নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ারস অ্যান্ড আর্কিটেক্টস (আবিয়া) এর নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের উদ্যোগে জাকজমকপূর্ণভাবে কালচারাল প্রোগ্রাম, পিঠা উৎসব ও বিজয় দিবস উদযাপিত হয়। কুইন্স ভিলেজের চঝ ১৩৫ছ স্কুলের হলরুমে বিকাল ৪ টা থেকে শুরু হওয়া উক্ত অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল “পিঠা উৎসব”। যেখানে আবিয়ার সদস্যরা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নানারকম ও নানা স্বাদের পিঠা পারিবারিকভাবে তৈরি করে নিয়ে আসে। গুণে ও স্বাদে অনন্য এরকম পিঠা প্রস্তুতকারী তিনজন ভাবীকে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান নির্ধারণ করাসহ পিঠা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল ভাবীকে পুরস্কারের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়।

আবিয়ার ফ্যামিলির মাধ্যমে তৈরি পিঠা ছাড়াও আবিয়ার কার্যকরী কমিটি নিজস্বভাবে ছয় রকম পিঠা ও এপিটাইজারের সমন্বয়ে পিঠার পেকেট অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের মাঝে বিতরণ করে। পিঠা উৎসবের পাশাপাশি আবেয়ার নিজস্ব আর্টিস্টদের মাধ্যমে নাচ, গান, আবৃত্তিসহ অন্যান্য কালচারাল প্রোগ্রাম চলে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত। সন্ধ্যা ৬ টার পর শুরু হয় অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্ব প্লেনারি সেশন। বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া প্লেনারি সেশনের প্রথমেই মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্লেনারি সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কে নিযুক্ত বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ইভেন্ট চেয়ার ছিলেন আবিয়ার নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সাবেক প্রেসিডেন্ট সামসুল সিদ্দিকী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন আবিয়ার সেন্ট্রাল কমিটির প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রাজ্জাক চোকদার।
উক্ত প্লেনারি সেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি, স্পন্সরস, শিল্পী, কলাকৌশলী, আবেয়ার শতাধিক মেম্বার ও তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তথ্যাবধানে ছিলেন আবিয়ার নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট সাজেদুল মোনায়েম শরীফ খান। তিনি তার বক্তৃতায় সংগঠনটির অতীত, বর্তমান ও ভবিষৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন এবং মুক্তি যোদ্ধা হাফিজ ভাইয়ের হাতে সম্মাননা তুলে দিতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আবিয়া নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট জনাব আমিনুল ইসলাম রিঙ্কন ও এক্টিং সেক্রেটারি নুরুল হক। জনাব আমিনুল তার বক্তৃতায় সামনের সময়গুলোতে তার নেতৃত্বে কি কি নতুনত্ব নিয়ে আসা হবে তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন।
প্লেনারি সেশনের সঞ্চালনায় ছিলেন চ্যাপ্টারের অ্যাক্টিং সেক্রেটারি নুরুল হক। প্লানিং থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত যারা অনুষ্টানের সহযাত্রী ও সহযোগী ছিলেন তারা হলেন কালচারাল সেক্রেটারি প্রবীর বিশ্বাস, অর্গানাইজেশন সেক্রেটারি মাহমুদুল ইসলাম শামীম, কার্যকরী সদস্য শিরহাদ মিয়া, কাজী নাফিজা আনজাম ও পারভেজ রেজা। যাদের সহযোহিতায় অনুষ্ঠানটি সাফল্যমণ্ডিত হতে পেরেছে তারা হলেন সাবেক সেক্রেটারি স্বপন সাহা, সাবেক ট্রেজারার সাবেহ সালিম তারেক, মাহমুদ চৌধুরী, দীপ্তি বড়ুয়া, তাহমিনা সারোয়ার, সাবিনা হাই, হীরালাল ও অন্যান্য ভলন্টিয়ারবৃন্দ।
উক্ত প্লেনারি সেশনে আবিয়া ফ্যামিলির নতুন গ্রাজুয়েটসদের সম্মাননা প্রদান, লাইফ মেম্বারদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ, পিঠা উৎসবে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণসহ বাংলাদেশের বিজয় দিবস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়। প্রধান অতিথি (কনস্যুল জেনারেল) তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের ভোটার হওয়া বিষয়ে তথ্য উপাত্ত্ব তুলে ধরেন।
বিজয় দিবসের ওপর আলোচনায় করতে গিয়ে তিনি যে একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান তা অবহিত করেন। প্লেনারি সেশনের পর ডিনারের জন্যে স্বল্প বিরতি দিয়ে প্রিয়া ডায়েস ও তার টিমের নেতৃত্বে নাচ চলে প্রায় আধা ঘন্টা। এর পর অতিথি শিল্পী অর্ণব ও কৃষ্ণা তিথির মনছোঁয়া দেশাত্ববোদক গানের শেষে প্রতিক হাছানের ননস্টপ গান, সেই সাথে নাচ, চলে রাত ১০.৩০ টা পর্যন্ত। সবার শেষে রাফেল-ড্র অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়।
Posted ১২:৫৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3054 বার পঠিত)
(2344 বার পঠিত)