বাংলাদেশ ডেস্ক | শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৪
ছবি : সংগৃহীত
পুলিশের কাজের সুবিধার্থে এবং পাবলিক সেফটির কথা বিবেচনা করে সিটি কাউন্সিলের পাশ করা ‘হাউ মেনি স্টপস অ্যাক্ট’ এ ভেটো দিলেন মেয়র এরিক অ্যাডামস। গত ১৯ জানুয়ারি এই ভেটো ঘোষণা করেন মেয়র। ফেইথ লিডার, কমিউনিটি অ্যাডভোকেট, ব্যবসায়ী সংগঠন, ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ তথা নিউইয়র্কারদের বিরোধিতার মুখে এই ভেটো ঘোষণা করলেন মেয়র। বিলটিতে সন্দেহভাজন কাউকে আটক করে একক প্রকোষ্ঠে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদেরও বিরোধিতা করা হয়েছে। যা বাতিল করলেন মেয়র। তিনি জানান, এক সময় এমন ঘটনার ভুক্তভোগী তিনি নিজেই হয়েছিলেন। কিন্তু তারপরেও পুলিশের কাজের সুবিধার্থে ও পাবলিক সেফটির কথা বিবেচনা করে তিনি এই আইনের বিরোধিতা করছেন। গত ১৯ জানুয়ারির ব্রিফিংয়ে মেয়র বলেন, আমাদের প্রশাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে, কিন্তু এই বিলটি তাদের ওপর চাপিয়ে দেবে একটি অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় পেপারওয়ার্কের বোঝা। যাতে এনওয়াইপিডির জন্য অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা বরাদ্দ করতে হবে। ট্যাক্সপেয়ারদের একটি বড় অংকের অর্থ চলে যাবে সে বাবদ। আর সে কারণেই আমি এই বিলের বিরোধিতা করছি। এর আগে ১৮ জানুয়ারিও মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেন, ‘বিলটি আইনে পরিণত হলে পুলিশের পক্ষে কাউকে বিচারের আওতায় আনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।’ মেয়র এ সময় নগরীতে একের পর এক ছুরিকা হামলার ঘটনায় পাবলিক সেফটি নিয়ে কথা বলছিলেন। গত ১৮ জানুয়ারির ব্রিফিংয়ে অ্যাডামস বলেছিলেন এই ধারাবাহিক ছুরিহামলাকারীর ব্যাপারে পুলিশকে অন্তত ১০০০ নিউইয়র্কারের সঙ্গে কথা বলতে হয়েছে। এই বিল মেনে কাজটি করতে হলে এ জন্য পেপারওয়ার্কেই চলে যেতো ৪৯ ঘণ্টা।
মেয়র বলেন, বিপজ্জনক কোনো সন্দেহভাজনকে যখন সড়কে চেজ করতে হয়, তখন প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই না, পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের পুলিশি কাজ রেখে দীর্ঘ সময় পেপারওয়ার্কে ব্যয় করুক।
গত ১৯ জানুয়ারির আলোচনায় মেয়র তার ছেলেবেলার ব্যক্তিগত ঘটনা তুলে ধরে বলেন, একবার পুলিশ তাকে ও তার ভাইকে আটক করে পিসিঙ্কটের বেসবেন্টে নিয়ে পিটিয়েছিলো, তাও আমি সেই বেদনা ভুলে পুলিশের কাজেই সহযোগিতা করতে চাইছি। আমি নিজেও যখন পুলিশ অফিসার ছিলাম, তখনও আমি এই পাবলিক সার্ভিসকে যতটা সম্ভব স্বচ্ছতা ও জবাবাদিহির মধ্যে আনতে চেষ্টা করেছি। কমিউনিটিভিত্তিক পুলিশিংয়ে জোর দিয়েছি। কেবল ব্রিফিংয়েই নয়, মেয়র তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিলটির বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন। একটি ভিডিওতে দেখানো হয়েছে, পুলিশ ভেতরে একটি ডেস্কে বসে পেপারওয়ার্কে ব্যস্ত, ওদিকে বাইরে সংগঠিত হচ্ছে অপরাধ। তবে, সিটি কাউন্সিল ও সরকারি কৌসুলি যারা এই বিলটি এনেছেন, তারা এরিক অ্যাডামসের বিরোধিতা করছেন।
সিটি কাউন্সিল মেম্বার ক্রিস্টাল হাডসন বলেছেন এই ‘হাউ মেনি স্টপস অ্যাক্ট’ অফিসাররা কীভাবে ডকুমেন্টেশন করবে তা নিয়ে জোর দিচ্ছে না। এনওয়াইপিডি নিজেই যদি প্রক্রিয়াটিকে বোঝা মনে করে তাহলেই এটা বোঝা, তা না হলে এই ডকুমেন্টশন সহজেই করে ফেলা সম্ভব। গত ডিসেম্বরে বিলটি পাশ করে সিটি কাউন্সিল। তাতে বলা হয়েছে, সাধারণকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুলিশ তা নথিভুক্ত করবে। একটি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণে দেখা যায় গত এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত যতগুলো ‘লেভেল ৩’ স্টপস হয়েছে তার মধ্যে ২৪ শতাংশই ছিলো সাংবিধানিক। আর থামানো ও জিজ্ঞাসাবাদ হয়েছে এমন মানুষের মধ্যে ৯৭ শতাংশই ছিলো কৃষ্ণাঙ্গ কিংবা হিসপ্যানিক। এ জন্যই আইনটি আনা হয়েছে, যাতে পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে নীতি নির্ধারক তথা সাধারণ মানুষে কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত বিলটিতে ভেটো দিলেন মেয়র এরিক অ্যাডামস। যার সমালোচনায় বলা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে মেয়র নিউইয়র্কারদের নিরাপত্তাকেই ঝুঁকিতে ফেললেন।
Posted ২:০৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3055 বার পঠিত)
(2347 বার পঠিত)