নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
বক্তব্য রাখছেন শাহ নেওয়াজ।
নিউইয়র্কের ব্যস্ত জ্যাকসন হাইটস যেন একদিনের জন্য হয়ে উঠেছিল দক্ষিণ এশিয়ার এক টুকরো মিলনভূমি। বাংলাদেশের লাল-সবুজ, ভারতের তেরঙ্গা আর পাকিস্তানের সবুজ-সাদাসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। দেশ ও সংস্কৃতির ভিন্নতা ছাপিয়ে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে ৯ আগস্ট রোববার বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় অনুষ্ঠিত হয় ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড’। বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের উদ্যোগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ অ্যাভিনিউয়ে ৬৯ স্ট্রিট থেকে ৮৭ স্ট্রিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত এই প্যারেড।

বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, ব্যানার, সংগীত ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনায় পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। প্যারেডে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কমিউনিটি সংগঠন, সামাজিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং বিপুলসংখ্যক প্রবাসী অংশ নেন। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) সদস্যদেরও প্যারেডে অংশ নিতে দেখা যায়। শিশু-কিশোর থেকে প্রবীণ—বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্যারেডটি দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির ঐক্য ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত প্রদর্শনীতে পরিণত হয়।

প্যারেডের গ্র্যান্ড মার্শাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহনেওয়াজ গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও সিইও শাহ শাহনেওয়াজ। আয়োজনের ইভেন্ট পার্টনার ছিল নিউ ইয়র্ক সিনিয়র অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার (এনওয়াইএসএডিসি) এবং গ্র্যান্ড স্পনসর ছিল গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন কণ্ঠশিল্পী রানো আমেনা নেওয়াজ। ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড’ উপলক্ষে রচিত বিশেষ থিম সং ছিল আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ।
থিম সংটি রচনা করেন হুমায়ূন কবির ধলী। প্যারেডের শুরু থেকেই জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ অ্যাভিনিউয়ে বিরাজ করছিল উৎসবের আমেজ। অংশগ্রহণকারীদের হাতে শোভা পায় নিজ নিজ দেশের জাতীয় পতাকা। বিভিন্ন সংগঠন নিজস্ব ব্যানার ও বর্ণিল সাজসজ্জা নিয়ে প্যারেডে যোগ দেয়। ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সংগীত ও নানা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে দক্ষিণ এশিয়ার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।
আয়োজকেরা জানান, নিউইয়র্কে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা এবং বৃহত্তর সমাজের সামনে এ অঞ্চলের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরাই ছিল আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও প্যারেডটির আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক প্যারেড সফল করতে দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নেয়। প্যারেড এক্সিকিউটিভ কমিটির চিফ কোঅর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহ শহীদুল হক এবং কনভেনার ছিলেন মহিউদ্দিন দেওয়ান। বাংলাদেশ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট আতাউর রহমান সালিম এবং জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে সংগঠনটির বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মী আয়োজনের প্রস্তুতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ছিলেন। প্যারেডের বিভিন্ন পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবকেরাও শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আয়োজনে অংশ নেওয়া কমিউনিটির সদস্যরা বলেন, নিউইয়র্কের মতো বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক নগরীতে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার এমন উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের সামনে নিজেদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শেকড় তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে।
বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্যারেডটিকে শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি এবং দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির সম্মিলিত শক্তির বহিঃপ্রকাশ হয়ে ওঠে। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিভিন্ন কমিউনিটির প্রাণবন্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড’। আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে দক্ষিণ এশিয়ার সব কমিউনিটিকে একত্রিত করে এই আয়োজন নিউইয়র্কের একটি নিয়মিত ও বহুল প্রত্যাশিত উৎসবে পরিণত হবে।
Posted ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh