নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫
বক্তব্য রাখছেন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মোহাম্মদ কাদের শিশির।
‘আমাদের ব্যাংক, আমাদের কমিউনিটি এবং আমাদের গর্ব’ স্লোগানে যুক্তরাষ্ট্রে সমবায়ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ একটি ব্যাংকের কার্যক্রম শুরুর প্রাক-অনুমতি পাবার তথ্য জানাতে গত ১৩ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ‘বেঙ্গল ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়ন’ (বিএফসিইউ)। জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএফসিইউ’র উদ্যোক্তা এবং সিইও মোহাম্মদ কাদের সিআইপি বলেন, ‘ন্যাশনাল ক্রেডিট ইউনিয়ন এডমিনিস্ট্রেশন’ থেকে গত ৪ আগস্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমতি পাওয়ার পরই বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটেছে।
প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে গঠিত হতে যাচ্ছে পূর্ণাঙ্গ ফেডারেল স্বীকৃত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে এমন একটি প্রত্যাশা ছিল পাঁচ দশকেরও অধিক সময় যাবত।
বিএফসিইউ’র সিইও মোহাম্মদ কাদের আরো জানান, আমেরিকায় অনেক ছোট কম্যুনিটি হওয়া সত্বেও নেপালীরাও ব্যাংক স্থাপন করেছেন কয়েক বছর আগে। অনুমোদনের শর্ত হিসেবে ৬ মাসের মধ্যে তিন শতাধিক দাতা-সদস্য সংগ্রহ করতে হবে। তারা এক হাজার ডলার করে প্রদানের অঙ্গিকারপত্র দেবেন। এই অর্থ ব্যাংকটির মূলধনে পরিণত হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা যদি ৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করতে পারি তাহলে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ফেডারেল সরকার থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার পাবো। এই ব্যাংকে সুদের হার হচ্ছে দশমিক ৫ মাত্র।

অর্থাৎ বিএফসিইউ’র মূলধনের জন্য এককভাবে কারো কাছ থেকে ধার-দেনার প্রয়োজন নেই। এর মালিকানায় থাকবেন দাতা-সদস্যরা। সদস্যরাই ব্যাংকে একাউন্ট খুলবেন এবং ব্যক্তিগত/ব্যবসায়ী সকল কার্যাদি সম্পন্নে সক্ষম হবেন অর্থাৎ প্রচলিত ব্যাংকের সকল সুবিধা পাবেন। কাদের মিয়া বলেন, বিএফসিইউ থেকে বাড়ি-গাড়ি-ব্যবসা ক্রয়ের ঋণের সুদ হবে প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ে অনেক কম। তিনি আরো জানান, দাতা-সদস্যগণের অঙ্গিকার পত্র সাবমিটের পরই কুইন্সে বিএফসিইউ’র সদর দফতর স্থাপিত হবে এবং সামনের এক বছরের মধ্যে কুইন্স, ব্রুকলীন, ব্রঙ্কসে ৫টি শাখা খোলা হবে। এর মধ্য দিয়ে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর কর্মসংস্থানের পথও সুগম হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় অনুমতি স্টেট প্রশাসন থেকে পাওয়া গেছে।
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ইমাম মাওলানা আবু জাফর বেগ পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপস্থাপিকা সোনিয়া। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানান তারা যাতে নিয়ম অনুসরণ করে দাতা-সদস্য তথা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে এই ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ত হন। সোনালী ব্যাংকের সহযোগী ‘সোনালী এক্সচেঞ্জ’র সিইও মো. কবির বলেন, বছরে আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০ মিলিয়নেরও অধিক ডলার বাংলাদেশে পাঠাচ্ছি অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে। বিএফসিইউ কার্যক্রম পরিপূর্ণভাবে শুরু করলে এর মাধ্যমে পাঠানো সম্ভব হবে অর্থাৎ প্রবাসীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমরাও অবদান রাখতে সক্ষম হবো।
বিএফসিইউ’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্যগণকেও পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।
তারা হলেন শাহ শহীদুল হক, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান কামরুল, সিফা আমিন, মিনারা মাহমুদিন, মাহাফুজ আনিসুর রহমান, সালাউদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও প্রস্তাবিত কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন: জে মোল্লা সানি, এনায়েত মুনশি, আব্দুল মান্নান, রিমি ভুইয়া, বদরুল হক আজাদ, মো. সোলাইমান, জাহাঙ্গীর আলম জয় প্রমুখ। তারা সকলেই ছিলেন।
‘বেঙ্গল ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়ন’র সিইও মোহাম্মদ কাদের সিআইপি বলেন, আজকের এই মুহূর্তটি কেবল আমার জন্য নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও এক গর্বের দিন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় বাস করলেও আমাদের নিজস্ব কোনো পূর্ণাঙ্গ ফেডারেল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছিল না।
অনেক কমিউনিটি বহু আগেই নিজেদের জন্য ব্যাংক বা ক্রেডিট ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে। অবশেষে আজ আমরা সেই দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই ন্যাশনাল ক্রেডিট ইউনিয়ন এডমিনিস্ট্রেশন তথা এনসিইউএ থেকে নাম ক্লিয়ারেন্স এবং প্রি-অ্যাপ্রুভাল পেয়েছি। এটি কোনো সাধারণ অনুমোদন নয়, এটি একটি আইনানুগ, স্বীকৃত এবং ভবিষ্যতের জন্য সুসংহত আর্থিক ভিত্তি। এখন আমাদের প্রাথমিক কাজ হচ্ছে ৩০০ জন ফাউন্ডিং মেম্বার সংগ্রহ করা এবং সেইসাথে মূলধন সংগ্রহ সম্পন্ন করে পরবর্তী ধাপে যাওয়া।
আমি সবাইকে এই ঐতিহাসিক যাত্রায় অংশ নেওয়ার জন্য আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।” কাদের সিআইপি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, “আমি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকায় বাস করছি এবং দেখেছি কীভাবে আমাদের অনেকেই, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, ছোট ব্যবসায়ী, ছাত্র-ছাত্রী ও পরিবার প্রধানরা ন্যায্যভাবে হালাল লোন, অটো লোন, ক্রেডিট কার্ড এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বাস্তবতা থেকেই আমার মধ্যে এই উদ্যোগের জন্ম। আমি চেয়েছি এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে, যা হবে আমাদের মানুষের দ্বারা, আমাদের মানুষের জন্য এবং আমাদের মানুষের মালিকানায়।
Posted ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3055 বার পঠিত)
(2347 বার পঠিত)