বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটি মেয়র পদে ডেমোক্রেটিক পাটির্র অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডারকে গত মঙ্গলবার লোয়ার ম্যানহাটানে অবস্থিত ফেডারেল প্লাজা থেকে ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস (আইস) এজেন্টরা গ্রেফতার করে। ইমিগ্রেশন কোর্ট থেকে একজন ইমিগ্রান্টকে বের করে নেওয়ার সময় তিনি ‘আইস’ এজেন্টদের হাতে আটক হন। তাকে গ্রেফতার করার জন্য কোনো অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট আছে কিনা তিনি তা বারবার জানতে চাইলেও আইস এজেন্টরা তার কথা অগ্রাহ্য করে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে তাকে হ্যান্ডকাফ পরায় এবং কয়েক ঘন্টা ফেডারেল প্লাজায় আটকে রাখার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন যে, মি. ল্যান্ডার একজন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে আঘাত করেন ও তার কাজে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তিনি আরো বলেন, ‘আইসিই কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যারা তাদের রাজনৈতিক অভিলাষ পূরণের উদ্দেশ্যে জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে, তারা ভুল করছে। কেউ আইনের ঊর্ধে নয়। কেউ যদি কোনো আইন প্রয়োগকারীর কাজে বাধা দেয়, তাহলে তাকে অবশ্যই এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
ব্র্যাড ল্যান্ডারকে গ্রেফতারের তাৎক্ষণিক নিন্দা করেন মেয়র পদে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জোহরান মামদানি ও নিউইয়র্ক স্টেটের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমো। মামদানি বলেন, ‘এটা ফ্যাসিবাদ ছাড়া আর কিছু নয়। আমাদের ইমিগ্রান্ট প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ানো প্রশংসনীয় কাজ এবং কোনোভাবেই তা দণ্ডনীয় হতে পারে না। ’ ক্যুমো বলেন, ‘ট্রাম্পের অধীনে ‘আইস’ এর সহিংস আচরণ যে সীমা ছাড়িয়ে গেছে ব্র্যাড ল্যান্ডারের গ্রেফতার তারই দৃষ্টান্ত।’ ব্র্যাড ল্যান্ডারকে মুক্তি দেওয়ার পর স্টেট গভর্নর ক্যাথি সি হকুল বলেন, ‘ব্র্যাড ল্যান্ডারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি সুস্থ আছেন, কিন্তু তার সঙ্গে যে ইমিগ্রান্ট ছিলেন তিনি ‘আইস’ এর হাতে আটক রয়েছেন। তিনি তার আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত।’
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধীনস্থ ‘আইস’ এর অবৈধ ইমিগ্রান্ট আটক ও ডিপোর্টেশন অভিযান সহিংস রূপ গ্রহণ করায় যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিউইয়র্কে লোয়ার ম্যানহাটানে প্রধান ইমিগ্রেশন কোর্টহাউস ২৬ ফেডারেল প্লাজা থেকে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ইমিগ্রান্টকে তাদের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগেই আটক করে ডিপোর্ট করার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবারের ঘটনার ভিডিও চিত্রে দেখা যায় যে, ব্র্যাড ল্যান্ডার যখন ফেডারেল প্লাজার ১২ তলার করিডোরে একজন ইমিগ্রান্টের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তখন সাদা পোশাকে থাকা ‘আইস’ এর কয়েকজন সদস্য, যাদের মধ্যে কারো মুখ মুখোশে ঢাকা ছিল, তারা ভিড় ঠেলে সেই ইমিগ্রান্টকে আটক করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছেন।
ভিডিও চিত্র অনুযায়ী হঠাৎ কয়েকজন ‘আইস’ এজেন্ট ব্র্যাড ল্যান্ডারকে ধরে তার সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তি করে তাকে হ্যান্ডকাফ পরানোর চেষ্টা করছে এবং তিনি বার বার বলছেন যে, “আপনাদের কাছে কি কোনো অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট আছে? আমি কি স্টো দেখতে পারি। আপনারা সরে দাঁড়ান। একজন আমেরিকান সিটিজেনকে এভাবে গ্রেফতার করার কোনো এখতিয়ার আপনাদের নেই। আমি কোনো কাজে বাধা দিচ্ছি না। আমি হলওয়েতে দাঁড়িয়ে আছি।”
মুক্ত হওয়ার পর ব্র্যাড ল্যান্ডার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন যে, তিনি মঙ্গলবার সকালে ইমিগ্রেশন কোর্টের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করছিলেন এবং পরে কয়েকজন ইমিগ্রান্টকে ফেডারেল প্লাজার ইমিগ্রেশন কোর্ট থেকে বের করে নিতে সহযোগিতা করছিলেন। তিনি বলেন, আমেরিকায় আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে। আমাদের সাংবিধানিক গণতন্ত্র কার্যকরভাবে চলছে না।
Posted ১:০৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3055 বার পঠিত)
(2347 বার পঠিত)