বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক : | বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাজনীতিতে ক্ষমতার বড় ধরনের রদবদল ঘটে গেছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণ এবং শক্তিশালী এস্টাবলিশমেন্টকে এক প্রকার গুঁড়িয়ে দিয়েছেন জোহরান মামদানি। মাত্র এক বছর আগে অ্যান্ড্রু কুওমোকে হারিয়ে নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক মেয়র প্রাইমারিতে বিশ্বকে চমকে দেওয়া মামদানি এবার প্রমাণ করলেন— সেই জয় কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন যুগের সূচনা। সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচনে তার সমর্থিত প্রার্থীদের বিশাল জয় তাকে নিউইয়র্ক রাজনীতির নতুন এক ‘ক্ষমতা নিয়ন্ত্রক’ (পাওয়ার ব্রোকার) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
জোহরান মামদানির এই রাজনৈতিক উত্থান ও ক্ষমতার লড়াইয়ের মূল বিষয়গুলো হলো—
এস্টাবলিশমেন্টের পতন ও মামদানির ত্রিমুখী বিজয়
হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিসের মতো হেভিওয়েট নেতারা যেখানে তাদের অনুগত দুজন বর্তমান সংসদ সদস্যকে হারিয়েছেন, সেখানে মামদানি নিজের পছন্দের প্রার্থীদের জিতিয়ে এনেছেন। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে রাজনীতি ও কংগ্রেসে থাকা আদ্রিয়ানো এস্পাইলাতের মতো প্রভাবশালী নেতাকে মাত্র ১০ মিনিটের এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় নিজের পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে। মামদানির সমর্থনে আবিলা শেভালিয়ার ও ক্লেয়ার ভালদেজের মতো নতুন মুখেরা কংগ্রেসের দিকে পা বাড়িয়েছেন, যাদের মামদানির সমর্থন ছাড়া জেতা অসম্ভব ছিল।
নিজের শর্তে ‘বিপ্লব’ এবং সহযোগীদের ক্ষোভ
মামদানি এবং তার ঘনিষ্ঠদের মতে, এটিই হচ্ছে তাদের নিজস্ব শর্তে গড়া এক ‘বিপ্লব’। তবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পুরোনো ও একসময়ের বিদ্রোহী নেতারা এখন মামদানির এই একচেটিয়া আচরণে ক্ষুব্ধ। অনেকের মতে, মামদানি কেবল নিজের শর্তেই মিত্রতা করতে পছন্দ করেন। ফলে সিটি কাউন্সিলের অনেক সদস্য এখন তার এজেন্ডার ফাণ্ড আটকে দেওয়া বা তাকে অন্য উপায়ে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা করছেন।
যেভাবে হেভিওয়েটদের নিশানা করলেন মামদানি
মেয়র হওয়ার পর মামদানিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে জেফরিস বলেছিলেন— যদি কারও পেছনে লাগতে হয়, তবে যেন তার (জেফরিসের) পেছনে লাগে। শুরুতে মামদানি সরাসরি জেফরিসের সঙ্গে সংঘাতে যাননি, বরং জেফরিসের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে যাওয়া নিজের এক বন্ধুকে ‘ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট অব আমেরিকা’-এর মাধ্যমে থামিয়ে দিয়েছিলেন। তবে কৌশলগত কারণে তিনি অন্যদের ঠিকই নিশানা করেছেন।
ইসরায়েল বিরোধী অবস্থানের কারণে ড্যান গোল্ডম্যান গত বছর মামদানিকে সমর্থন না দিলেও, গোল্ডম্যানের নিজস্ব এলাকা থেকেই ভোটাররা মামদানিকে বিপুল ভোট দেয়। এবার মামদানি কৌশল করে ব্রাড ল্যান্ডারকে গোল্ডম্যানের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেন এবং ল্যান্ডারের হয়ে নিজে মাঠে নেমে এক বড় ব্যবধানের জয় ছিনিয়ে নেন।
প্রবীণ কংগ্রেসওম্যান ভেলাজকুয়েজ গত বছর মামদানিকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু এবার তার আসনে উত্তরসূরি মনোনয়নের ক্ষেত্রে ভেলাজকুয়েজের পছন্দকে পাত্তাই দেননি মামদানি। পুয়ের্তো রিকান বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের বাদ দিয়ে মামদানি তার অনুগত ক্লেয়ার ভালদেজকে সমর্থন দেন, যা ভেলাজকুয়েজ জানতে পারেন সংবাদপত্রের মাধ্যমে। এই ক্ষোভে তিনি মামদানির সঙ্গে নির্ধারিত ডিনার পর্যন্ত বাতিল করেন।
ইহুদি ভোটার ও কৃষ্ণাঙ্গ নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব
ইসরায়েলের কড়া সমালোচক হওয়ায় নিউইয়র্কের একটি বড় অংশের ইহুদি ভোটারদের কাছে মামদানি বিতর্কিত। সম্প্রতি একটি সমাবেশে তিনি ইসরায়েলপন্থি লবিং গ্রুপ ‘আইপ্যাক’-কে ‘মনোয়ার্স’ বা দানব বলে আখ্যা দেওয়ায় ইহুদি নেতাদের তোপের মুখে পড়েন।
ড্যান গোল্ডম্যানের মতে, মামদানি নিউইয়র্ক শাসনের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি নিয়ে বেশি চিন্তিত ও তিনি ইহুদিদের জন্য এক বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি করছেন। শুধু তাই নয়, নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমসের মতো কৃষ্ণাঙ্গ ও ল্যাটিনো নেতারাও মামদানির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, মামদানি নিউইয়র্কের জাতিগত ও শ্রেণিগত সংস্কৃতির গভীরতা বোঝেন না।
Posted ১০:৫৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh