নিউইয়ক : | বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি, রোববার সন্ধ্যায় কুইন্সের জামাইকা হাইল্যান্ড অ্যাভিনিউয়ের প্রবাসী বাঙালিদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য বসন্ত উৎসব। আয়োজনের উদ্যোক্তা ছিলেন কমিউনিটির অন্যতম সংগঠক নার্গিস আহমেদ। প্রতি বছরের মতো এবারও তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই সাংস্কৃতিক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মোশতাক আহমেদ। ভেন্যু সাজানো হয়েছিল ফাল্গুনের চিরচেনা রঙে হলুদ, কমলা ও লালের সমারোহে। বাইরে হালকা তুষারপাত চললেও ভেতরে ছিল উচ্ছ্বাস আর উষ্ণতার আবহ। আয়োজকদের ভাষ্য, বসন্ত সবসময় আবহাওয়ার পূর্বাভাস মেনে আসে না; মানুষের হৃদয়ের বাসন্তী ভালোবাসাই তাকে বরণ করে আনে।
সাংস্কৃতিক পর্বে ড্রামা সার্কেলের শিল্পীরা গান, কবিতা, আবৃত্তি ও কৌতুক পরিবেশনের মাধ্যমে শীতের সন্ধ্যাকে করে তোলেন প্রাণবন্ত। আবীর আলমগীরের সঞ্চালনায় একের পর এক পরিবেশনায় উঠে আসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের বসন্তবন্দনা, আধুনিক ও লোকসংগীত, ভাবগানসহ নানা ধারার সঙ্গীত। পুরনো দিনের জনপ্রিয় গানে দর্শক-শ্রোতারাও কণ্ঠ মিলিয়ে তৈরি করেন নস্টালজিক আবহ-প্রবাসে থেকেও যেন ফিরে পাওয়া যায় দেশের উঠোন।
উৎসবে কমিউনিটির বিশিষ্ট শিল্পী, ব্যবসায়ী, সংগঠক, কবি ও সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলা সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রতিনিধিরাও যোগ দেন অনুষ্ঠানে। বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে। নারীরা বাসন্তী রঙের শাড়ি ও ফুলের অলংকারে সেজে উৎসবে অংশ নেন। অনেকের খোঁপায় ছিল গাঁদা ও রজনীগন্ধা।
পুরুষদের পোশাকেও ছিল ফাল্গুনের আভা। কোকিলের ডাক না শোনা গেলেও তুষারঢাকা শহরে প্রতীকী বসন্তের উপস্থিতি ছিল স্পষ্ট। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। উপস্থিত বক্তারা নার্গিস আহমেদ ও মোশতাক আহমেদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তুষারে মোড়া নিউইয়র্কের এই সন্ধ্যা যেন প্রমাণ করল-ঋতু কেবল প্রকৃতির নয়, মানুষের মনেও আসে। আর যখন কমিউনিটি একসঙ্গে উদ্যাপন করে, তখন দূর দেশের শীতেও ছড়িয়ে পড়ে বসন্তের উষ্ণতা।
Posted ১২:২৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3053 বার পঠিত)
(2341 বার পঠিত)