বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রোববার সিটির চায়না টাউনে কোরীয় বংশোদ্ভুত এক আমেরিকানকে নারীতে নিজ অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার প্রতিবাদে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার ম্যানহাটানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে প্রতিবাদকারীদের একজন বলেন, নিউইয়র্ক সিটির আইনশৃংখলা পরিস্থিতির এত অবনতি ঘটেছে যে এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, এর পর কে ঘাতকের আঘাতে নিহত হবে? জাস্টিন ব্রাউনিং নামে এক পিএইচডি ছাত্র প্রতিবাদ সমাবেশে বলেন, প্রতিবাদ সমাবেশই প্রমাণ করে যে, একটি হত্যাকান্ডের ঘটনা শুধুমাত্র শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নয়, এ ধরনের ঘটনার যদি বিচার না হয়, তাহলে বিচারহীনতা একটির পর একটি ঘটনার জন্ম দিতে থাকে। যারা প্রতিবাদ জানাতে সমবেত হয়েছেন, তারা যে তাদের ভীতির কারণে প্রতিবাদ করছেন তা সুস্পষ্ট। তারা বিচারহীনতা বন্ধ করতে দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছেন, যাতে এ ধরনের দু:খজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। সিটির নেতারা আমাদের কণ্ঠে সাড়া না দেওয়া পর্যন্ত এশীয় কমিউনিটির পাশে থাকা আমাদের কর্তব্য।
উল্লেখ্য, রোববারের ঘটনায় নিহত নারীর নাম ক্রিস্টিনা ইউনা লী বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। চায়না টাউনের একটি অ্যপার্টমেন্ট বিল্ডিং এর ছয় তলার অ্যাপার্টমেন্টে অজ্ঞাত খুনি তাকে হত্যা করে। নিউইয়র্ক পোষ্ট সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এর বিবরণ প্রকাশ করেছে, যাতে বলা হয়েছে যে পঁচিশ বছর বয়সী সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম আসামাদ ন্যাশ ধীর পায়ে লী’র পিছু নিয়ে হলওয়েতে যাওয়ার পর ক্যামেরার আওতার বাইরে চলে গেছে। বিল্ডিং এর অন্যান্য ভাড়াটেরা লী’র চিৎকার শুনে ৯১১ এ কল করার পর পর পুলিশ রোববার ভোররাত ৪:২৩ মিনিটে ঘটনাস্থল ১১১, ক্রিস্টি স্ট্রিটে যান বলে পুলিশ সার্জেন্ট এডওয়ার্ড রিলে বাজফিড নিউজকে জানান। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়নি, কারণ ভেতর থেকে কেউ দরজা আটকে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত পুলিশকে দরজা ভেঙে অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করতে হয় এবং তারা বাথরুমে ক্রিস্টিনা ইউনা লীকে মৃতাবস্থায় দেখতে পান।
আসামাদ ন্যাশ অ্যাপার্টমেন্টের জানালা দিয়ে পালানো চেষ্টা করছিল, কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ন্যাশের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকান্ডের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যা এবং বাড়িতে অনধিকারমূলক প্রবেশ ও চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনাকে বিদ্বেষমূলক অপরাধের ঘটনা বলে বিবেচনা করা হতে পারে কিনা জানতে চাইলে পুলিশ কোনো মন্তব্য করেননি।
প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজক সংগঠনগুলোর একটি কোয়ালিশন অফ এশিয়ান আমেরিকানস ফর সিভিল রাইটস এর ডাইরেক্টর ই অ্যান্ডি চেন সাংবাদিকদের বলেন যে দক্ষিণ এশিয়ান এবং ব্যাপক অর্থে ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকান্ডের প্রতিবাদে ও তাদের স্বার্থ সমুন্নত রাখার দাবীতে তিনি গত দুই বছরে এ ধরনের কত সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ করেছেন এখন তিনি তা হিসাব করতে ভুলে গেছেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার মা হেট ক্রাইমের শিকার হয়েছিলেন, যিনি একটি গ্রোসারিতে গেলে কেউ তাকে ধাক্কা দিয়ে সাইডওয়াকে ফেলে দেয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে ১২টি সেলাই দিতে হয়েছিল।
গত রোববার লী’র হত্যাকান্ডের মাত্র এক মাস আগে আরেকজন এশিয়ান আমেরিকান নারী মিশেল অ্যালিসাাকে (৪০) টাইমস স্কোয়ার সাবওয়ে স্টেশনে চলন্ত ট্রেনের সামনে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করা হয়। তার হত্যাকান্ডকেও হেট ক্রাইম বলে বিবেচনা করা হয়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২০ ও ২০২১ সালের মধ্যে সিটিতে এশিয়ান আমেরিকান ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডারদের ওপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৬১%। লী’র হত্যাকান্ডের পর সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস এনওয়াইপিডি’র পরিসংখ্যান দেখে অপরাধের ভয়াবহ বিস্তারে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এশিয়ান আমেরিকান ফেডারেশনের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর জো-অ্যান ইয়ো বলেছেন, হেট ক্রাইমের ঘটনা ভয়াবহ বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু মিডিয়া সেগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার না করায় প্রশাসন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন বোধ করছে না। তিনি নিউইয়র্ক সিটির প্রতি আহবান জানান মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় ৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করার জন্য। উল্লেখ্য, নিহত ক্রিস্টিনা ইউনা লী রুটজার ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশনের পর অনলাইন মিউজিক প্ল্যাটফর্ম স্লাইস এর ডিজিটাল প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছিলেন।
Posted ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3055 বার পঠিত)
(2353 বার পঠিত)