বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জানুয়ারি মাসকে ‘মুসলিম আমেরিকান হেরিটেজ মান্থ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিল্প, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলিম আমেরিকানদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হলো।
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সর্বোচ্চ বসবাস যেখানে রয়েছে, সেই এলাকায় এ ঘোষণা তাদের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক জীবনে কেন্দ্রীয় ভূমিকার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও গভর্নর ক্যাথি হোকুলের ২০২৬ সালের এই ঘোষণাটি নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানি নির্বাচিত হওয়ার সময়ের সঙ্গে মিলেছে, তবে রাজ্য কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে এই দুটি ঘটনার মধ্যে একে অপরের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।
গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেন, রাজ্য মুসলিম আমেরিকানদের মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও ঐতিহ্য উদযাপন করতে চায় এবং একই সঙ্গে ইসলামোফোবিয়া, ঘৃণা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে। প্রতীকী উদ্যোগের অংশ হিসেবে জানুয়ারি মাসে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সবুজ আলোয় আলোকিত করা হবে।
এর মধ্যে রয়েছে ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, কোসিয়াসকো ব্রিজ, নায়াগ্রা ফলস এবং এম্পায়ার স্টেট প্লাজা।
নিউইয়র্ক রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা দেশের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ। গ্লোবাল স্ট্যাটিসটিকস-এর সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যটিতে প্রায় ৭ লাখ ২৪ হাজার মুসলিম বসবাস করেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩.৭ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুসলিম বাস করেন নিউইয়র্ক সিটিতে। ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিং (ISPU) পরিচালিত গবেষণা ও আউটরিচ প্রকল্প ‘মুসলিমস ফর আমেরিকান প্রোগ্রেস (MAP)’-এর ২০১৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, শহরটিতে ৭ লাখের বেশি মুসলিম বসবাস করতেন, যা তখন শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ। তারা নগর জনসংখ্যার একটি দৃশ্যমান ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই পরিসংখ্যান একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতারই প্রতিফলন। অভিবাসন ও স্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে দশকের পর দশক ধরে মুসলিম জনসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
এর ফলে রাজ্যের সামাজিক বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে ঘিরে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ফলে মুসলিম ইতিহাস ও অবদানের জন্য একটি পূর্ণ মাস উৎসর্গ করা কেবল প্রতীকী কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত জনসংখ্যাগত ও সাংস্কৃতিক উপস্থিতির প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র এবং প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন,“শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলমানরা নিউইয়র্কের অংশ। আমরা ছোট ব্যবসা গড়েছি, পরিবার বড় করেছি, সব ধরনের পেশায় কাজ করেছি, আমাদের সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস তৈরি করেছি যা আজকের নিউইয়র্ককে গড়ে তোলার অংশ হয়েছি।”
একইভাবে স্টেটেন আইল্যান্ড থেকে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম আইনপ্রণেতা চার্লস ডি. ফল বলেন,“মুসলিম নিউইয়র্কাররা প্রতিবেশী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মচারী হিসেবে আমাদের কমিউনিটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গভর্নর হোকুলের এই ঘোষণা একটি সহজ সত্যকে সামনে আনে—নিউইয়র্ক তখনই সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করে, যখন এর নেতৃত্ব জনগণের প্রতিফলন ঘটায়।এই ঘোষণার মাধ্যমে নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জাতিগত ও সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাজে মুসলিম আমেরিকানদের দীর্ঘস্থায়ী অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল।
Posted ১২:৪৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3054 বার পঠিত)
(2344 বার পঠিত)