি দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থান অর্জন করেছেন। প্রায় পূর্ণ নম্বরপ্রাপ্ত একজন SAT পরীক্ষার্থী, যা তাঁর অসাধারণ শিক্ষাগত সক্ষমতার প্রমাণ। একাধিক শিক্ষার্থী মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ (Full-Ride) বৃত্তি অর্জন করেছে। একজন শিক্ষার্থী অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সাত বছর মেয়াদি Sophie Davis Biomedical Education Program-এ ভর্তি হয়েছে, যা তাকে চিকিৎসক হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আরেকজন শিক্ষার্থী St. John’s University-এর সাত বছর মেয়াদি Doctor of Osteopathic Medicine (D.O.) Program-এ ভর্তি হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী নার্সিং বিষয়ে ব্যাচেলর অব সায়েন্স (B.S.) ডিগ্রির জন্য পূর্ণ বৃত্তি লাভ করেছে। একাধিক শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআনের হাফিজ, যারা কঠোর একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করার কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
গ্রেড ৫ এবং কিন্ডারগার্টেন সমাপনী অনুষ্ঠানঃ গ্রেড ৫ এবং কিন্ডারগার্টেনের সমাপনী অনুষ্ঠান পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্ডারগার্টেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আল-মামুর বোর্ডের অর্থ পরিচালক জনাব মোহাম্মদ সিদ্দিকী, CPA, এবং গ্রেড ৫-এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যাপক ড. মহসিন পাটওয়ারী।
শিক্ষাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি আল-মামুর স্কুল তার শক্তিশালী আরবি ভাষা ও ইসলামী শিক্ষা কর্মসূচির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। শিক্ষার্থীরা আরবি ভাষায় পড়তে ও লিখতে সক্ষম হয়ে বিদ্যালয় থেকে বের হয়, যা তাদের ভাষাগত দক্ষতার পাশাপাশি কুরআন ও ইসলামী ঐতিহ্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে। অনুষ্ঠানের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল একজন গ্র্যাজুয়েটের সম্পূর্ণ আরবি ভাষায় রচিত ও উপস্থাপিত মৌলিক কবিতা, যা বিদ্যালয়ের ভাষা শিক্ষার উৎকর্ষ এবং শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসের অনন্য উদাহরণ। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. আতিয়া পাশা গ্র্যাজুয়েট এবং তাঁদের পরিবারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন: “২০২৬ সালের গ্রাজুয়েটরা আল-মামুর স্কুলের মূল লক্ষ্য ও আদর্শের প্রতিফলন-যেখানে শিক্ষার্থীরা একদিকে একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জন করে, অন্যদিকে ইসলামী ঈমান ও মূল্যবোধে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকে। তাঁদের সাফল্য বহু বছরের কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও নিষ্ঠার ফল। আমরা গর্বিত যে আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও পেশাগত কর্মসূচিতে ভর্তি হচ্ছে এবং একই সঙ্গে নেতৃত্ব, সেবা ও উৎকর্ষের আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন তাঁদের প্রত্যেককে অব্যাহত সাফল্য দান করেন এবং উম্মাহ ও সমগ্র মানবসমাজের জন্য কল্যাণের উৎস হিসেবে কবুল করেন।”
সমাপনী অনুষ্ঠানগুলো শুধু শিক্ষাগত অর্জনের উদযাপনই নয়, বরং ঈমান ও শিক্ষার সফল সমন্বয়েরও প্রতীক। নতুন শিক্ষাজীবনের পথে যাত্রা শুরু করার সময় আল-মামুর স্কুলের গ্র্যাজুয়েটরা শুধু জ্ঞান অর্জন করেই বিদায় নিচ্ছে না; তারা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে মূল্যবোধ, চরিত্র, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সমাজের ভবিষ্যৎ চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষক, পেশাজীবী ও কমিউনিটি নেতা হিসেবে গড়ে ওঠার প্রয়োজনীয় দক্ষতা। আল-মামুর স্কুল ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েটদের আন্তরিক অভিনন্দন জানায় এবং নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকবৃন্দ, সহায়ক অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদ এবং উদার কমিউনিটি সদস্যদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, যাদের সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব এই সাফল্যকে সম্ভব করেছে।
আল-মামুর স্কুল সম্পর্কে : নিউইয়র্কের কুইন্সের ফ্রেশ মেডোজে অবস্থিত আল-মামুর স্কুল একাডেমিক উৎকর্ষের সঙ্গে ইসলামী মূল্যবোধের সমন্বয়ে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কঠোর পাঠ্যক্রম, চরিত্র গঠন, আরবি ভাষা শিক্ষা এবং কুরআনিক অধ্যয়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী, সহানুভূতিশীল ও সফল পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলে, যারা সমাজ ও বিশ্বে ইতিবাচক অবদান রাখতে সক্ষম।
Posted ২:০৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3082 বার পঠিত)
(2507 বার পঠিত)