বাংলাদেশ অনলাইন : | শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
হিজাবের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে জোহরান মামদানি। ছবি : সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির কার্যালয় থেকে বিশ্ব হিজাব দিবস উপলক্ষে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি মেয়রের অভিবাসনবিষয়ক দপ্তর থেকে দেওয়া ওই পোস্টে হিজাবকে মুসলিম নারীদের ‘পরিচয় ও গর্ব’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাববিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই পোস্টটিকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন সমালোচকরা।
হিজাব দিবস উদযাপনের মাধ্যমে মামদানি পরোক্ষভাবে সেই শক্তির পাশে দাঁড়িয়েছেন যারা ইরানি নারীদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইরানি-আমেরিকান সাংবাদিক মাসিহ আলিনেজাদ এই বার্তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, যখন তার নিজের দেশে হিজাব পরতে অস্বীকার করায় নারীদের জেল খাটতে হচ্ছে বা গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে, তখন নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের এমন উদযাপন অত্যন্ত অপমানজনক। তিনি আরও যোগ করেন, মামদানির এই নীরবতা ও হিজাবের মহিমান্বিত রূপ প্রচার করা মূলত নির্যাতিতদের বদলে কারাবন্দিকারীদের পক্ষ নেওয়ার শামিল।
ফরাসি লেখক ও অধিকারকর্মী বার্নার্ড-হেনরি লেভিও প্রশ্ন তুলেছেন যে যখন হাজার হাজার ইরানি নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, তখন নিউইয়র্ক সিটির মতো জায়গা থেকে কীভাবে হিজাবকে গর্বের প্রতীক হিসেবে উদযাপন করা হয়।
অন্যদিকে জোহরান মামদানি অতীতে বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা বিদ্বেষ ও ইসলামোফোবিয়া নিয়ে সরব ছিলেন। গত বছর তিনি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানিয়েছিলেন যে ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পর তার ফুফু হিজাব পরে সাবওয়েতে চলাচল করতে ভয় পেতেন। রাজনীতিতে প্রবেশের সময়ও তাকে ধর্মীয় পরিচয় আড়াল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
তবে সমালোচকদের দাবি, নিউইয়র্কের মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে মামদানি ইরানে হিজাববিরোধী আন্দোলনের মানবিক দিকটি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন। বর্তমানে ইরানে অনেক নারী প্রকাশ্যেই হিজাব পরতে অস্বীকার করে প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, যা মামদানির উদযাপনের বার্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র : এনডিটিভি।
Posted ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3053 বার পঠিত)
(2341 বার পঠিত)