বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র প্রার্থী ডেমোক্রেট প্রাইমারি বিজয়ী জোহরান মামদানি। ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তার জয়ের সম্ভাবনা ক্রমেই আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। এখন চলছে চূড়ান্ত নির্বাচনী প্রচারণা। পাঁচটি বরোতেই চষে বেড়াচ্ছেন সিটির ইতিহাসে সবচেয়ে তরুণ এবং প্রথম মুসলিম প্রার্থী জোহরান মামদানি। নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকায় জ্যামাইকায় তার সর্বশেষ নির্বাচনী সমাবেশ হবে ১নভেম্বর, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে হিলসাইড এভিন্যুস্থ ১৭২ স্ট্রিটের মেজর মার্ক পার্কে। স্থানীয় বাংলাদেশী ও সাউথ এশিয়ান বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে এই সমাবেশে মামদানির বিপুল সংখ্যক সমর্থক অংশ নিবেন। এজন্য চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বিশেষ করে বাংলাদেশী আমেরিকান ভোটারদের মাঝে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবীও দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন মামদানির সমর্থনে। তারা ফোনে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।
আগামী শনিবারের সমাবেশ সফল করতে গত ২৭ অক্টোবর, সন্ধ্যায় হিলসাইডের স্টার কাবাব পার্টি হলে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করেন ডেমোক্রেট দলীয় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সভায় ব্যাপক লোক সমাগম, সভার নিরাপত্তা ও নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নানাধরণের কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। জ্যামাইকা ফর জোহরান ব্যানারে সভায় বক্তব্য রাখেন জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি ফকরুল ইসলাম দেলোয়ার, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভালো’র প্রধান কর্মকর্তা শাহারিয়ার রহমান, ড্রামস বিটের কর্মকর্তা কাজ ফৌজিয়া, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডাঃ ওয়াজেদ খান, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, কমিউনিটি এ্যাক্টিভিস্ট মাওলানা শহীদুল্ল্যাহ, সাবুল উদ্দিন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আহসান হাবিব প্রমুখ। বক্তাগণ সকল ভেদাভেদ ভুলে জোহরান মামদানিকে বিজয়ী করতে আন্তরিকভাবে কাজ করতে আহ্বান জানান। বক্তাগণ-অগ্রিম ভোট প্রদানে ভোটারদেরকে আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি ৪ নভেম্বর ভোটারদেরকে ভোট কেন্দ্রে পৌছানোর ব্যাপারে তৎপর হওয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। শনিবারের সমাবেশকে সফল করার আহ্বান জানান বক্তাগণ।
নিউইয়র্কে মেয়র নির্বাচনে আগাম ভোট শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের পরবর্তী মেয়র নির্বাচনের আগাম ভোট গত ২৫ অক্টোবর শুরু হয়েছে। এবারের নির্বাচনে এগিয়ে আছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানি। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে মনোনয়ন পেলেও তাঁকে অনেকে বহিরাগত বলেন। ধারণা করা হচ্ছে, মামদানি শহরের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে পারবেন। গত জুনে নিউইয়র্ক নগরের মেয়র নির্বাচনের জন্য ডেমোক্রেটিক দলের প্রাইমারিতে অ্যান্ড্রু কুমোর বিরুদ্ধে অভাবনীয় জয় পান রাজ্যের আইনসভার সদস্য জোহরান মামদানি। জোহরান নিজেকে সমাজতান্ত্রিক বলে পরিচয় দেন, উঠে এসেছেন রাজনীতির অচেনা জগৎ থেকে।
৩৪ বছর বয়সী মামদানি যখন নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছিলেন, তখন তাঁর শীর্ষ প্রার্থী হয়ে ওঠা অসম্ভব মনে হয়েছিল। কিন্তু পরে নিউইয়র্কের তরুণ ভোটারদের উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা গতি পায়। নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের ওপর জোর দিয়ে ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলেন মামদানি। রাজ্যের আইনসভায় কুইন্সের এই আইন প্রণেতা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে নিউইয়র্কের ২০ লাখ বাসিন্দার জন্য বাড়িভাড়া স্থির করে দেবেন। এবারের নির্বাচনে আগাম ভোট শুরুর আগে সর্বশেষ চমক ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসের সরে দাঁড়ানো। গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। সে সময় কারো প্রতি সমর্থন না জানালেও পরে মামদানির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুমোর পক্ষে নিজের সমর্থন জানান তিনি।
Posted ১১:২২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3054 বার পঠিত)
(2345 বার পঠিত)