নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের দাবী জানিয়েছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশ (পিওবি)। এ ব্যাপারে গত ২৯ ডিসেম্বর সোমবার সংগঠনের পক্ষ থেকে নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ কনুসলেটে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পিওবি চেয়ারম্যান আবদুল কাদের বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। এসময় তার সাথে সিনিয়র সাংবাদিক চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল ও সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপি হস্তান্তরকালে আবদুল কাদের বলেন। ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলি একতরফাভাবে দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশে চলে আসছে। এ সুযোগে প্রচুর অর্থ মুনাফা করলেও প্রতিনিয়ত তারা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের সম্পর্কে বিষোদগারও করছে। তাদের অনেক অনুষ্ঠানই বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক মূল্যবোধের বিপরীত। অন্যদিকে ভারতে এমনকি কলকাতাতেও বাংলাদেশী টিভি চ্যানেলগুলি কখনোই দেখানো হয় না, এখন ভারতের ইউটিউবাররাও বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারনায় লিপ্ত হয়েছে। তারা আমাদের প্রধান উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব সম্পর্কে কটুক্তি করতে দ্বিধা করছে না। তারা আমাদের সমাজকে অস্থিতিশীল করতে অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের প্রচারিত বিভিন্ন রাজনৈতিক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আমাদের তরুণ সমাজকে বিপথগামী করে তুলছে ও অপসংস্কৃতির প্রসার ঘটিয়ে চলছে। আমরা মনে করি বাংলাদেশে বর্তমানে এই যে হিংসাত্মক ঘটনা, সন্ত্রাস ও অস্থিরতা বাড়ছে এর পেছনেও রয়েছে ভারতীয় অপসংস্কৃতির প্রভাব।
তিনি বলেন, আমরা জানি যে বর্তমানে হিন্দু মৌলবাদীরা ভারত শাসন করছে ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবন সেখানে দারুন বিপন্ন। ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের এই সব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড যেভাবে দিন দিন বাড়ছে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও এই সব ছড়িয়ে পড়তে বলে কাদের আশংকা প্রকাশ করেন। সাংবাদিক ও কলামিস্ট চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল বলেন যেভাবে দীপু চন্দ্র দাসকে পুড়িয়ে মারা হল এটা তো বাংলাদেশের সংস্কৃতি নয়। এমন ঘটনা অতীতে ভারতে অনেক বার ঘটেছে, কিন্তু বাংলাদেশে ঘটেনি।
সংখ্যালঘুদের হত্যা করা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় গুড়িয়ে দেওয়া এগুলি ভারতে হয়। বাংলাদেশে কখনও এমন ঘটেনি। আমরা মনে করি ভারতীয় টিভি ও ইউ্টউিবারদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এইসব অপসংস্কৃতি ও হিংসাত্মক ঘটনা বাংলাদেশে আরও বাড়বে। তাই বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন এইসব অমানবিক অপকর্ম ও অপসংস্কৃতি বাংলাদেশে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ার আগেই কঠোর হস্তে দমন করা হোক’, তিনি বলেন।
জনাব কাজল তার বক্তব্যে বলেন, অতীতে বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে অনেক নমনীয়তা দেখিয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা আর নমনীয়তা দেখতে চাই না। দেশ ও দেশবাসীর স্বার্থে বাংলাদেশ সরকারকে এবার ব্যবস্থা নিতে হবে, কাজল বলেন। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন পিওবি’র সদস্য দীপন গাজী, সৈয়দ নাঈম, আলী আহমেদ কাশেমী, মশিউর রহমান লিটন,বুলবুল আহমেদ, রুহুল খান ও আলোকচিত্রী নিহার সিদ্দিক। কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক তাদের বক্তব্য শোনেন ও স্মারকলিপিটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছে দেবেন বলে জানান।
Posted ১২:৩২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3054 বার পঠিত)
(2344 বার পঠিত)