নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যামাইকা এস্টেটের একটি বাড়িতে গত ১৮ এপ্রিল রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরো চার জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কর্মীও রয়েছেন। এই ঘটনায় বাড়ির মালিক মিসবাহ মাহমুদও গুরুতর আহত হয়েছেন।
তিনি একটি হাসপাতাল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, আহত মিসবাহ মাহমুদ হাসপাতালের আইসিউইতে আছেন। তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত। এছাড়া একজন ফায়ার ফাইটারসহ ৮ ব্যক্তি আহত হয়েছে। এই বাড়ির তিন মিনিটের দূরত্বে এক ম্যানসনে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেড়ে উঠেছেন।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, বাংলাদেশি-আমেরিকান মিসবাহ মাহমুদের বাড়িতে অন্য কমিউনিটির মানুষ ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। এই ঘটনায় কমিউনিটিতে নানা কথা শুনা যাচ্ছে এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। আহত মিসবাহ মাহমুদ বাংলাদেশি-আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপ (বাগ)-এর বোর্ড সদস্য। তার সুস্থতায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ সবার দোয়া কামনা করেছেন। পুলিশ জানায়, ইস্টার সানডের শুরুতেই রাত ১টা ৪০ মিনিটে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ৮৭-২৫ শেভি চেজ স্ট্রিটে অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গে ৯১১-এ খবর পেয়ে অগ্নিনির্বাপক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মৃত তিন পুরুষের বয়স ৪৫, ৫২ ও ৬৭ বছর। তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আহতদের মধ্যে তিনজনকে স্থানীয় জ্যামাইকা হসপিটাল সেন্টারে এবং অপর একজনকে কুইন্স হসপিটাল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
এই বাড়ির তিন মিনিটের দূরত্বে এক ম্যানসনে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেড়ে উঠেছেন। যে বাড়িতে কোনো স্মোক ডিকেক্টর ছিল না বলে ফায়ার ডিপার্টমেন্টের লোকজন জানিয়েছে। তাদের মতে প্রথম তলায় আগুন লেগে যায়। ওই বাড়িতে বসবাসকারী আরেক ভাড়াটিয়া টনি রকের (৪০) মতে তিনি একটি রুমে অন্যান্যের সঙ্গে গাদাগাদি করে থাকতেন। আগুন লাগার পর লোকজন চিৎকার করছিল, কেউ কেউ জানালা দিয়ে বাইরে লাফ দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করছিল। তিনি দৃশ্যটিকে নারকীয় বলে বর্ণনা করেছেন।
আগুন লাগার চার মিনিটের কম সময়ে ফায়ার ফাইটাররা ঘটনাস্থলে পৌছে। কিন্তু ততক্ষণে আগুন বাড়ির অ্যাটিক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ফায়ার বিভাগ জানিয়েছে যে বাড়িটিতে অতিরিক্ত লোক বাস করতো। সাময়িক হালকা দেয়াল দিয়ে ছোট ছোট রুমে ভাগ করা হয়েছিল। জিনিসপত্র দিয়ে সিঁড়ি প্রায় অবরুদ্ধ রাখা হয়েছিল, সর্বত্র রশি ঝুলানো ছিল এবং কোনো স্মোক ডিটেক্টর ছিল না। ইউএনএ জানিয়েছে, বাড়ির মালিক মিসবাহ মাহমুদ, একজন বাংলাদেশি আমেরিকান। এ ঘটনায় তিনিও গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে ব্রঙ্কসের জ্যাকোবী হাসপাতাল সেন্টারে আইসিইউ এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশী-আমেরিকান এডভোকেসী গ্রুপ (বাগ)-এর বোর্ড সদস্য।
ব্রঙ্কসের বাড়িতে মা ও শিশুপুত্রকে মৃত পাওয়া গেছে
গত শুক্রবার রাতে ব্রঙ্কসের ওয়েকফিল্ড নেইবারহুডের এক অ্যাপার্টমেন্টে মা (৩৮) ও তার আট বছর বয়স্ক শিশুপুত্রকে মৃত উদ্ধার করেছে পুলিশ। রহস্যজনকভাবে মৃত মায়ের ৪ বছর বয়স্কা মেয়েকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ জানতে পারেনি যে দুজন কত সময় ধরে মৃত পড়ে ছিল এবং কীভাবে অ্যাপার্টমেন্টে শিশুকন্যার পক্ষে একা টিকে থাকা সম্ভব হলো।
পুলিশ এখনো মৃত নারীর নাম প্রকাশ করেনি। তবে মৃতদের উদ্ধার করার পরদিন শনিবার মৃত নারীকে লিসা কটন হিসাবে শণাক্ত করেছে। ৯১১ এ কল পাওয়ার পর পুলিশ ওয়েকফিল্ড এর অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে মৃতদেহগুলো ও জীবিত শিশুকন্যাকে উদ্ধার করে। পুলিশ অফিসাররা লিসা কটন ও তার পুত্রের মৃতদেহ হাসপাতালে পাঠায় ময়না তদন্তের জন্য।
মৃত ছেলেটির মামার মতে, ছেলেটির চলাফেরার ক্ষমতা ছিল না এবং তার পক্ষে ঘরের ভেতর থেকে খাবার নিয়েও খাওয়াও সম্ভব ছিল না। চার বছর বয়সী শিশুটি অ্যাপার্টমেন্টে জাগ্রত অবস্থায় ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, জরুরি চিকিৎসা কর্মীরা পুলিশের পরপরই পৌঁছে এবং মিসেস কটন এবং তার পুত্রকে মৃত ঘোষণা করে বলে। জীবিত মেয়েটিকে ওয়েকফিল্ডের মন্টিফোর মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। মৃতদের শরীরের আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সিটির চিফ মেডিকেল এক্সামিনার অফিস তাদের মৃত্যুর কারণ তদন্ত শুরু করে।
Posted ১:০১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3055 বার পঠিত)
(2352 বার পঠিত)