বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকাকে ঘিরে চলমান বিরোধের মধ্যে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে মাকসুদ-মাসুদ পরিষদ। তারা অভিযোগ করে বলেছেন, কোরামবিহীনভাবে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং জোরপূর্বক ভবন ও ব্যাংক হিসাব নিয়ন্ত্রণে রেখে সংগঠন পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে। গত ১৫ জুন সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হোসেন সিরাজির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্বও করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের কো-চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজি, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হাসান চৌধুরী, উপদেষ্টা মোহাম্মদ দিদার, তারিখ চৌধুরী দীপু, সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোক্তাদির বিল্লাহ, সহ-সভাপতি আকবর আলী বাপ্পি, সহ-সভাপতি আইফুর আনসারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন ভূইয়া, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সুমন উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফরহাদ, দপ্তর সম্পাদক শিমুল বড়ুয়া, সহ দপ্তর সম্পাদক জয়নাল আবেদীন আতিক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল অদুদ, ক্রীড়া সম্পাদক জাহেদুল আজম, কার্যকরি সদস্য নূরুস সোফা, মোহাম্মদ শওকত আলী, খাইরুল বাসার, অমল বড়ুয়া, বিধান বড়ুয়া প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে মাকসুদুল হক চৌধুরী বলেন, চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা এই প্রবাসের অন্যতম একটি বৃহৎ সংগঠন, যা মৃতের সৎকারের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৮৯ সালে, তখন এ সংগঠনের নাম ছিল চট্টগ্রাম সমিতি যা পরবর্তী সময়ে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কয়েক বছর কোনো সমস্যা না থাকলেও ১৯৯৭ সালে ভবন ক্রয়ের পর থেকেই একটি মহল এ সংগঠনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
প্রতিষ্ঠার সময় কোন রূপ সহযোগিতা না করলেও ভবন ক্রয়ের পর ওই লোকগুলো সংগঠনটির মালিক বনার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় তারা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপের পক্ষে সমর্থনের নামে সংগঠনটিকে দফায় দফায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ২০০৯ সালে সাধারণ সভায় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ তার বিরোধী গ্রুপের সদস্যদের ওপর দেশীয় স্টাইলে সিকিউরিটির সদস্যদের লেলিয়ে দিয়ে চরম নির্যাতন করে সংগঠনটিতে পেশিশক্তি ব্যবহারের সূচনা করেছিল, যা আজও অব্যাহত। ২০০৯ সালের সেদিনের নির্যাতনে আহত হয়ে সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বাবর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল, আরো আহত হয়েছিল কামাল হোসেন মিঠু, এনাম চৌধুরী, তরিকুল হায়দার চৌধুরী, ফোরকান উদ্দিন, এহতেশামুল হক শিমুলসহ অনেকেই। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কোন এক জাদুর বলে বর্তমানে মোহাম্মদ হানিফের পাশের চেয়ারে বসে থাকে, উদ্দেশ্য একটাই চিটাগং অ্যাসোসিয়েশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া।
তিনি আরো বলেন, চিটাগং অ্যাসোসিয়েশনের আর্থিক হিসাবের সমস্যা শুরু ২০১৪ সাল থেকে। তখন মো. তাহের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, সভাপতি আকবর আলী এবং কোষাধ্যক্ষ মো. মোক্তাদির বিল্লাহর বিপরীত প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার কারণে তিনি কার্যকরি পরিষদের সব কাজে তখন উল্টো পথে হাঁটতেন। তার নিজের কোনো মতামত দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না সে তার মুরুব্বি কাজী আজম, মনির আহমদ, শামসু, এনাম প্রমুখের পরামর্শ নিয়ে কার্যকরি পরিষদের সভায় উপস্থিত হতেন। ফলে আজো মোহাম্মদ তাহের তার সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সময়ের হিসাব দেয়নি, জানতে চাইলে বলে তার কাছে কোনো হিসাব নেই।
একইভাবে এ গ্রুপটি ২০১৭ সালে নির্বাচনের ছয় মাস পার হতে না হতে, তৎকালীন সভাপতি মরহুম আবদুল হাই জিয়ার কমিটি থেকে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম, কামাল হোসেন মিঠু, আরিফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কার্যকরি পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছিল, উদ্দেশ্য একটাই যেন সংগঠনটির মধ্যে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যায়, মরহুম জিয়াকে সঠিকভাবে সংগঠনটি পরিচালনা করতে দেয়নি তারা, তিনি নির্বাচন দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেও তথাকথিত মুরুব্বি এবং তার কমিটির কয়েকজন সদস্যের অসহযোগিতার কারণে নির্বাচন দিতে পারেননি। হিসাবের কাগজপত্র নিয়ে অনেকের ধারে ধারে গিয়েছিলেন কিন্তু ঠিক একই কারণে তা দিতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে করোনার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। এসবের পেছনেও একই গ্রুপ কলকাঠি নেড়েছেন, এ মানুষগুলোর কাজই হচ্ছে মানুষের সঙ্গে মানুষের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা, সংগঠনের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি করে রাখা। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী, শাহজাহান সিরাজি, মাসুদ হোসেন সিরাজি, মোক্তাদির বিল্লাহ ও আহসান হাবিব।
Posted ৫:১৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3060 বার পঠিত)
(2412 বার পঠিত)