মিশিগান : | শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মিশিগানে বসবাসরত হাজারো বাংলাদেশি আমেরিকানের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবতার আরও কাছাকাছি এলো। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অফিসের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই ডেট্রয়েট শহরে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি অফিস চালু করা হবে-এমন আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে গত ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার মিশিগানের হ্যামট্রামেক শহরের গেটস অব কলম্বাস হলরুমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্সের মাধ্যমে নয়, বহুমাত্রিক অবদানে বাংলাদেশের অগ্রগতির অংশীদার।
সেই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই ডেট্রয়েটে স্থায়ী দূতাবাস অফিস খোলার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। রাষ্ট্রদূত জানান, এখন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অফিসের প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষা। সেটি পাওয়া গেলে ডেট্রয়েট থেকেই কনসুলার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। এর ফলে মিশিগান ও পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিরা পাসপোর্ট, ভিসা, নথি প্রত্যয়নসহ বিভিন্ন সেবা পেতে আর দূরে কোথাও ছুটতে বাধ্য হবেন না।
সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। দূতাবাসের কর্মকর্তারা সালাউদ্দিন মাহমুদ, মাহবুবুর রহমান ও আরিফুর রহমান প্রবাসীদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে হ্যামট্রামেক সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি আমেরিকান বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলররা রাষ্ট্রদূতের হাতে একটি আনুষ্ঠানিক প্রোক্লেমেশন তুলে দেন, যা সভায় উপস্থিতদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ সৃষ্টি করে।
মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া প্রবাসী নেতারা এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। তারা বলেন, মিশিগানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করলেও এতদিন কনসুলার সেবা নিতে অন্য অঙ্গরাজ্যে যেতে হয়েছে, যা সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই ভোগান্তির। ডেট্রয়েটে দূতাবাস অফিস চালু হলে সেই ভোগান্তির অবসান ঘটবে—এমন প্রত্যাশা আর আশার কথাই সভাজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়।
Posted ১০:৫৩ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3053 বার পঠিত)
(2341 বার পঠিত)