বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) ফেডারেল আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে শরণার্থী ও অভিবাসনসংক্রান্ত আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াকরণ পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। ১২ জুন প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রভিডেন্সে ফেডারেল আদালতের প্রধান বিচারকের দেওয়া রায়ের সঙ্গে তারা একমত না হলেও পরবর্তী বিচারিক পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ মেনে চলবে।
ইউএসসিআইএস জানায়, গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত আদালতের আদেশ জারি করা হয়েছে এবং সংস্থাটি ও তাদের অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।গত সপ্তাহে রোড আইল্যান্ডের প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল এক রায়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ৩৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন সুবিধা সীমিত করে আইন লঙ্ঘন করেছে।
এসব দেশের মধ্যে আফগানিস্তানও রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে একজন আফগান নাগরিকের সঙ্গে জড়িত একটি বন্দুক হামলার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত কয়েকটি দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন, ওয়ার্ক পারমিট, গ্রিন কার্ড এবং অন্যান্য অভিবাসন সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত বা বিলম্বিত করেছিল।
আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও প্রশাসনিক আইন পরিপন্থী এবং এর ফলে হাজারো আবেদনকারী দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও সহায়তা কর্মসূচিতে কাজ করা বহু আফগান নাগরিক নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করার পরও তাদের অভিবাসন আবেদন স্থগিত অবস্থায় ছিল।
আদালতের রায়ের পর ইউএসসিআইএস জানায়, পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াকরণ পুনরায় শুরু করা হবে। এতে আফগান শরণার্থী, বিশেষ অভিবাসী ভিসা (এসআইভি) সুবিধাভোগী এবং মানবিক সুরক্ষা প্রত্যাশী হাজারো আবেদনকারী কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত অভিবাসন ও শরণার্থী আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে আফগান আবেদনকারীদের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা ও স্থায়ী বৈধ অবস্থান পাওয়ার পথে নতুন আশা তৈরি করেছে, যদিও ভবিষ্যৎ আইনি চ্যালেঞ্জের ফলাফল এখনো অনিশ্চিত।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে কঠোর নিরাপত্তা যাচাই, শরণার্থী গ্রহণ সীমিতকরণ এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোর নাগরিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।
Posted ৩:০৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh