বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২২
স্বাভাবিক মৃত্যু ছাড়া অন্যান্য যেসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের মৃত্যু ঘটে সেগুলোর মধ্যে ১০ম স্থানে রয়েছে আত্মহত্যা। জাতিগোষ্ঠী ও বয়স অনুযায়ী ভাগ করলে এশিয়ান-আমেরিকান তরুণদের মৃত্যুতে আত্মহত্যার স্থান প্রথমে। জাতিগত বিদ্বেষের কারণে এশিয়ান-আমেরিকানরা শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ এবং হিসপানিকদের দ্বারা গুলির শিকার হচ্ছে সাধারণভাবে ধারণা করা হলেও সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী এশিয়ান-আমেরিকানরা সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যাপ্রবণ।
সিডিসি’র সংজ্ঞা অনুযায়ী আত্মহত্যা হচ্ছে, “ডেলিবারেট অ্যাক্ট অফ সেলফ-ডাইরেক্টেড ভায়োলেন্স।” বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে এশিয়ান-আমেরিকানরা ছাড়া আমেরিকায় বসবাসকারী অন্য কোনো জাতিগোষ্ঠীর তরুণদের মধ্যে এত ব্যাপক আত্মহত্যাপ্রবণতা দেখা যায় না। এ ব্যাপারে কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠান খুব মনোযোগী হয়েছিল এমনও দেখা যায় না। এ গবেষণা না হওয়ার আরেকটি কারণ ছিল এশিয়ান-আমেরিকানদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে তারা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ব্যাপারে তেমন আগ্রহ প্রদর্শন করেনি।
অ্যামেলিয়া নূর-ওশিরো নামে এক গবেষক দ্য কনভারসেশন ম্যাজাজিনে এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে বহু কারণেই এশিয়ান-আমেরিকানদের পক্ষে আত্মহত্যা সম্পর্কে আলোচনা করা কঠিন- সামাজিক লজ্জা ও কলঙ্ক, কুসংস্কার অন্যতম। মরণশীলতা ও মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন এশীয় সংস্কৃতিতে কথা বলা অশুভ বিবেচনা করা হয়। তিনি বলেন, “আমাদেরকে এই নীরবতা ভেঙে বাইরে আসতে হবে। কারণ বহু ওঠতি বয়সের এশিয়ান আমেরিকানের আজ বিপন্ন হয়ে পড়েছে শুধুমাত্র রাখঢাক করার কারণে।”
ওশিরো নিজে একজন পিএইচডি ক্যান্ডিডেট, যিনি পাবলিক হেলথ নিয়ে পড়াশোনা করছেন, এবং তার গবেষণার বিশেষ দিক হচ্ছে আমেরিকার সংখ্যালঘূ জনগোষ্ঠীগুলোর মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত গষেণায় বৈষম্য। তিনি বলেন যে তার মনে হয় সহিংসতা, আত্মহত্যা এবং বৈষম্য কীভাবে এশিয়ান আমেরিকান জীবনকে প্রভাবিত করছে তা জানা ও সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করা জরুরী হয়ে পড়েছে। তা না হলে এশিয়ান তরুণ সমাজের মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতা দিনে দিনে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে যখন কোনো এশিয়ান আমেরিকান তরুণ আত্মহত্যা করে তখন শুধু এটিই একমাত্র কারণ হয়ে দাঁড়ায় না যে তিনি কোনো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিলেন। ঘটনার বিশদ অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া যায় যে আত্মহত্যার চেষ্টা বৃদ্ধি পায় যখন আত্মহত্যা করার জন্য উপযোগী উপকরণ, যেমন, বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র সহজে পাওয়া যায় অথবা এমনও হতে পারে যে তার পরিচিত কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন, তিনি সেই উপায় অবলম্বনের প্ররোচিত হন। কিন্তু এটাই যে আত্মহত্যার একমাত্র কারণ, তা নয়, আরও সঙ্গত কারণ থাকতে পারে, যা একজন ব্যক্তিকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করে।
গবেষকরা জানার চেষ্টা করছেন যে কারা ঝুঁকিতে রয়েছেন। কেউ আত্মহত্যা করতে পারে, সে সম্পর্কে টের পাওয়া এবং শেষপর্যন্ত তাকে আত্মহত্যা করা থেকে প্রতিহত করার উপায় বের করার চেষ্টা করছেন তারা। কিন্তু গবেষণায় যে পরিমাণ উদ্যোগ ও ব্যয় প্রয়োজন তা নেই।
Posted ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২২
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh