বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল ২০২২
বিমান ও গণপরিবহনে মাস্ক পরতে হবে না
যুক্তরাষ্ট্রে বিমান, ট্রেন ও বাসে চলাচলকারীদের জন্য মাস্ক পরিধান আর মাধ্যতামূলক নয়। তবে নিউইয়র্ক সিটিতে মেট্টোপলিটান ট্রান্সজিট অথরিটি (এমটিএ) পরিচালিত গণপরিবহন, অর্থ্যাৎ সাবওয়ে ও বাস ও ফেরি সার্ভিসের যাত্রীদের পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাস্ক পরিধান করতে হবে বলে জানিয়েছে এমটিএ। ফ্লোরিডার একজন ফেডারেল বিচারক যানবাহনে যাত্রীদের মাস্ক পরিধানের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার পক্ষে রায় প্রদান করার প্রায় সাথে সাথেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের মাস্ক পরিধানের আবশ্যকতা প্রত্যাহার করেছে। মধ্যাকাশে থাকা অনেক ফ্লাইটে খবরটি জানাজানি হলে যাত্রীরা মাস্ক খুলে ফেলে উচ্ছাস প্রকাশ করে এবং সেলফি নিতে শুরু করে। তবে যেসব স্থানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হারে উর্ধগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে সেসব স্থানে মাস্ক পরিধান অব্যাহত থাকবে। ফিলাডেলফিয়া মাস্ক পরার উপর বিধিনিষেধ শিথিল করলেও পুনরায় তা বহাল করেছে। উল্লেখ্য, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এণ্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) মাস্ক পরিধানের বাধ্যবাধকতা ৩ মে পর্যন্ত বর্ধিত করেছিল। সিডিসির এ নির্দেশনা জারির এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে আদালত তার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদে নিযুক্ত বিচারক ক্যাথরিন কিম্বাল মিজেল গত সোমবার দেওয়া তার ৫৯ পৃষ্ঠার রুলিংয়ে এয়ারলাইন্সগুলো ও ট্রানজিট এজেন্সিগুলোর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন যে তারা তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠিক করবে যে তারা কী করতে চায়। আদালতের রায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অ্যামট্র্যাক রেল সিস্টেম বলেছে যে তাদের যাত্রী ও কর্মচারিদের জন্য মাস্ক পরিধানের আর কোনো প্রয়োজন নেই। তবে বাইডেন প্রশাসন সোমবার সন্ধ্যায় বলেছে যে ট্রান্সপোর্ট সিকিউরিটি অ্যাডমিনিষ্ট্রেশনের জন্য আদালতের এ রুলিং অনুসরণের বাধ্যবাধকতা নেই। প্রশাসন রুলিং যাচাই করে দেখছে যে তারা রুলিংয়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপলি করবে কিনা। সিডিসি এখনো বলছে যে আবদ্ধ পরিবহনে যাত্রীদের মাস্ক পরিধান করা উচিত। কারণ এখনো ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনেক স্টেটে ও বড় বড় সিটিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হার বেশি।
করোনা ভাইরাসের দ্রুত বিস্তারশীল অমিক্রনের সাবভেরিয়েন্ট ‘বিএ২’ যেটি এখন যুক্তরাষ্ট্রে বেশি সংক্রমিত হচ্ছে, তা থেকে মুক্ত থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে সরকার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মাস্ক পরিধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিন পরই গত ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সূচনায় সিডিসি’র প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন যাতে এই ফেডারেল সংস্থা মাস্ক পরিধানের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপের জন্য। কারণ ইউরোপীয় দেশগুলোতে করোনা ভাইরাসের একাধিক ভেরিয়েন্ট সক্রিয় হয়ে ওঠেছিল। সে বছরের জুলাই মাসে ওয়োমিং ভিত্তিক হেলথ ফ্রিডম ডিফেন্স ফান্ড নামে একটি ভলান্টারি সংগঠন মাস্ক পরিধানের বাধ্যবাধকতা আরোপের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে একটি মামলা ঠুকে দিয়েছিল। তখন মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল। ফ্লোরিডার ফেডারেল বিচারক মিজেল এর রুলিংয়েরও প্রতিক্রিয়া মিশ্র। অনেক পরিবহন সংস্থা রুলিংয়ের মধ্যে থেকেই যাত্রী কর্মচারিদের মাস্ক পরতে বলছেন, আবার অনেক পরিবহন মাস্ক পরিধান করা বা না করা নিয়ে কোনো কথা বলছে না। উল্লেখ্য, গত রোববার নিউইয়র্ক টাইমসের ডাটাবেজ অনুযায়ী এখনো সংক্রমণ হার দৈনিক বেড়ে চলেছে এবং বর্তমানে দৈনিক বৃদ্ধি ৩৭ হাজারের বেশি।
সিটির সাবওয়ে বাস ট্যাক্সি ও রাইড শেয়ারে মাস্ক লাগবে
ফ্লোরিডার একজন ফেডারেল বিচারক গত সোমবার সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে বিমান ও গণপরিবহনের যাত্রীদের মাস্ক পরিধানের বাধ্যবাধকতা পরিহারের পক্ষে রুলিং প্রদান করা সত্ত্বেও নিউইয়র্ক সিটিতে গণপরিবহন, ট্যাক্সি ও রাইড শেয়ারে যাত্রীদের এখনো মাস্ক পরিধানের আবশ্যকতার কথা বলা হয়েছে। অবশ্য রুলিংয়ে স্থানীয় পরিবহন কর্তৃপক্ষগুলোতে এ সংক্রান্ত এখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে যে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে যে তাদের যাত্রী ও কর্মচারিরা মাস্ক পরিধান করবে কিনা। নিউইয়র্ক সিটির সাবওয়ে ও বাস, কমিউটার রেল নেটওয়ার্ক পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত মেট্টোপলিটান ট্রানজিট অথরিটি (এমটিএ) মাস্ক পরিধানের বাধ্যবাধকতা বহাল রেখেছে।
এমটিএ’র মুখপাত্র টিম মিনটন সোমবার নিশ্চিত করেছেন যে এমটিএর পরিবহনে কর্মচারি ও যাত্রীদের জন্য মাস্ক ম্যান্ডেট বহাল থাকবে। তিনি গত ২ মার্চ নিউইয়র্ক স্টেটের হেলথ কমিশনারের সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে বলেন যে, গণপরিবহনে মাস্ক ধারণ করা অত্যাবশ্যকীয়, কারণ সিটি ও নিউইয়র্ক স্টেটে এখনও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হার অধিক এবং এ অবস্থায় অন্যান্য উপায়ের মধ্যে সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার অন্যতম উপায় পরিবহনে মাস্ক ধারণ করে রাখা। স্টেট গভর্নর ক্যাথি হকুল এমটিএ’র সিদ্ধান্তের প্রতি একমত পোষণ করেছেন, কারণ এমটিএ স্টেটের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি মঙ্গলবার এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, ‘আপনার প্রতিবেশিকে নিরাপদে রাখতে আপনি আপনার ভূমিকা পালন করুন।’ সাবওয়ে ও বাস কর্মচারিদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন ১০০ এর প্রেসিডেন্ট টনি উটনাও এমটিএ’র সিদ্ধান্তের সমর্থনে বলেছেন, ‘যাত্রী ও পরিবহন কর্মচারি সকলকে নিরাপদ রাখুন।’ সিটির ট্যাক্সি এণ্ড লিমোজিন কমিশনও একই মত প্রকাশ করেছে।
Posted ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল ২০২২
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh