বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ০২ জুন ২০২২
যুক্তরাষ্ট্রে কিছুতেই থামছে না বন্দুক সহিংসতা। টেক্সাসের স্কুলে বন্দুক সহিংসতায় ২১ জনের প্রাণহানির ঘটনার ৮দিন ও বাফেলো হত্যাকান্ডের ১৮ দিন পর আবারও নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এবার ওকলাহোমা রাজ্যের তুলসা শহরে ফ্রান্সিস হাসপাতালে বন্দুকের গুলিতে প্রাণ গেছে ৪ জনের। হত্যাকান্ডের পর ঘাতক নিজেও আত্মহননের পথ বেচে নেয়। স্থানীয় সময় ১ জুন বুধবার বিকেল ৫টার দিকে হাসপাতালে এই বন্দুক সহিংসতায় কমপক্ষে আরো ১০ জন আহত হয়েছেন বলে তুলসা পুলিশ ক্যাপ্টেন রিচার্ড মিউলেবার্গ জানান।
গুলি বর্ষণের ঘটনার কয়েক মিনিট আগে জনৈক ব্যক্তির ফোনে পুলিশ জানতে পারে একজন বন্দুকধারী হাসপাতাল ভবনের সামনে রাইফেল হাতে ঘোরাফেরা করছে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে হাসপাতাল ভবনের দ্বিতীয় তলায় আর্থোপেডিক ডিপার্টমেন্টসহ আশ-পাশে বেশ কয়েকজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে হাসপাতাল কর্মী, রোগী এবং ভিজিটর রয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। বন্দুক সহিংসতার স্থানে পুলিশ এক দম্পতিকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এছাড়াও আরো ২টি লাশ দেখতে পায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে রাইফেল ছাড়াও ঘাতকের হাতে একটি সংক্রিয় পিস্তল ছিলো। ঘটনাস্থল থেকে আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় পুরো হাসপাতাল এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাচানোর জন্য মানুষ চিৎকার ও ছুটোছুটি করতে থাকে। বন্দুকধারী নিজ অস্ত্রে প্রাণ হারিয়েছে বলে প্রাথমিক খবরে জানা যায়। আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ ঘাতকের পরিচয় এবং হত্যাকান্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কোন তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি। ঘাতক তার সাথে থাকা দুটো অস্ত্রই ব্যবহার করেছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে হত্যা করার উদ্দেশ্য তার মধ্যে ছিলো কি-না তা জানা যায়নি।
সহিংসতার পর পুলিশ পাঁচ তলা ভবনের প্রতিটি রুম তল্লাশি ও উদ্ধার কাজ চালায়। বন্দুক সহিংসতার খবর মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘটনার পর পর তুলসা শহরের মেয়র ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। ওকলাহোমা রাজ্যের গভর্নর বন্দুক হামলার ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকেও পুরো ঘটনা অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ জানায় বন্দুকধারী তুলসা থেকে ৫০ মাইল দূরে তার বাড়িতে একটি বোমা পেতে রেখেছে বলে জানতে পেরেছে। সাথে সাথে পুলিশের বম্ব স্কোয়াড ঘটনার পর সেখানে চলে যায়।
যে হাসপাতালে মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য চেষ্টা চলে সেই হাসপাতালের ভেতর বন্দুক সহিংসতার ঘটনা নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে। গুলিতে নিহত চার জনের পরিচয় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা যায়নি। তুলসার ঘটনার মধ্য দিয়ে এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে ২৩৩টি বড় ধরনের বন্দুক সহিংসতার ঘটনা ঘটলো।
উল্লেখ্য যে, গত ২৪ মে মঙ্গলবার টেক্সাসের এক এলিমেন্টারি স্কুলে এক তরুণ আগ্নেয়াস্ত্রধারীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে ১৯ জন শিশু ছাত্র ও দুই শিক্ষকসহ ২১ জন নিহত হয়। ঐদিন সকালে টেক্সাসের উভালেড সিটির রব এলিমেন্টারি স্কুলে এ দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। সাড়ে ১৫ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত উভালেড সিটি স্যান অ্যান্টিনিও সিটির ৮৯ মাইল পশ্চিমে এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত থেকে ৫৪ মাইল ভেতরে। প্রায় এক দশকের মধ্যে এটি ছিল স্কুলে গুলি করে ছাত্রহত্যার দ্বিতীয় ভয়াবহতম ঘটনা। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, আমেরিকায় স্কুলে গুলি করে সর্বাধিক সংখ্যক নিহতের ঘটনা ঘটেছে ২০১২ সালে কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে, যখন মোট ২৬ জন নিহত হয়; গত ২৪ মে মঙ্গলবারের ঘটনায় দ্বিতীয় সর্বাধিক ২১ জন নিহত হয়। এছাড়া ২০১৮ সালে ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ডের স্কুলে গুলিতে ১৭ জন, ২০১৮ সালে টেক্সাসের স্যান্টা ফে’র স্কুলে ১০ জন, ১৯৯৯ সালে কলোরাডোর লিটলটনের ১৩ জন, ২০০৫ সালে মিনেসোটার রেডলেক এ ৮ জন এবং আরও বেশ কিছু ঘটনায় স্কুলে ৪ থেকে ৫ জন করে ছাত্র গুলিতে নিহত হয়েছে।
Posted ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ জুন ২০২২
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3055 বার পঠিত)
(2353 বার পঠিত)