সোমবার ১ মার্চ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
কম্যুনিটিতে বনভোজন উৎসব আয়োজন নেই

মিলিয়ন ডলার আয় বঞ্চিত রেস্টুরেন্ট পার্টি হল

বাংলাদেশ রিপোর্ট :   |   বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২০

মিলিয়ন ডলার আয় বঞ্চিত রেস্টুরেন্ট পার্টি হল

করোনার কারণে গ্রীষ্মে বনভোজন ও অন্যান্য উৎসব আয়োজন নেই কোথাও। সম্প্রতি পারিবারিক ছোটখাট সমাবেশ হচ্ছে। তাতেও রয়েছে ঝুঁকি। ফলে কম্যুনিটির রেস্টুরেন্ট ও পাটিহলগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আর্থিকভাবে। মাথায় হাত পড়েছে এসব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিকদের। করোনা মহামারি সত্যিকারার্থে গ্রাস করেছে সবকিছু। গোটা যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে এবার নিরুত্তাপ গ্রীষ্ম। কোথাও নেই উৎসব আয়োজন। নিউইয়র্কের বাংলাদেশী কম্যুনিটিও পড়েছে ভয়াবহ এ মন্দার কবলে। দীর্ঘ লক ডাউন শেষে পুনরায় কিছু ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান খুলেছে। কিন্তু তাতে ফিরেনি স্বাভাবিক জীবন ধারা। করোনাকালে নীরবে কেটেছে রমজান মাস। নির্জিব নিরানন্দ ছিলো ঈদুল ফিতর। এমনকি ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ার সুযোগ পর্যন্ত মিলেনি। আশা ছিলো করোনার প্রার্দুভাব কমবে। গ্রীষ্মে জেগে উঠবে কম্যুনিটি। কিছুটা হলেও ফিরে আসবে প্রাণ চাঞ্চল্য। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা-আতঙ্ক এখনো কাটেনি। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে আরো অনেকটা সময়। আর এসব কারণেই স্থবির হয়ে পড়েছে সবকিছু।

ফি বছর গ্রীষ্মের এ সময় বিশেষ করে জুন থেকে অক্টোবর প্রাণবন্ত হয়ে উঠে নিউইয়র্ক। বাংলাদেশী কম্যুনিটিতে ধূম পড়ে বনভোজন, পথমেলা, সাংগঠনিক কর্মকান্ড, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানাদির। বনভোজন বাংলাদেশী কম্যুনিটির একটি অপরিহার্য অনুসঙ্গ। সামাজিক সাংস্কৃতিক, আঞ্চলিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সাংবাৎসরিক একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে বনভোজন। নিউইয়র্কের অন্য কোন জাতি গোষ্ঠির মানুষের মাঝে বনভোজন নিয়ে এ ধরণের মাতামাতি নেই। নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কম্যুনিটির প্রায় দু’শতাধিক সংগঠন এই মৌসুমে আয়োজন করে বনভোজন। এক বছর আগেই নিউইয়র্ক এবং এর আশেপাশের রাজ্যের পার্কগুলোতে বুকিং দিয়ে রাখে। প্রতি সপ্তাহান্তে চলে বনভোজন আয়োজন। গত বছর একদিনে সর্বোচ্চ ১৭টি বনভোজনের খবর পাওয়া গেছে কম্যুনিটিতে। অনেক বড় সংগঠনে সহস্রাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। সে এক এলাহী কান্ড। নিজেদের গাড়ি ছাড়াও বাস ভাড়া করা হয় বনভোজনস্থলে যাতায়াতের জন্য। নাস্তা, দুপুরের খাবার, বিকেলে চলে চা চক্র। এর ফাঁকে খেলাধূলা, গানবাজনা, ধূম পড়ে আড্ডার। দেখা সাক্ষাত হয় অনেকের সাথে। আবার বনভোজনকে কেন্দ্র করে সংগঠনের বিভক্তির নজিরও আছে অনেক।

বনভোজন মৌসুমে আয়ের উৎস বেড়ে যায় স্থানীয় বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টগুলোর। বনভোজনে সবচেয়ে বড় পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয় খাবারের জন্য। জ্যামাইকা, জ্যাকসন হাইটস, ব্রুকলীন, ব্রঙ্কস, ওজোনপার্ক, এস্টোরিয়া সহ বিভিন্ন এলাকার কমপক্ষে ২০টি বড় মাপের বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট বনভোজন স্থলে খাবার সরবরাহ করে থাকে। গড়ে কোন খাবারের ম্যানুই এখন ১০ ডলারের কম হয়না। সরবরাহকৃত এ খাবারের মূল্য সবমিলিয়ে অর্ধমিলিয়ন ডলারের অধিক বলে জানান জ্যামাইকার এক রেস্টুরেন্ট মালিক। এবার গ্রীষ্মে বনভোজনের আয়োজন না থাকায় তারা বড় ধরণের লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে জানান এই রেস্টুরেন্ট মালিক। এছাড়া রেস্টুরেন্টের ভেতরে বসে খাওয়ার সার্ভিস চালু না হওয়ায় তাদেরকে গুনতে হচ্ছে দ্বিমুখী লোকসান। আবার অনেক রেস্টুরেন্টে রয়েছে ছোট-খাট অনুষ্ঠানাদি আয়োজনের ব্যবস্থা। সারা বছরই এ ব্যবসায় চলে। মার্চ মাস থেকে সে সুযোগও নষ্ট হয়ে গেছে। বনভোজন ছাড়াও গ্রীষ্মে অনেক প্রাইভেট পার্টিতে ভালো রেস্টুরেন্টগুলো ক্যাটারিং করে থাকে। করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসার ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ-উৎকক্তায় আছেন অনেক রেস্টুরেন্ট মালিক। মাস শেষে মোটা অংকের ভাড়া গুণতে হচ্ছে। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে ব্যবসায় ধরে রাখা যাবে না এমন মন্তব্য তাদের।

অপরদিকে কম্যুনিটির বড় ছোট পার্টি হল গুলো বন্ধ হয়ে গেছে লক ডাউনের শুরুতেই। আগে থেকে বুকিং দেয়া ছিলো এমন সব উৎসব আয়োজন বাতিল হয়ে গেছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। মানুষ সবধরণের উৎসব আয়োজনের জন্য গ্রীষ্মের এসময়টাই বেছে নেয় বরাবর। করোনার কারণে বিয়ে, গায়ে হলুদ, জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী, সংবর্ধনা, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী, সভা সমাবেশ সহ থেমে গেছে সবধরণের উৎসব আয়োজন। এসব অনুষ্ঠান আবার কবে কখন শুরু হবে জানেন না কেউ। পার্টি হলের কর্মচারীদের এখন কোন কাজ নেই। তাছাড়া পার্টি হলগুলোর মোটা অংকের ভাড়া পরিশোধ করতে পারছেন না মালিকরা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ফেডারেল সরকার ঋণ সুবিধা দিলেও অনেক প্রতিষ্ঠান কাজে লাগাতে পারেনি সে সুযোগ। ফলে রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি পার্টি হলগুলোও পড়েছে মুখ থুবড়ে। গ্রীষ্মে প্রায় প্রতিটি পার্টি হল জমজমাট থাকতো সপ্তাহান্তে। অনেক সময় বুকিং পাওয়ার বিষয়টি ছিলো কঠিন। পার্টি হলগুলোই শুধু নয় প্রতিটি অনুষ্ঠানের সাথেই জড়িয়ে আছে সাউন্ড সিস্টেম, স্থানীয় পেশাদার কক্তশিল্পী, মিউজিশিয়ান সহ নানা পেশার মানুষজন। অনুষ্ঠান না থাকায় সবাই এখন বেকার। সবকিছু মিলিয়ে পার্টি হলগুলো গ্রীষ্মে যে পরিমাণ আয় করতো তা দিয়ে বছরের বাকিটা সময় পুষিয়ে নিতো বলে জানান জ্যাকসন হাইটস এলাকার একটি পার্টি হলের মালিক। বড়ধরণের এ লোকসান কাটিয়ে উঠে অদূর ভবিষ্যতে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবেন বলে মনে করছেন না তিনি। আবার অনেক রেস্টুরেন্ট ও পার্টি হল আছে যারা সিটির বড় বড় হোটেলগুলোতে উৎসব আয়োজনে ক্যাটারিং করে থাকে। এটাও ছিলো বড় ধরণের একটি আয়ের উৎস। সবকিছু মিলিয়ে রেস্টুরেন্ট ও পার্টিহল গুলো আয় বঞ্চিত হচ্ছে মিলিয়ন ডলারের অধিক অর্থ।

এবার গ্রীষ্মে পথ হারিয়েছে নিউইয়র্কের পথমেলা। বিগত এক যুগ ধরে গ্রীষ্মে সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পথমেলার হিড়িক পড়তো। বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি বিশেষ পথমেলাকে বাৎসরিক লাভজনক পেশা হিসেবে বেছে নেন। এবার তাদের মাথায় হাত পড়েছে। এসব মেলায় ওপেন কনসার্টে দেশ ও প্রবাসের শিল্পীদের পরিবেশনার ছিলো ছড়াছড়ি। সাধারণ প্রবাসীরা এসব আনন্দ উপভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পথমেলায় যারা বিভিন্ন ধরণের পসরা নিয়ে বসতেন তাদের বাড়তি আয় রোজগার করার সুযোগও গেছে নষ্ট হয়ে।

 

Facebook Comments

Posted ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২০

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

85-59 168 Street, Jamaica, NY 11432

Tel: 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: weeklybangladesh@yahoo.com

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.