নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৪
ছবি : সংগৃহীত
চট্রগ্রাম সমিতির নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক শপথ পাঠ করানোর ঘটনা নিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই ঘোলাটে হয়ে উঠছে। গত ২০ অক্টোবর রোববার চট্রগ্রাম সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও সংগঠনটি পুনরায় পিছনের দিকে হাঁটছে বলে মনে হচ্ছে।
নির্বাচনের দিন মিডিয়া এবং উভয় প্যানেলের প্রতিনিধিদের সামনে ঘোষণা করা ফলাফল ৫ দিন পর পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট জটিলতা চট্রগাম সমিতিকে পুণরায় দ্বিধাবিভক্ত করে তুলেছে। দীর্ঘদিনের বিভক্তির অবসান ঘটিয়ে ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর সকলের সম্মতিতে সাধারণ সভার মাধ্যমে একটি অন্তবর্তীকালীন কমিটি দীর্ঘ ১৮ মাসের অধিক সময় ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেও নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে পুনরায় বিভক্ত হতে যাচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন। অভিযোগ উঠেছে যে নির্বাচনের দিন ঘোষিত ফলাফল পরিবর্তন করে ২৫ তারিখ রাতে সোস্যাল মিডিয়ায় নতুন ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে মাকসুদ-মাসুদ পরিষদ।
প্রথম ফলাফলের পর নির্বাচন কমিশন জানান, তাদের কাছে ৬টি চ্যালেঞ্জড ভোট আছে। কিন্তু কি কারণে এই চ্যালেঞ্জড ভোট তার সঠিক কোন ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশন দিতে পারেনি বলে মাকসুদ মাসুদ পরিষদ অভিযোগ করেছে। তারা আরো অভিযোগ করেছেন যে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ধারা অনুযায়ী পেনসিলভেনিয়া কেন্দ্রে অনৈতিকভাবে গৃহীত চারটি চ্যালেঞ্জড ভোট বাতিলের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনকে দুটি অভিযোগ দাখিল করেছি, কয়েক বার ফোন করেছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাদের অভিযোগের কোন উত্তর দেননি এবং ফোন কলও রিসিভ করেননি। তাদের এসব অভিযোগকে অগ্রাহ্য করে কমিশন নির্বাচিতদের কয়েকজনের কাছে শপথের জন্য ২৪ ঘন্টারও কম সময়ে স্বাক্ষরবিহীন চিঠি পাঠায়।
চিঠির ভাষ্য অনুযায়ী গত ৩ নভেম্বর রোববার বেলা ২টায় সংগঠনের কার্যালয়ে শপথ পরানোর কথা থাকলেও মাকসুদ-মাসুদ পরিষদ আগে থেকেই সংগঠনের কার্যালয় তাদের দখলে নিয়ে নেয়। ফলে নির্বাচন কমিশন নিরাপত্তা কর্মী ভাড়া করে তাহের-আরিফ পরিষদের বেশ কিছু সমর্থকসহ সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা Ñ সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম, মোহাম্মদ হানিফ, মনির আহমদ, কাজী আজম প্রমুখ এবং সর্বশেষ পুলিশ কল করেও ভবনে প্রবেশ করতে পারেনি! ফলে কোন বাধ্য হয়ে নির্বাচন কমিশন তাহের আরিফ পরিষদের কয়েকজনকে ফুটপাতে শপথ পাঠ করান।
উপস্থিত চট্রগ্রামবাসী নির্বাচন কমিশনকে ‘ভুঁয়া ভুঁয়া’ শ্লোগান দিতে থাকে। উল্ল্যেখ্য, দ্বিতীয় ফলাফল ঘোষণার পর থেকে মাকসুদ মাসুদ পরিষদের প্রতিনিধি ও কয়েকজন বিশিষ্ট চট্টগ্রামবাসী বিষয়টির নিস্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনকে বার বার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন গঠনতন্ত্রের ধারা রক্ষা করার কথা বলে তাদের অনুরোধে কর্ণপাত না করায় সংগঠনটি আজ বিভক্তির মুখে পড়েছে বলে মাকসুদ মাসুদ পরিষদসহ চট্টগ্রামবাসী অনৈকে অভিযোগ করেছেন। তারা আরো বলেন নির্বাচন কমিশন তাদের শপথ ভঙ্গ করেছে। তারা নিজেদের করা বিধিমালা নিজেরাই ভঙ্গ করেছেন। তারা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাক্ষর গ্রহণ করেছেন, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক, অসাংগঠনিক, সংগঠনের গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি। তারা বিতর্কিত চ্যালেঞ্জড ভোট গণনার সময় মাকসুদ-মাসুদ পরিষদের কোন প্রতিনিধি সাথে রাখেননি, যা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়।
মাকসুদ-মাসুদ পরিষদ দাবী করেছে যে, প্রথম ফলাফল, যা মেশিন ভোটে নির্ধারিত হয়েছে, তা মেনে নিতে অথবা সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে পেনসিলভেনিয়ার ভোট বাতিল করে ওই কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে মাকসুদ-মাসুদ পরিষদই চট্রগ্রাম সমিতির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কারণ ওই বিতর্কিত কেন্দ্রের ভোট বাতিল করলে অন্যান্য সব কটি কেন্দ্রে মাকসুদ-মাসুদ পরিষদ পূর্ণ প্যানেলে জয়ী হয়েছে। তারা বলেন, আমরা কোন বিভক্তি চাইনা। কিন্তু জোর করে কেউ ভোটারদের প্রদত্ত ভোটের রায় নস্যাৎ করতে পারে না।
Posted ১২:০৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3055 বার পঠিত)
(2353 বার পঠিত)