বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্ক। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটিতে বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় দেশের অনেক এলাকার তুলনায় বেশি। তবে এই উচ্চ ব্যয়ের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে নিউইয়র্ক স্টেট সরকার এবং নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন কয়েক দশক ধরে বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর লাখো বাসিন্দা এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সুবিধা, শিশু পরিচর্যা, জ্বালানি ব্যয়, কর-সুবিধা এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। যদিও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা রয়েছে যে এসব সুবিধা কেবল নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য, বাস্তবে অনেক কর্মসূচি শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী, কর্মজীবী পরিবার, নতুন বাবা-মা এবং নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও উন্মুক্ত।
নিউইয়র্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা কর্মসূচিগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা অন্যতম। সীমিত আয়ের পরিবার, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিমা ও চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। অনেক পরিবার বিনামূল্যে অথবা স্বল্প খরচে চিকিৎসা, ওষুধ এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পায়। স্বাস্থ্য ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে এসব কর্মসূচি বহু পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিও নিউইয়র্কের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ। যোগ্য পরিবারগুলো মাসিক খাদ্য কেনার জন্য সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের কর্মজীবী পরিবার, প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই সহায়তা জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গর্ভবতী নারী, নবজাতক শিশু এবং অল্পবয়সী শিশুদের জন্য আলাদা পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শ এবং শিশুদের সুস্থ বিকাশে সহায়তা প্রদান করা হয়। প্রতি বছর হাজারো পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসে। কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য শিশু পরিচর্যা ব্যয় অনেক সময় বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিউইয়র্কে শিশু পরিচর্যা সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। যোগ্য পরিবারগুলো শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বা অনুমোদিত পরিচর্যা সেবার ব্যয়ের একটি অংশ কিংবা উল্লেখযোগ্য অংশের জন্য আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। এর ফলে অনেক অভিভাবক নিশ্চিন্তে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
নতুন বাবা-মায়েদের জন্য বেতনসহ পারিবারিক ছুটির সুবিধা নিউইয়র্কের অন্যতম আলোচিত কর্মসূচি। সন্তান জন্ম, দত্তক গ্রহণ অথবা পরিবারের গুরুতর অসুস্থ সদস্যের পরিচর্যার জন্য কর্মরত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতনসহ ছুটি গ্রহণ করতে পারেন। পরিবার ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় এই কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। যেসব পরিবার সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়ে, তারা খাদ্য, বাসস্থান, বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয় মেটাতে সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে জরুরি আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।
নিউইয়র্কে আবাসন ব্যয় দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়। উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক পরিবার সরকারি ভাড়া সহায়তা, ভর্তুকিযুক্ত আবাসন এবং বিশেষ আবাসন কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করে। গৃহহীনতা প্রতিরোধ এবং স্থায়ী বাসস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্টেট ও সিটি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে। শীতপ্রধান এই অঙ্গরাজ্যে জ্বালানি ব্যয়ও অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং গৃহ উষ্ণ রাখার ব্যয় কমাতে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে।
কিছু ক্ষেত্রে গরম করার যন্ত্রপাতি মেরামত বা প্রতিস্থাপনের জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি কর্মসূচি, পরিবহন সহায়তা, বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা এবং সামাজিক অংশগ্রহণমূলক নানা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবীণদের স্বাধীন ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্যও নিউইয়র্কে বিস্তৃত সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের পরিচর্যাকারী হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
Posted ৪:৫১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh