বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক : | মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ছবি : বিবিসি
ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন না করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২৪ আগস্ট (সোমবার) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ হুঁশিয়ারি দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেননি।মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
বেসেন্ট জানান, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব আলোচনায় ট্রাম্প বিশ্বনেতাদের নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেননি বেসেন্ট।
কোন কোন দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো নাম উল্লেখ করেননি মার্কিন অর্থমন্ত্রী। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন, ভারত, তুরস্ক, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইরানের তেল বিক্রির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই কঠোর চাপ সৃষ্টি করছে। দেশটির তেল রপ্তানিতে কার্যত অবরোধ জোরদার করা হয়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে ইরানের তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীনও রয়েছে।
ইরানের অর্থপাচারে সহায়তাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বেসেন্ট। এসব প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে জানান তিনি। তবে চীনা ব্যাংকগুলোকে এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করছে কি না এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।
বেসেন্ট আরও বলেন, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ একটি নির্দিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। তবে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেননি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই হুঁশিয়ারির প্রতিক্রিয়ায় ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র নেই।
ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহও যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় তেহরান ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি কার্যকর হলে ইরানের অর্থনীতি, বিশেষ করে বৈদেশিক বাণিজ্য, তেল রপ্তানি ও আর্থিক লেনদেনে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে চীন, ভারত ও তুরস্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়লে বিষয়টি ওয়াশিংটন ও এসব দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
Posted ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh