বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
সারা উত্তর আমেরিকায় ২৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) ধুমধামের সাথে পালিত হবে ‘থ্যাঙ্কস গিভিং’ উৎসব। দিনটি সরকারি ছুটির দিন। নভেম্বার মাসের চতুর্থ বৃহস্পতিবার থ্যাংকস গিভিং উদযাপিত হয়, সে হিসেবে এ বছরের ২৭ নভেম্বার বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে থ্যাঙ্কস গিভিং ডে।
থ্যাঙ্কস গিভিং ডে’র মূল উদ্দেশ্য, পরিবার, প্রতিবেশি, বন্ধুবান্ধবসহ সকলে একত্রিত হয়ে প্রত্যেকের জীবনের প্রতিটি সাফল্যের জন্য, দেশ ও জাতির সাফল্যের জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানানো। যদিও আমেরিকানদের অনেকেই জানেনা থ্যাঙ্কস গিভিং কবে থেকে শুরু, কেনই বা উৎসবটির নাম থ্যাঙ্কস গিভিং ডে হলো, কাকেই বা এমন ঘটা করে থ্যাঙ্কস জানানো হচ্ছে! তারা জানে, থ্যাঙ্কস গিভিং মানেই পার্টি, বিশাল ভোজ আয়োজন, পারিবারিক মিলনমেলা। ভুরিভোজনের তালিকায় থাকে টার্কী রোস্ট, ক্র্যানবেরি সস, মিষ্টি আলুর ক্যান্ডি, স্টাফিং, ম্যাশড পটেটো এবং ঐতিহ্যবাহী পামকিন পাই। আর কিছু না হোক, অতি সাধারণ আয়োজনেও টার্কী রোস্ট উইদ ক্র্যানবেরী সস এবং পামকিন পাই থাকবেই। অর্থাৎ থ্যাঙ্কস গিভিং মানেই টার্কী।
কেউই থ্যাঙ্কস গিভিং ডে’র ভাবার্থ বা উদ্দেশ্য নিয়ে মাথা ঘামায় না। অতি গুরুত্বপূর্ণ ছুটির দিনটি পরিবারের সকলে মিলেই কাটায়, একসাথে খাওয়া দাওয়া করে, টিভিতে ফুটবল গেইম দেখে অথবা থ্যাঙ্কস গিভিং প্যারেড দেখে। থ্যাঙ্কস গিভিং প্যারেডে পিলগ্রিম (ব্রিটিশ অরিজিন, যারা ধর্মযাজক হিসেবে অজানার ঊদ্দেশ্যে সমুদ্রযাত্রা করেছিল এবং সপ্তদশ শতাব্দীতে আমেরিকার মেসাচুসেটসে প্লীমথ কলোনীতে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়), আমেরিকান ইন্ডিয়ান (আদি আমেরিকান)দের ডিস্পলে দেখানো হয়ে থাকে। থ্যাঙ্কস গিভিং ডে’র সারাদিন আনন্দে কাটিয়ে সকলেই প্রস্তুত হয় পরেরদিন ‘থ্যাঙ্কস গিভিং সেল’ এর জন্য। প্রতি বছর, আমেরিকায় থ্যাঙ্কস গিভিং সেল এর রমরমা ব্যবসা দেশটির অর্থনীতির সূচককাঁটা ঘুরিয়ে দেয়। ফলে থায়ঙ্কস গিভিং ডে’র ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য অপেক্ষা বাণিজ্যিক দিকটাই বেশি প্রকাশিত হয়ে পরে।
থ্যাংকস গিভিং ডে’র ইতিহাস: থ্যাংকস গিভিং ডে উৎসব হিসেবে পালিত হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিষাদময় ইতিহাস। ১৬২০ সালে ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমস একটি চার্চ নির্মাণ করেছিলেন। তিনি সবাইকে ওই চার্চে রাজার প্রথানুসরণ করতে বাধ্য করতে শুরু করেন। কিন্তু অনেক ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টানই এর বিরোধিতা করেন। তারা রাজার চার্চে না গিয়ে সাধারণ চার্চেই ধর্মচর্চা অব্যাহত রাখেন। কিন্তু এক সময় তাদের নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। বাকিরা তখন বাড়িঘর বিক্রি করে হল্যান্ডে পাড়ি জমান। কিন্তু সেখানেও তারা কিছু সমস্যার মুখোমুখি হন। এরপর তারা ‘মে ফ্লাওয়ার’ নামের একটি জাহাজে করে আমেরিকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ওই জাহাজে ১০২ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা যায়। তাদের বলা হতো ‘পিলগ্রিমস’।
ওই দলটিতে ৭০ জন নারী ও পুরুষ ছিলেন। বাকিরা ছিল শিশু। দলটির সবাই উচ্চ শিক্ষিত ছিলেন বলে জানা যায়। জাহাজে তাদের পানি ও খাবারের সংকটসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হয়েছিল। ডিসেম্বরে তীব্র শীতের মধ্যে তারা ম্যাসাচুসেটসে (বর্তমান বস্টন) পৌঁছান। দলটিতে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক ও বিচারক থাকলেও কর্মী শ্রেণির মানুষ ছিল না। ফলে তারা ঠিকঠাকভাবে বাড়িঘর বানাতে পারেননি বলে জানান ইতিহাসবিদরা। শীতের তীব্রতায়, অসুস্থতায় অনেক পিলগ্রিমসই মারা যান। শেষ পর্যন্ত দলটির মাত্র ৫৪ জনই বেঁচে ছিলেন। তাদের বসতির কাছাকাছিই ছিল রেড ইন্ডিয়ানদের গ্রাম। তাদের কাছ থেকেই চাষবাস ও কাঠ কেটে বাড়ি বানাতে শিখে নেয় পিলগ্রিমসরা।
এরপর গ্রীষ্মে তারা প্রচুর ফসল ফলাতে সক্ষম হয়। এরপরই মূলত তারা সবকিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাতে একটি উৎসবের আয়োজন করে। ওই উৎসবে তারা রেড ইন্ডিয়ানদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, উৎসবে রেড ইন্ডিয়ানদের ৯০জন অংশগ্রহণ করেছিলেন। টানা তিনদিন ধরে চলেছিল উৎসব।
ইতিহাসবিদরা জানান, ১৬২১ সালের ২৬ নভেম্বর ছিল প্রথম থ্যাংকস গিভিং ডে। এরপর থেকে পলিমাউথ উপনিবেশবাদীরা এবং রেড ইন্ডিয়ানরা একে শরৎকালীন উৎসব হিসেবে পালন করতে থাকেন। তখন কোন নির্দিষ্ট দিনে উৎসবটি পালিত হতো না। নিজেদের সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী তারা বছরের একটি দিনকে বেছে নিতেন। তবে ধীরে ধীরে নভেম্বরের শেষ বৃহস্পতিবারেই উৎসবটি পালনের প্রথা শুরু হয়। ১৮৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন একটি জাতীয় ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা দিবস উদযাপন করার আহ্বান জানান। তিনি নভেম্বর মাসের শেষ বৃহস্পতিবার ‘থ্যাংস গিভিং ডে’ হিসাবে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করেন।
‘থ্যাংকস গিভিং ডে’র পরের দিনকেই ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ বলা হয়ে থাকে। এ দিনের জন্যও মানুষের অপেক্ষার কমতি নেই। এক বছর ধরেই অপেক্ষার প্রহর গুণতে থাকেন আমেরিকার দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষজন কম দামে ভালো একটা কিছু কেনার জন্য দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই টিভি ও সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়ে দেয়া হয় তাদের পণ্যের মূল্যহ্রাসের তালিকা। শতকরা ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ মুল্যহ্রাস করা হয় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির। তবে এই দিনে অনেকের চাহিদা ইলেক্ট্রনিক্স দ্রব্য।
এর মধ্যে টিভি, ফ্রিজ, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, আইফোন, আইপ্যাড ইত্যাদি দ্রব্যের প্রতি মানুষের বেশি চাহিদা। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে দোকানের সামনে লাইন ধরে ভোর ৬টায় পর্যন্ত অপেক্ষা করেন দোকানে প্রবেশের জন্য। কিন্তু প্রতিবছরই ঘটে ব্যতিক্রম ঘটনা। ওইদিন রাত ১২টার পরিবর্তে রাত ৮-৯টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে যান হাজার হাজার মানুষ।
Posted ১২:০৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3054 বার পঠিত)
(2344 বার পঠিত)