বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
বক্তব্য রাখছেন গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির সভাপতি জাহিদ মিন্টু।
নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নির্মিত বৃহত্তম কবরস্থান প্রকল্প ‘স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিটারির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ জুন। একইসঙ্গে আগামী ১ জুলাই থেকে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে দাফন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটি।
নিউইয়র্ক স্টেটের অরেঞ্জ কাউন্টির স্কচটাউনে ১২৬ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এ কবরস্থান প্রকল্পকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে বড় সমাধিক্ষেত্র হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে গত ১১ জুন জ্যাকসন হাইটসের মুনলাইট গ্রিল রেস্টুরেন্টে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির সভাপতি এবং প্রকল্পটির উদ্যোক্তা জাহিদ মিন্টু। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এএসএম মাঈন উদ্দিন পিন্টু। সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি আব্দুর রব মিয়া, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হাজি মফিজুর রহমান, ট্রাস্টি সদস্য আবুল কামাল, সিনিয়র সহ-সভাপতি তাজু মিয়া, সহ-সভাপতি এনামুল হক রুমি, ট্রাস্টি সদস্য খোকন মোশারফ, উপদেষ্টা মাইনুল উদ্দিন মাহবুব, হাজি মমিনুল ইসলাম, মোস্তাক মোশাররফ হোসেন, শাহ নাসের স্বপন, শাহ আলম, করিম চৌধুরী, মালেক খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক রুবেল চৌধুরী, সহ-কোষাধ্যক্ষ জামাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল ইসলাম বাবু, ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুর রহিম, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, সদস্য ইকবাল হোসেন, হাসানুজ্জামান বাদল, মাহমুদুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলীও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাহিদ মিন্টু। তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ কবরস্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটি ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর নগদ অর্থে ১২৬ একর জমি ক্রয় করে। বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতায় প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয়। তিনি জানান, বাংলাদেশ সেমিট্রিতে পর্যায়ক্রমে এক লাখেরও বেশি কবর নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের উন্নয়নকাজ শুরু হয় ৩১ জুলাই ২০২৫ সালে। নানা প্রতিবন্ধকতা ও অপপ্রচার মোকাবিলা করেও সংগঠনটি সফলভাবে কাজ এগিয়ে নিয়েছে।
জাহিদ মিন্টু বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাফন কার্যক্রম শুরু হবে। এর আগে ২০ জুন স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রি প্রাঙ্গণে কবর ক্রেতা ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।তিনি আরও বলেন, যারা কবর বুকিং দিয়ে বাকি অর্থ পরিশোধ করেননি, তাদের দ্রুত যোগাযোগ করে চুক্তি অনুযায়ী বকেয়া অর্থ পরিশোধের আহ্বান জানানো হচ্ছে। অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট কবরের জায়গা হস্তান্তর ও চিহ্নিতকরণের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না।
ফিউনারেল সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র দাফন কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ ফিউনারেল হোম স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে কাজও শুরু হয়েছে।সংগঠনের তথ্যমতে, প্রথম ধাপে ২০ হাজার কবর বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং ১১ জুন পর্যন্ত সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। প্রতিটি কবরের জন্য দাফন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ ডলার। শিশু (ইনফ্যান্ট) দাফনের ক্ষেত্রে ব্যয় হবে ১ হাজার ২০০ ডলার। যাদের আগে থেকে কবর সংরক্ষিত নেই, তাদের জন্য মোট ব্যয় হবে ৩ হাজার ৫০০ ডলার। এছাড়া প্রতিটি হেডস্টোনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২৫০ ডলার এবং সব হেডস্টোন একই নকশার হবে।সেমিট্রি প্রাঙ্গণে জানাজার জন্য অস্থায়ী ভবন, পানীয় জল ও ওজুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের কাজও শিগগিরই শুরু হবে। কবর খনন, দাফনসহ অধিকাংশ কার্যক্রম আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় মেশিনারি সংগ্রহ ও জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।প্রাথমিকভাবে সোমবার থেকে শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দাফন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। রোববার দাফনের বিষয়টি বিশেষ পরিস্থিতিতে বিবেচনা করা হবে।
জাহিদ মিন্টু জানান, আগামী জুলাই-আগস্ট থেকে দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ৪২ হাজার নতুন কবরের উন্নয়নকাজ শুরু হবে। দ্বিতীয় ধাপের কবরের মূল্য সংগঠনের উপদেষ্টা, ট্রাস্টি ও নির্বাহী পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা এ প্রকল্প নিয়ে অপপ্রচার করেছেন, তাদের প্রতি আহ্বান—ভালো কাজে সহযোগিতা করতে না পারলে অন্তত বাধা সৃষ্টি করবেন না। আল্লাহ তাদের হেদায়েত করুন।তিনি আরও বলেন, গুলশান টেরেসে অনুষ্ঠিত প্রথম কবর বিক্রয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী যারা এখনো যোগাযোগ করেননি, তারা যোগাযোগ করলে সংগঠন তাদের বিষয়ে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করবে। শেষে তিনি ২০ জুনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতাকারী সকল ব্যক্তি, দাতা, উপদেষ্টা, ট্রাস্টি, কার্যকরী পরিষদের সদস্য এবং বৃহত্তর নোয়াখালীসহ সমগ্র প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
Posted ৫:২১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3060 বার পঠিত)
(2412 বার পঠিত)