নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
বাংলাদেশ সোসইটি
যথাযোগ্য মর্যাদায় অমর একুশে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে প্রবাসের বিভিন্ন সংগঠন। এ উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ, নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মহান একুশের তাৎপর্য ও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষায় পরিণত করার দাবিতে যারা শাহাদত বরণ করেছেন তাদের অবদান ও মহান একুশে ফ্রেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পরিণত করার তাৎপর্য তুলে ধরার জন্য আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শহীদদের রুহের মাগফিরাতের জন্য মিলাদ মাহফিল ও দোয়া করা হয়।

বাংলাদেশ সোসাইটি
বাংলাদেশিদের আমব্রেলা সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্ক’র উদ্যোগে প্রবাসে জন্ম ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও বাংলা সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানমালা ২০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও এবং আজকাল সম্পাদক শাহনেওয়াজ। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন ল্যু।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সোসাইটির বাংলা স্কুলের ছাত্রছাত্রীসহ প্রবাসের নতুন প্রজন্ম ও শিল্পীদের অসাধারণ হৃদয়গ্রাহী পরিবেশনা উপস্থিত সকলের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলো প্রথমবারের মতো ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান। বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত বক্সার জিনাত ফেরদৌসকে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হুদাসহ অতিথি আর সোসাইটির কর্মকর্তারা তার হাতে অ্যাওয়ার্ডটি তুলে দেন। বিকেল ৫টার দিকে শিশু কিশোর-কিশোরীদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সোসাইটির একুশের অনুষ্ঠান শুরু হয়। সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমের নেতৃত্বে সোসাইটির কর্মকর্তা ও উপস্থিত অতিথিরা এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। প্রতিযোগিতার পুরষ্কার পরবর্তীতে সোসাইটি অফিসে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে বিতরণ করা হবে বলে অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেয়া হয়। তবে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মেডেল পরিয়ে দেন অতিথি জন ল্যু। পরবর্তীতে রাত ৮টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে একুশের অনুষ্ঠান শুরু হয়।

বিভিন্ন ধর্মগ্রস্থ থেকে পাঠের পর ভাষা শহীদ সহ মহান মুক্তিযুদ্ধেও সকল শহীদ এবং সোসাইটির প্রয়াত সাবেক কর্মকর্তা ও প্রয়াত প্রবাসীদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত করেন সোসাইটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক জামিল আনসারী। এরপর ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালনের পর বেহালায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানমালায় আরো ছিল নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংক্ষিপ্ত আলোচনা এবং রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। অতিথি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন দেওয়ান। বিভিন্ন পর্ব পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, একুশে উদযাপন কমিটির আহবায়ক মহিউদ্দিন দেওয়ান, প্রধান সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়াদী, সদস্য সচিব ডিউক খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ ও সাহিত্য সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান জিলানী।
একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন উপলক্ষে ‘অক্ষর’ নামে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। এই প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হুদা। এসময় বিশেষ অতিথি শাহনেওয়াজ, সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীসহ সোসাইটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুর রহিম হাওলাদার, সাবেক সহ-সভাপতি আজহারুল হক মিলন, সাবেক সহ-সভাপতি ফারুক হোসেন মজুমদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম ও রুহুল আমীন সিদ্দিকীসহ বর্তমান এবং সাবেক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংস্কৃতিক পর্বে প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী চন্দন চৌধুরী, শাহ মাহবুব, কামরুজ্জামান বকুল, করিম হাওলাদার, মরিয়ম মারিয়া প্রমুখ সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এছাড়াও জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী প্রিয়া ডায়েস ও তার দল এবং নৃত্যাঞ্জলির শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন। বাংলাদেশ সোসাইটির একুশের অনুষ্ঠানে শতাধিক সংগঠনের পক্ষ থেকে রাত ১২টা ১ মিনিটে অস্থায়ী শহীদ মিনারের পাদদেশে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। নিউইয়র্ক বাংলাদেশ সোসাইটি ছাড়াও উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখা ও অঙ্গসংগঠন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপি যুক্তরাষ্ট্র শাখা ও অঙ্গসংগঠন, জাতীয় পার্টি যুক্তরাষ্ট্র শাখা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) যুক্তরাষ্ট্র, বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএ ইন্ক, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি যুক্তরাষ্ট্র ইন্ক, চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইন্ক, রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন ইন্ক, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি ইউএসএ ইন্ক, দোহার উপজেলা সমিতি ইউএসএ ইন্ক, কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্ক ইউএসএ, বাংলাদেশি আমেরিকান কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন ইন্ক, মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশন ইন্ক, কুমিল্লা সমিতি যুক্তরাষ্ট্র ইন্ক, চাটখিল সোসাইটি ইউএসএ ইন্ক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সোসাইটি ইউএসএ ইন্ক, নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাব, সিলেট গণদাবি পরিষদ ইউএসএ ইন্ক, মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশন ইন্ক, বাংলাদেশ বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি ইউএসএ ইন্ক, প্রবাসী নরসিংদী জেলা সোসাইটি ইউএসএ ইন্ক, ব্রাহ্ম¥ণবাড়িয়া কমিউনিটি অব নর্থ আমেরিকা ইন্ক, কুমিল্লা সোসাইটি অব ইউএসএ ইন্ক, বৃহত্তর দাউদকান্দি অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইন্ক, ব্রাহ্ম¥ণবাড়িয়া জেলা সোসাইটি অব ইউএসএ ইন্ক, বগুড়া সোসাইটি ইউএসএ ইন্ক, নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ইউএসএ, প্রবাসী শরীয়তপুর সমিতি ইউএসএ ইন্ক, ঢাকা জেলা সোসাইটি ইউএসএ ইন্ক, রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন ইন্ক, নবাবগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ ইন্ক, গ্রেটার বেগমগঞ্জ সোসাইটি ইউএসএ ইন্ক, হবিগঞ্জ জেলা কল্যাণ সমিতি যুক্তরাষ্ট্র ইন্ক, প্রবাসী সিরাজগঞ্জ জেলা সমিতি ইন্ক, রংপুর জেলা সমিতি ইউএসএ ইন্ক, নারায়ণগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা ইন্ক, সিলেট সদর সমিতি ইউএসএ ইন্ক, মানিকগঞ্জ সমিতি নর্থ আমেরিকা ইন্ক, সম্মিলিত বরিশাল বিভাগবাসী যুক্তরাষ্ট্র ইন্ক, যশোর সোসাইটি অব আমেরিকা ইন্ক, পাবনা সমিতি ইউএসএ ইন্ক, বরিশাল বিভাগীয় সমিতি ইউএসএ ইন্ক, বাংলাদেশ আমেরিকান পোস্টাল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন ইন্ক, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ ইন্ক, লক্ষীপুর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইন্ক, সেনবাগ সোসাইটি, ভোলা ডিস্ট্রিক্ট অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ ইন্ক, বৃহত্তর লাকসাম ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র, কোম্পানীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ, সাতকানিয়া সোসাইটি ইউএসএস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইন্ক, সিলেট এমসি অ্যান্ড গভ. কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ ইন্ক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নাগরিক ঐক্য ফোরাম প্রভৃতি সংগঠন সহ শত শত প্রবাসী পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
ঢাবি অ্যালামনাই
প্রবাসে সম্মিলিতভাবে যে কয়টি সংগঠন একুশে ফেব্রুয়ারি এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে তার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরেই তারা সব বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এবং প্রবাসের বিভিন্ন সংগঠনকে নিয়ে এই দিবসটি পালন করে আসছে। বলার অপেক্ষা রাখেন না প্রবাসে যে কয়টি আয়োজন তার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজন অনবদ্য, সুন্দর, পরিচ্ছন্ন এবং হৃদয়গ্রাহী। পুরো অনুষ্ঠান থাকে ছবির মতো সাজানো। যে কারণে সবার দৃষ্টি কাড়ে এ অনুষ্ঠান। প্রবাসে বাংলা ভাষার প্রসার এবং ভাষাশহিদদের স্মরণে সম্মিলিতভাবে শতাধিক সংগঠনের সমন্বয়ে সম্মিলিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবস উদযাপন কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডস্থ কুইন্স প্যালেসে উদ্যাপিত হয় মহান একুশে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিকাল থেকে শুরু হওয়া নানান কর্মসূচি শেষ হয় একুশের প্রথম প্রহরে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের আদলে নির্মিত অস্থায়ী শহিদ বেদিতে ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানমালায় ছিল আলোচনা, স্মৃতিচারণ, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা প্রভৃতি। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হুদা। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক সিটি মেয়র অফিসের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাসার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত একুশ উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ ইনকের সভাপতি এম এস আলম। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন খান, স্বপন বড়ুয়া, তাজু মিয়া, মোল্লা মনিরুজ্জামান, এ কে আজাদ তালুকদার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশ ইনস্টিটিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস (বিপা), বহ্নিশিখা সংগীত নিকেতন, অনুপ দাশ ড্যান্স গ্রুপ (আড্ডা), রবীন্দ্র একাডেমি, নীলা ড্যান্স একাডেমি, অন্তরা সাহা ড্যান্স গ্রুপের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবশেষ করেন। এছাড়াও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা দেশের গান, ভাষার গান পরিবেশন করেন। শিল্পীদের পরিবেশনা উপস্থিত শত শত দর্শক-শ্রোতাকে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, শারমিন রেজা ইভা, সাবিনা সারমিন।
রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের একুশের অনুষ্ঠানে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ ইন্ক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ইডেন কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, নরসিংদী সরকারি কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন বাপা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যুক্তরাষ্ট্র কমান্ড, নিউইয়র্ক বাংলাদেশি-আমেরিকান লায়ন্স ক্লাব, আর্টিস্ট ফোরাম, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস (বিপা), উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র, বহ্নিশিখা সংগীত নিকেতন, বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা), অনুপ দাশ ড্যান্স একাডেমি (আড্ডা), শিল্পকলা একাডেমি ইউএসএ ইন্ক, রবীন্দ্র একাডেমি, নীলা ড্যান্স একাডেমি, নিউইয়র্ক সিটি বাংলাদেশি সিভিল সার্ভিস সোসাইটি, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন নিউইয়র্ক চ্যাপ্টার, আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্ট নিউইয়র্ক, প্রবাসী বরিশাল বিভাগীয় কল্যাণ সমিতি ইউএসএ, প্রবাসী শরীয়তপুর সমিতি ইউএসএ ইন্ক, প্রবাসী বেঙ্গলি ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন, কিশোরগঞ্জ ডিস্ট্রিক অ্যাসোসেয়িশন, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, গাইবান্ধা সোসাইটি অব ইউএসএ ইন্ক, বাংলাদেশ ল’ অ্যাসোসিয়েশন, সবিতা মাদার অ্যান্ড চিলড্রেন ফাউন্ডেশন, গাজীপুর জেলা সমিতি, নরসিংদী জেলা সমিতি ইউএসএ ইন্ক, গাইবান্ধা সোসাইটি অব আমেরিকা, মৈত্রী ফাউন্ডেশন, মিরসরাই অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইন্ক, বাংলাদেশ বেদান্ত সোসাইটি, নরসিংদী জেলা সমিতি ইউএসএ ইন্ক, নোলক, শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘ, বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকা, ইউনাইডেট হিন্দুস অব ইউএসএ ও গোপালগঞ্জ ফাউন্ডেশন আমেরিকা প্রমুখ।
বাংলাদেশ মিশন
জাতিসংঘ বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রজতজয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক এবং জাতিসংঘ সচিবালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘের গ্লোবাল কমিউনিকেশনস-এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী তার স্বাগত বক্তব্যে ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করা ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বহুভাষিকতাকে টেকসই সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য ইউনেস্কোর উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জাতিসংঘের গ্লোবাল কমিউনিকেশনস-এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মেলিসা ফ্লেমিং এবং অন্যান্য বক্তারা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের ভূমিকাকে আন্তরিকভাবে প্রশংসা করেন। তাঁরা মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষার গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেন, যা ক্রমাগত শিক্ষার ভিত্তি এবং উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনজিও কমিটি অন ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজেস-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফ্রান্সিস এম হাল্ট, ইউনেস্কোর প্রতিনিধি লিলি গ্রে এবং জাতিসংঘের বহুভাষিকতা সমন্বয়কারীর প্রতিনিধি অ্যান লাফেবার। এর আগে সকালে, বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে মিশন প্রাঙ্গণে ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার বাণী মিশনের কর্মকর্তারা পাঠ করেন।
বাংলাদেশ কনস্যুলেট
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল যথাযথ মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করেছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে কনস্যুলেটে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। কনস্যাল জেনারেল মো. নাজমুল হুদা স্বাগত বক্তব্যে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৫-এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মূলত ৫২’র ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ভিত্তি প্রোথিত হয়, যা পূর্ণতা পায় মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। তিনি ৫২’র মহান ভাষা শহীদ সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত, শফিউরসহ সব ভাষা শহীদ, ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে সব শহীদ, শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ২০২৪-এর জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
তিনি বলেন, ভাষা একটি একান্ত মানবিক বিষয়, যা মানুষের অস্তিত্বের প্রায় সমার্থক। এটি সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত যে, একজন ব্যক্তির বোধগত, বুদ্ধিবৃত্তিক, মানসিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক দক্ষতার সঠিক পুষ্টি তার মাতৃভাষার মাধ্যমে বিকশিত হয়। তাই নিজের মাতৃভাষা লেখা ও ব্যবহার করার অধিকার প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য অপরিহার্য। ২১ ফেব্রুয়ারি এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল চেতনা হলোÑ পৃথিবীর সব ভাষা ও সংস্কৃতির নিজস্বতা রক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা বলে তিনি মন্তব্য করেন। কনস্যাল জেনারেল আরো বলেন, ২০২৪ সাল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সংযোজন করেছে। ২০২৪ সালের ফ্যসিবাদ বিরোধী ও বৈষম্য বিরোধী গণ-অভ্যুথান বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা মেরামত তথা সংস্কারের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য তিনি সবার ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করেন। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী ভাই-বোনদের অধিকতর অবদান রাখার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
নরসিংদী জেলা সমিতি
কুইন্স প্যালেসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসেসিয়েশনের সম্মিলিত একুশ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রভাতফেরিতে অংশ নেন এবং অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেছেন নরসিংদী জেলা সমিতির নেতৃবৃন্দ। নরসিংদী জেলা সমিতির সভাপতি শামীম গফুর ও সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক বাবুলের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী নরসিংদীবাসী ৫২’র ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন। একুশের প্রথম প্রহরে ১২টা ০১ মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এসময় আরো উপস্থিত ছিল নরসিংদী জেলা সমিতির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কবীর আহমেদ, সহ-সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জে মোল্লা সানী, জিয়াউর রহমান, সুমন খন্দকার, কাইউম, মতিউর রহমান, সাইফুর রহমান সাইফুল, মোরাদ, সজল, ইয়াসীন, জেসমিন আনোয়ার, রিমিসহ অর্ধশতাধিক নরসিংদীবাসী। প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করে শহীদ মিনারে উপস্থিত হওয়ায় নরসিংদী জেলা সমিতির সভাপতি শামীম গফুর উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অল কাউন্টি হেলথকেয়ার
গত ২১ ফেব্রুয়ারি – নিউইয়র্কে নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জ্যামাইকার অল কাউন্টি অডিটোরিয়ামে অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর আয়োজিত আলোচনা সভায় ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাংলা ভাষার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা। অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপের সিইও আব্দুল কাদের শিশির বলেন, “বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন আরও বাড়ানো হবে।”আয়োজনে দুই শতাধিক বাংলাদেশি প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে অর্ধশত শিশু-কিশোরও ছিলো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট গিয়াস আহমেদ, ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএ ইনকের সভাপতি শাহ শহীদুল হক, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির চিফ অ্যাডভাইজার ওসমান গণি, রিলায়েবল হোম কেয়ারের পরিচালক জে মোল্লা সানী, রিলায়েবল হোম কেয়ারের সিইও এনায়েত মুন্সী, বিয়ন্ড হোম কেয়ারের সিইও আলিম হোসেন ও টাইম টিভির সিইও আবু তাহের।
আলোচনা সভা শেষে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। প্রথম পুরস্কার বিজয়ীকে এক হাজার ডলারের গিফট ভাউচার, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ীদের যথাক্রমে ৫০০ ও ৩০০ ডলার প্রদান করা হয়। এছাড়া আরও সাতজনকে সৌজন্য পুরস্কার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করেন সিটিসেল চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী নাজু আখন্দ। বাংলাদেশি প্রবাসীরা এ ধরনের আরও আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটি নতুন প্রজন্মকে মাতৃভাষার প্রতি আগ্রহী করতে সহায়তা করবে।” অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার ও সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম জয় সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
Posted ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3055 বার পঠিত)
(2353 বার পঠিত)