Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

অনুষ্ঠানে অতিথি আমন্ত্রণে কোন নীতিমালা নেই : কনস্যুলেটের দুঃখ প্রকাশ

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটে অপ্রীতিকর ঘটনা

বাংলাদেশ রিপোর্ট :   |   বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটে অপ্রীতিকর ঘটনা

নূর হোসেন ও মঞ্জুরুল ইসলাম এমপি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অস্থিরতার কারণে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে ঘটেছে বেশ কিছু হট্টগোল, ভাঙচুর ও অপ্রীতিকর ঘটনা। এবার গত ৭ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যূত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযান অনুষ্ঠান আয়োজন করে নিউইয়র্ক কনস্যুলেট।

এ অনুষ্ঠানটিতে দুটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। প্রথম ঘটনায় একজন বাংলাদেশীকে নাজেহাল করে দিয়ে বের করে দেওয়া হয় অনুষ্ঠান থেকে। অতি তুচ্ছ বিষয়ে মতানৈক্যের কারণে কনস্যুলেটের নিরাপত্তা রক্ষী অনুষ্ঠানে পুন:প্রবেশের অনুমতি দেয়নি এই ব্যক্তিকে। কনস্যুলেট কার্যালয়ে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৭ সালে কূটনৈতিক কর্মকর্তা গ্রেপ্তারের ঘটনা এবং ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর সরাসরি শারীরিক হামলার চেষ্টা।

প্রথম অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

কনস্যুলেট কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানটি শুরু হয় বিকেল সাড়ে ৬টায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল হক। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের উপপ্রধান, বিএনপির আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান অ্যাপোলো, ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়োজিত প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা আতিথ্য গ্রহণ করেন অনুষ্ঠানটিতে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠানে দর্শক-শ্রোতাদের আসনগুলো ছিল স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকে ঠাসা। শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর ্একটি প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। যাতে গণঅভ্যুত্থানের ঘনাপ্রবাহ, আন্দোলনে নেতৃত্বের অবদান এবং ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নূর হোসেন নামে একজন বাংলাদেশী। তিনি দ্বিমত পোষণ করেন আন্দোলন চলাকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে প্রামাণ্য চিত্রে প্রদর্শিত বক্তব্য নিয়ে। ‘ইতিহাস বিকৃত করার’ অভিযোগ তোলেন তিনি। নূর হোসেনের এমন বক্তব্যের সাথে সাথে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেন অনুষ্ঠান থেকে। এ কাজে সহায়তা করে কনস্যুলেটের নিরাপত্তা রক্ষী। বিএনপির কয়েকজন অবশ্য মারমুখী নেতাকর্মীর হাত থেকে রক্ষা করেন নূর হোসেনকে। এসময় নির্বিকার ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে রাষ্ট্রদূতদেরকে।

এ ঘটনায় অনুষ্ঠানজুড়ে সৃষ্টি হয় বিব্রতকর পরিস্থিতি। মারমুখী অনেকে নূর হোসেনকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলেন। পরে অতিথি বক্তাগণ নানাভাবে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দেন। ঘটনাটি অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন তারা। তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের উপস্থায়ী প্রতিনিধি জানান যে, প্রামাণ্য চিত্রটি তার নেতৃত্বে তৈরি করা হয়েছে। বিএনপির আইসিটি সম্পাদক হিসেবে তৈরি প্রামাণ্য চিত্রটি রাষ্ট্রীয় নয়, বরং এটি বিএনপির দলীয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কনস্যুলেটের অনুষ্ঠানে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা সামাল দিতে না পারার দায় রাষ্ট্রের দূতরা এড়াতে পারেন না বলে ঘটনাস্থলেই মন্তব্য করেন অনেকে। নুর হোসেনকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে । ঘটনার তিনদিন পর কনসাল জেনারেল নূর হোসেনকে কনস্যুলেটে আমন্ত্রণ জানান এবং উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

কে এই নূর হোসেন?

অনুসন্ধানে জানা যায়, লাঞ্ছিত নূর হোসেন অত্যন্ত রাজনৈতিক সচেতন একজন ব্যক্তি। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জে। শিক্ষাজীবনে চট্টগম বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে। আওয়ামী দু:শাসনের সময় ২০১৩-২০১৪ সালে জামায়াত কর্মী হিসেবে সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা ১৯টি। তিনি ৮বার গ্রেপ্তার হয়েছেন পুলিশের হাতে। তার স্ত্রী সন্তানদেরকেও আটকে রাখা হয়েছিল থানা হাজতে। ২০২৩ সালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করলে তিনি দেশ থেকে পালিয়ে পাড়ি জমান আমেরিকায়। নূর হোসেন ১৭টি দেশ ঘুরে পায়ে হেঁটে অতিক্রম করেন বলে জানান সাপ্তাহিক বাংলাদেশ প্রতিবেদককে। প্রবাসী নূর হোসেন নিজেকে জুলাই যোদ্ধা দাবি করেন। ‘ইতিহাস বিকৃত করার’ অভিযোগ তোলেন।

নিউইয়র্কে বিগত তিন বছর ফ্যাসিস্ট বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন ও সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন নূর হোসেন। গতবছর ২৪ আগস্ট নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে আওয়ামী দুর্বৃত্তদের হামলা রুখে দিতে অন্যদের সঙ্গে কনস্যুলেট ভবনের প্রধান ফটকে অববস্থান নিয়েছিলেন তিনি। কনস্যুলেটের দেয়াল থেকে সেদিন তিনি আওয়ামী লীগের সাটানো পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও রয়েছে বলেও জানান নূর হোসেন। সেদিন ছিল নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে জুলাই গণঅঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠান। যে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। সে ঘটনা প্রতিহত করতে হিমশিম খায় নিউইয়র্ক পুলিশ। কয়েকজন আওয়ামী দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তারও করা হয়। নূর হোসেন একজন আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে সেদিন বাংলাদেশ কনস্যুলেটে যান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কনস্যুলেট কোন দলের নয়।

দ্বিতীয় অপ্রীতিকর ঘটনা

কনসুলেটের জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় অপ্রীতিকর ঘটনার অবতারণা করেন বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্য। দিনাজপুর-১ আসনের বিএনপি দলীয় আইন প্রণেতা মঞ্জুরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বেআইনী একটি ঘোষণা দেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গ থেকে সরে গিয়ে তিনি উসকে দেন দেশের সংঘাতের রাজনীতি। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সামনে ‘কঠিন’ সময় অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মনজুরুল ইসলাম।দিনাজপুর-১ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য বলেন, পাটওয়ারীর ওপর মার শুরু হয়েছে কেবল। আসল মার তো শুরুই হয়নি। একজন এমপি হিসেবেই বলছি, ভবিষ্যৎ অনেক কঠিন তার জন্য। তিনি এনসিপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে নিয়েও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। একজন সংসদ সদস্যের এ ধরণের ঘোষণায় অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হয় অস্বস্থিকর পরিবেশের। দর্শক-শ্রোতাগণ ফিসফাঁস করতে থাকেন।

মনজুরুল ইসলামের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবার নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যেসব মন্তব্য করেন, তা বাকস্বাধীনতার সীমা লঙ্ঘন করে।তিনি বলেন, সে শুধু প্রধানমন্ত্রীই নয়, তার স্ত্রী ও কণ্যাকে নিয়ে যখন কথা বলে, তখন আমরা সহ্য করতে পারি না। কারণ তারা তো এটার কোনো অংশ না। তারেক রহমান সাহেব যে ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছেনৃবিশ্বাস করুন আপনারা, আমরা যেটা সহ্য করতে পারি না, সেটি উনি করছেন। তারেক রহমান সম্পর্কে যেসব বাজে ল্যাঙ্গুয়েজ করছে পাটওয়ারী, তুষার।

কনস্যুলেটে উপদেষ্টা মাহফুজের উপর হামলা

নিউইয়র্কে কনস্যুলেট অফিসে ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার দিন যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের একদল উচ্ছৃঙ্খল নেতা-কর্মী কনস্যুলেট ভবনের বাইরে জড়ো হয়ে প্রধান ফটকের একটি কাঁচের দরজা ভাঙচুর করে। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন আমন্ত্রিত অতিথিদের, ডিম ছোড়েন এবং ভাঙচুর চালান। সরাসরি শারীরিক হামলার চেষ্টা করেন মাহফুজ আলমের ওপর। ঘটনার দিন বিপুলসংখ্যক পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ কনস্যুলেটের সামনে অবস্থান নেয় মধ্যরাত পর্যন্ত। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় পুলিশ, মেয়র এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

এর আগে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের তৎকালীন ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলাম স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হন ২০১৭ সালের জুনে। পরবর্তীতে তিনি কারাবাস ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জামিনে মুক্তি পান, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে।

কনসূলেটে অনুষ্ঠান ও অতিথি আমন্ত্রণ নীতিমালা

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনসূলেট একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজনের রেওয়াজ আছে। অতীতে এসব অনুষ্ঠান সীমিত ছিলো কনসূলেট কর্মকর্তাদের মাঝেই। অনুষ্ঠান পরবর্তী সময় কনসূলেট কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে দিতো। শুধুমাত্র জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে ঘটা করে আয়োজন করতো অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান। যেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, জাতিসংঘ ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আমন্ত্রণ জানানো হতো সাংবাদিক ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে। কিন্তু ফ্যাসিবাদ আমলে বাংলাদেশ মিশনের সাথে পাল্লা দিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন শুরু কনসূলেট ভবনে।

রাজনৈতিক বিবেচনায় পোস্টিং নিয়ে আসা কনসূলেটের কর্মকর্তাগণ জাতীয় দিবস সমূহ ছাড়াও শেখ পরিবারের সকল সদস্যের জন্ম-মৃত্যু এমন কি নিতান্ত ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে থাকে। প্রতিমাসেই লেগে থাকতো বাহারি অনুষ্ঠানাদি। আর এসব অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী নেতা, কর্মী সমর্থকদের হাট বসতো কনসূলেটে।

সরকারের গুণকীর্তন, গানবাজনা সহ আয়োজন থাকতো ভুড়িভোজের। এসব অনুষ্ঠানে সুযোগ থাকতো না দলবাজ ছাড়া সাধারণ সাংবাদিকদের অংশ নেয়ার। ফ্যাসিজমের পতন ঘটলেও পরিবর্তন আসেনি অনুষ্ঠানাদিতে। কনসূলেটের অনুষ্ঠানে অতিথি আমন্ত্রণের নেই সুনির্দিষ্ট কোন নীতিমালা। ফলে যখন যে দল সরকার যায় সেই দলের কর্মী সমর্থকরাই অলংকৃত করেন অনুষ্ঠানে অতিথিদের আসন। এখানে সাধারণ প্রবাসীতো দূরের কথা কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের কোন নাম নেই কনসূলেটের অতিথি তালিকায়। নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশীর বসবাস। এদের মাঝে কারা আমন্ত্রিত হবেন এটা একটি জটিল বিষয়। যদিও বাংলাদেশী হিসেবে এক্ষেত্রে সবাই অধিকার সংরক্ষণ করেন আমন্ত্রণ পাওয়ার।

এধরণের প্রতিটি অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন খাতে রাষ্ট্রের ব্যয় হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ। কতিপয় ব্যক্তির জন্য এই অর্থ ব্যয় যুক্তিযুক্ত নয় বলে মনে করেন সাধারণ প্রবাসীরা। তাছাড়া প্রায়শই এসব অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঘটে থাকে অপ্রীতিকর ঘটনা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আপ্যায়ন খাতে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় বন্ধে গ্রহণ করেছেন অত্যন্ত কঠোর নীতি। বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশ দূতাবাস, মিশন ও কনসূলেটগুলো একই ব্যয় সংকোচন নীতি মেনে চলবেন এমনটিই মনে করেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

কনস্যুলেটের দুঃখ প্রকাশ

নিউইয়র্ক : অনুষ্ঠানে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি’ সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট। গত ৭ আগস্ট নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনকালে আমন্ত্রিত অতিথি জনাব নূর হোসেন প্রামাণ্যচিত্রের একটি বিষয়ে ভিন্নমত ব্যক্ত করেন। তার বিপরীতে আমন্ত্রিত অতিথিদের আরও দু’একজন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির’ জন্য কনস্যুলেট দুঃখ প্রকাশ করছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কনসাল জেনারেল আজ দুপুরে জনাব নূর হোসেনকে কনস্যুলেটে আমন্ত্রণ জানান এবং উদ্ভূত ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির’ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

কনস্যুলেট মনে করে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি সর্বজনীন ও মৌলিক অধিকার। কোনো মতামতের সঙ্গে একমত বা ভিন্নমত পোষণ করা স্বাভাবিক; তবে সকলের মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কনস্যুলেট মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং এ অধিকারটির মর্যাদা সমুন্নত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

একই সঙ্গে, রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের সৌহার্দ্যপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টিও কনস্যুলেট অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে কনস্যুলেট প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছ থেকেও সংযম, দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে, ভবিষ্যতে কনস্যুলেটের আয়োজিত অনুষ্ঠানসমূহে ‘আমন্ত্রণপত্র’ ও শুধুমাত্র আমন্ত্রিত ‘অতিথি-তালিকার’ ভিত্তিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়া হবে। কনস্যুলেট আশা করে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ বজায় রেখে ভবিষ্যতেও সকল অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

Posted ১২:০৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: weeklybangladesh@yahoo.com

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.