নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
গত ২০ সেপ্টেম্বর শনিবার নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি বাংলা ভাষার লেখক ও কবি কাজী জহিরুল ইসলামকে নিয়ে আয়োজন করে অথর্স টক এবং বুক সাইনিং অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটি শুরু হয় দুপুর ২টায় ফ্লাশিংয়ের আই আর সি ভবনের সভাককক্ষে। শুরুতে লাইব্রেরি ম্যানেজার কিলুসান বাউতিস্তা স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
তিনি বহুগ্রন্থের প্রণেতা কবি কাজী জহিরুল ইসলাম লাইব্রেরির অথর্স টক সিরিজের এবারের পর্বে অংশগ্রহণে সম্মতি জ্ঞাপনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতে অন্য আরো বাংলা ভাষার লেখক-কবিকে সংযুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিলুসানের বক্তব্যের পর লাইব্রেরির উর্ধতন কর্মকর্তা আরশিয়া হোসেন কবি কাজী জহিরুল ইসলামের বর্ণাঢ্য জীবনের কিছু অংশ পড়ে শোনান। এরপরে অথর্স টকের মূল পর্ব সাক্ষাৎকার শুরু হয়।
আরশিয়া হোসেন বিভিন্ন প্রশ্নের মধ্য দিয়ে তার লেখক হয়ে ওঠার জার্নিটা তুলে আনেন। কাজী জহিরুল ইসলাম তার জীবনের গল্প বলার ফাঁকে ফাঁকে রামায়ন, মহাভারত থেকে উদ্ধৃত করেন, পিবি শেলি, জালালুদ্দিন রুমি, এজরা পাউন্ড, জীবনানন্দ দাশ, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমূখের গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ তুলে আনেন।

মূল সাক্ষাৎকার শেষ হলে শুরু হয় দর্শকদের প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বে বিভিন্ন দেশের শ্রোতা দর্শক শিল্প-সাহিত্যের নানান দিক নিয়ে প্রশ্ন করেন। লেখক অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেন। উত্তর দিতে গিয়ে তিনি নানান গল্পের অবতারনা করেন যা দর্শকরা দারুণ উপভোগ করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৃথিবীর মানুষ অর্থ ও ক্ষমতাকে সম্মান করে বলে সকলেই বিত্ত ও ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করে। যদি আমরা সৎ মানুষকে,নৈতিক মানুষকে সম্মানের আসনে বসাতাম তাহলে সবাই সততা ও নৈতিকতা অর্জনের চেষ্টা করত। পৃথিবী ভুল পথে হাঁটছে, এই প্যারাডাইমটা বদলে দিতে হবে। আর্কাইভিংয়ের জন্য ইংরেজি ভাষায় আয়োজিত পুরো অনুষ্ঠানটি রেকর্ড করে কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি।
প্রশ্নোত্তর পর্ব শে হলে শুরু হয় বুক সাইনিং পর্ব। কাজী জহিরুল ইসলাম সমকালীন বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি, কথাশিল্পী এবং একজন পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল। তিনি ৯৬টি গ্রন্থের প্রণেতা এবং বাংলা সাহিত্যে ক্রিয়াপদহীন কবিতার প্রবর্তক। কবিতায় বিশ্বশান্তি ও আধ্যাত্মিক জাগরণের জন্য ২০২৩ সালে শ্রী চিন্ময় সেন্টার, নিউইয়র্ক কর্তৃক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি “পিস রান টর্চ বিয়ারার অ্যাওয়ার্ড” লাভ করেন। এ-ছাড়া বাংলাদেশ থেকে কবি জসীম উদদীন পুরস্কার, নিউইয়র্ক থেকে ড্রিম ফাউন্ডেশন সম্মাননা, গ্রেস ফাউন্ডেশন পুরস্কার, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন সম্মাননা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই সম্মাননা, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে জেসমিন খান এওয়ার্ড, ভারত থেকে রসমতি সম্মাননা, ডালাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারসহ দেশে বিদেশে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
কবি আল মাহমুদ তার কবিতার বিষয়ে তিনটি প্রবন্ধ লিখেছেন, তাকে উদ্দেশ্য করে কবি আল মাহমুদের লেখেন, ‘বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ কবিতা-প্রতিভাকে আমি প্রবাসে দেখতে পাচ্ছি’। তিনি কাজী জহিরুল ইসলামের চিত্রকল্প নির্মাণ ও ছন্দ-শৈলির প্রশংসা করেন। কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ লেখেন, ‘জিজীবিষা এবং ইতিবাচকতা, শেষ পর্যন্ত কাজী জহিরুল ইসলাম সপ্রেম দৃষ্টিতেই তাকিয়েছেন জীবন ও পৃথিবীর দিকে”। ৫০ তম জন্মদিনে আয়োজিত “সুবর্ণ অভিবাদন” অনুষ্ঠানে কাজী জহিরুল ইসলামের জীবন ও কর্মের ওপর চার শতাধিক পৃষ্ঠার এক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
“অর্ধশতকের উপাখ্যান” শিরোনামের ওই গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন কবি ও সাংবাদিক ড. মাহবুব হাসান। কাজী জহিরুল ইসলামের কবিতা নিয়ে বহু তরুণ, প্রবীন গবেষণা করছেন, সোহেল মাহমুদ রচিত “কাজী জহিরুল ইসলামের নির্বাচিত ৩০ কবিতা ও বিশ্লেষণ” এবং আবু তাহের সরফরাজ রচিত “কাজী জহিরুল ইসলামের কবিতা – শৈল্পিক সৌন্দর্য ও কৃৎকৌশল” এই অক্টোবরেই বাজারে আসছে।
তার কবিতা উড়িয়া, সার্বিয়ান, আলবেনিয়ান, ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। অর্ধশতাধিক দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তার ঝুলিতে। পেশাগত ভাবে তিনি জাতিসংঘ সদর দফতরের একজন আন্তর্জাতিক কর্মকর্তা। “শুদ্ধ শিল্পের নিবিড় চর্চা” এই স্লোগানকে সামনে রেখে এক যুগ আগে তিনি তৈরি করেন শিল্প-সাহিত্যের সংগঠন ঊনবাঙাল, যে সংগঠনটি আজ নিউইয়র্কের একটি অন্যতম সাংস্কৃতিক প্লাটফর্ম।
Posted ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3054 বার পঠিত)
(2345 বার পঠিত)