বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্পে ইমিগ্রান্ট বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ‘আইস’ গত অক্টোবর মাসে নিউ জার্সির ওয়্যারহাউসে অভিযান চালিয়ে ৪৬ জন ইমিগ্রান্টকে আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যায়। তাদের সবাই যে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন তা নয়, অনেকেরই বৈধভাবে বসবাসের প্রমাণপত্রও ছিল। কিন্তু ‘আইস’ তাদের ধরে ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যায় এবং যাচাইবাছাইয়ের পর্যায়ে ও ইমিগ্রেশন আদালতের নির্দেশে অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুক্ত হওয়ার পর ইমিগ্রান্টরা অভিযোগ করেছে যে তাদেরকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে কাস্টমস বিভাগের অফিসারা সহায়তা করেছে, যারা ওয়্যারহাউসে পন্য প্যাকিংয়ের পর্যায়ে ওয়্যারহাউসগুলো পরিদর্শনের কাজে নিয়োজিত। কর্মীরা এক ধূসর অক্টোবরের সকালে তাদের শিফটে বসতি স্থাপন করেছিল যখন কয়েক ডজন অভিবাসন এজেন্টরা বিল্ডিংটি ঘেরাও করে।
দীর্ঘ রাইফেল বহনকারী মুখোশধারী অফিসাররা বেরোনোর পথ অবরুদ্ধ করে এবং লুকিয়ে থাকা কর্মচারীদের খুঁজে বের করার জন্য কুকুর এবং হিট ডিটেক্টর ব্যবহার করে।
একটি হেলিকপ্টার চক্কর দেয়। কয়েক ঘন্টার মধ্যে, এজেন্টরা ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যা ফেডারেল কর্মকর্তারা বলেছেন যে দিনের কর্মশক্তির প্রায় এক-চতুর্থাংশ প্রতিনিধিত্ব করে। নিউ জার্সির অ্যাভেনেল এর একটি ওয়্যঅরহাউসে শ্রমিকরা অক্টোবরের এক সকালে যখন তাদের নিয়মিত কাজে নিয়োজিত ছিল, তখন কয়েক ডজন ইমিগ্রেশন এজেন্ট ওয়্যারহাউসটি ঘেরাও করে। তাদের প্রায় সবাই মুখোশ পরিহিত ও দীর্ঘ রাইফেলধারী ছিল। তারা ওয়্যারহাউসের নির্গমন পথগুলো বন্ধ করে দেয় এবং কেউ লুকিয়ে আছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য কুকুর ও হিট ডিটেক্টর ব্যবহার করে। এ অভিযান চলাকালে আকাশে চক্কর কাটছিল একটি হেলিকপ্টার। তারা ৪৬ জন কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়।
ওয়্যারহাউসটি স্বল্প পরিচিত স্থানে অবস্থিত এবং ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টরা দীর্ঘদিন যাবত তাদের টার্গেট হিসেবে রেখেছিল। কাস্টমস অফিসারগণ নিয়মিত ওয়্যারহাউস পরিদর্শন করেন এবং আমদানি শুল্ক যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করেন। ওয়্যারজাউসে তারা যখনতখন আসতেন এবং তাদের যাতায়াত অবাধ ছিল। কিন্তু অক্টোবরের সেই দু:খজনক দিনে তারা এসেছিলেন ওয়্যারহাউসের শ্রমিকদের ধরার জন্য সহায়তা করতে।
বন্ডেড ওয়্যারহাউস হিসেবে পরিচিত ওয়্যারহাউসটি একটি আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দরের নিকটবর্তী এবং নর্থ জার্সিতে এ ধরনের বহু ওয়্যারহাউস রয়েছে। ফেডারেল ইমিগ্রেশর এজেন্টরা গত অক্টোবরের পূর্ববর্তী চার মাসে অন্তত তিনটি ওয়্যারহাউসে অভিযান চালিয়েছে অবৈধ ইমিগ্রান্ট পার্কড়াও এর উদ্দেশ্যে।
শ্রমিক অধিকার প্রবক্তরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইমিগ্রান্ট বিরোধী অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেছে যে, আইস’ এই এলাকার আমদানি-রপ্তানি শিল্প ঘিরে তাদের জাল ফেলেছে। অভিযানে শ্রমিকদের আটক করার ক্ষেত্রে কাস্টমস অফিসারগণই বেশি ভূমিকা রেখেছে। অথচ শ্রমিকদের মধ্যে অনৈকেরই ওয়ার্ক পারমিট এবং বৈধতা ছিল। ফেডারেল কর্মকর্তারা বলেছেন যে ওয়ার্ক পারমিট এবং বিবেচনাধীন এসাইলাম আবেদন কাউকে আইনি বৈধতা প্রদান করে না।
Posted ১২:২৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3054 বার পঠিত)
(2344 বার পঠিত)