নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে নিউইয়র্কে ‘জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন’-এর উদ্যোগে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে নিউইয়র্ক সময় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টায় ভাষা শহীদদের স্মরণে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও সম্মেলন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেলের কার্যালয়ের প্রধান অ্যান লাফেবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার সংগ্রাম কেবল বাংলাদেশের ইতিহাস নয়, বরং বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং বহুভাষিকতার প্রসারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি টেকসই সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে বহুভাষাবাদকে সংযুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য বক্তারা ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Many languages, one future: Youth voices on multilingual education’-এর তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন ভাষাগত বৈচিত্র্য কেবল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক নয়, বরং টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। আজকের তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের নীতি-নির্ধারক, উদ্ভাবক ও নেতৃত্বদানকারী শক্তি; তাই বহুভাষিক শিক্ষার ক্ষেত্রে তাদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেয়া মানে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা। মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুর সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বিকশিত হয়, একই সঙ্গে অন্যান্য ভাষা শেখার সুযোগ তাদের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। আমরা যদি সত্যিই ‘এক ভবিষ্যৎ’ গড়তে চাই, তবে ‘বহু ভাষা’-র শক্তিকে স্বীকার করে শিক্ষা ব্যবস্থায় ভাষাগত বৈচিত্র্যকে সম্মান ও সংরক্ষণ করতে হবে, এবং সেই অভিযাত্রায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো নিউইয়র্ক অফিসের লিয়াজোঁ অফিসার ভ্যালেরি পেটিট, মাল্টিলিঙ্গুয়ালিজম অফিসার ইসাবেল বিলটারিস এবং ইউনেস্কো নিউইয়র্ক অফিসের কর্মকর্তা মিকাঈল কাই নমুড়া। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকবৃন্দ, জাতিসংঘ সচিবালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত অতিথিদের সম্মানে ইফতার পরিবেশন করা হয়।
Posted ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3053 বার পঠিত)
(2341 বার পঠিত)