বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ঘাতক
গত সোমবার নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের এক বাড়িতে এক প্রবীণ দম্পতিকে হত্যার পর বাড়ি লুণ্ঠনের পর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের নাম ফ্র্যাঙ্ক ওলটন (৭৬) ও মওরিন ওলটন (৭৭)। পুলিশ জানিয়েছে, বৃদ্ধ স্বামী ফ্র্যাঙ্ককে বেসমেন্টে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে এবং মওরিনের দেহ অগ্নিদদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘাতক তাদের হত্যা ও বাড়ি লুট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জামেল ম্যাকগ্রিফ (৪২) নামে সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ। বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সংগৃহীত ম্যাকগ্রিফের ছবি প্রকাশ করেছে এনওয়াইপিডি।
এনওয়াইপিডির কমিশনার জেসিকা টিশ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, সোমবার ওল্টন দম্পতির পুত্র, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ৯১১ এ ফোন করলে পুলিশ ওই বাড়িটিতে যায়। প্রায় পুড়ে যাওয়া বাড়ির ভেতরের বেজমেন্টে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় ফ্র্যাংক ওল্টনের মরদেহ শনাক্ত করে পুলিশ। তার শরীরে অনেক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। অন্যদিকে বাড়ির প্রথম তলায় মৃতাবস্থায় পড়ে থাকা মওরিন ওল্টনের শরীরের বেশির ভাগই পুড়ে গিয়েছিল। দম্পতিকে হত্যার করার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বাড়ির ভেতর অবস্থান করে বলে জানান পুলিশের গোয়েন্দারা। তাদের মতে, ম্যাকগ্রিফ ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। বেলা তিনটার দিকে ম্যাকগ্রিফকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে দেখেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। সন্দেহভাজন ম্যাকগ্রিফের সঙ্গে নিহত দম্পতির জ্ঞাত ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। ম্যাকগ্রিফের বিরুদ্ধে এর আগেও ডাকাতি, যৌন সহিংসতার মতো অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলে জানান এনওয়াইপিডি কমিশনার।
জেসিকা টিশ জানান এক সিসিটিভি ফুটেজে ম্যাকগ্রিফকে মঙ্গলবার ব্রঙ্কসের এক সেলফোনের দোকানে দুটি ফোন বিক্রয়ের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তাকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক মনে হচ্ছিল। আগের কোনো এক ডাকাতির অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ম্যাকগ্রিফ প্যারোলে ছিল।
পুলিশের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন সন্দেহভাজন ম্যাকগ্রিফ বেলরোজ নেইবারহুডের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলেন যে, তিনি তার সেলফোন চার্জ করাতে পারেন কিনা। এক বাড়ি মালিক তাকে তিরস্কার করার পর ম্যাকগ্রিফ ফ্র্যাঙ্ক ওলটনের বাড়ি যায় এবং ভিডিওতে তাকে সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে ওলটনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তাকে বাড়ির ব্যাকইয়ার্ডে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় এবং এক পর্যায়ে ম্যাকগ্রিফ পেছনের দরজা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন। সন্দেহভাজন বাড়িটিতে প্রায় ৫ ঘন্টা অপেক্ষা করে এবং সার্ভেইলেন্স ক্যামেরায় তাকে বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। তার হাতে একটি কাগজের ব্যাগ ও ডাফেল ব্যাগ ছিল এবং পরনে ছিল গাঢ় নীল জিনসের ট্রাউজার, কালো হ্যাট, কালো জ্যাকেট ও পায়ে কালো জুতা। পুলিশে মতে, ম্যাকগ্রিফের অপরাধ কর্ম সংঘটনের ইতিহাস কয়েক দশকের। ২০০৬ সালে এক ডাকাতিতে জড়িত থাকার অপরাধে আদালত সাজা দেয় এবং ১৬ বছর কারাগারে কাটানোর পর তিনি প্যারোলে ছিলেন। আরো দুটি ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ তার অনুসন্ধান করছিল।
Posted ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3054 বার পঠিত)
(2345 বার পঠিত)