বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২২
বাঁ থেকে- ডেভিড ওয়েপ্রিন, ডা. সিদ্দিকুর রহমান, গভর্নর হকুল, জায়েদুর রহমান, মেলিন্ডা কার্টজ ও আফতাব মান্নান
নিউইয়র্ক স্টেট গভর্নর ক্যাথি হকুল গত ২১ এপ্রিল বিকেলে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে আসেন। এসময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির মিলনায়তনে বক্তব্য রাখেন সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায়। জেএমসি পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মিলিন্ডা ক্যাটস ও নিউইয়র্ক সিটির কম্পট্রোলার ডেভিড ওয়েপ্রিন। জেএমসির কার্যনির্বাহী কমিটি ও বোর্ড অব ট্রাস্টির কর্মকর্তা ছাড়াও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন এতে। বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটির কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিউইয়র্কের গভর্নরের এটাই প্রথম আগমন। এর আগে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের দায়িত্ব পালনকালে ক্যাথি হকুল ২০১৯ সালে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার আয়োজিত ঈদ জামাতে মুসল্লিদের উদ্দেশ্য বক্তব্য রাখেন। তিনবারের গভর্নর এন্ড্রো ক্যুমো সম্প্রতি পদত্যাগ করলে গত বছরের ২৪ আগষ্ট তার স্থলাভিষিক্ত হন ক্যাথি হকুল।

নিউইয়র্ক স্টেটের প্রথম মহিলা গভর্নর এবং ১৯৩০সালের পর আপস্টেট নিউইয়র্ক থেকে প্রথম গভর্নর ক্যাথি হকুল ঘোষণা দিয়েছেন আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার। নানা কারণেই ডেমোক্রেট দলীয় সদস্যা গভর্নর হকুল একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। ইতোমধ্যে যিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। অত্যন্ত কর্মব্যস্ততার মাঝে গভর্নর ক্যাথি হকুল এর মাঝেও মাত্র একদিনের নোটিশে ছুটে আসেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে। তাকে ঘিরে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের প্রেসিডন্ট ডাঃ মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান। জেএমসি সেক্রেটারী আফতাব মান্নানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইমাম শামসী আলী। বক্তব্য রাখেন কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী মেলিন্দা কার্টজ ও জেএমসি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ফার্মাসিস্ট জাহিদুর রহমান। কুইন্স ডেমোক্রেটিক ডিষ্ট্রিক্ট অ্যাট লার্জ এটর্নি মঈন চৌধুরী সহ মূলধারার রাজনীতিক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গভর্নর ক্যাথি হকুল তার বক্তব্যে নিউইয়র্ক স্টেট ও সিটির আর্থ-সামাজিক ও কমিউনিটির বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার ও স্থানীয় কমিউনিটির প্রশংসা করেন। পূর্ববর্তী ঈদ অনুুষ্ঠানে যোগদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি। নিউইয়র্ক সিটিতে ক্রমবর্ধমান অপরাধ কর্মকান্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করেন গর্ভর্ন। হেইট ক্রাইম সহ কোন ধরণের অপরাধকারীরা পার পাবে না বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন নিউইয়র্ক স্টেটের সর্বোচ্চ এ নির্বাহী। অপরাধীরা আইনের বিরুদ্ধে লড়ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। গভর্নর হকুল এ পর্যায়ে জিরো টলারেন্সের কথা পুনরুল্লেখ করেন। নিউইয়র্কে হেইট ক্রাইম প্রতিহত করতে অতিরিক্ত ২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানান গভর্নর। তিনি বলেন, জনগণ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চায়। সরকার তাদের নিরাপত্তা বিধানে বদ্ধপরিকর বলে উল্লেখ করেন গভর্নর হকুল। গভর্নর ক্যাথি হোচুল আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ভয়ভীতি নিউইয়র্ককে অচল করে দিচ্ছে।
এখানে অপরাধীদের কোনো আশ্রয়-প্রশ্রয় নেই। সব অপরাধীকেই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। সে জন্য কাজ চলছে। জেএমসিসহ এখানে মুসলিম কমিউনিটির কেউ যাতে অনিরাপদবোধ না করেন, সে জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে। যারা নিউইয়র্ককে অনিরাপদ করতে চায় বা অস্থিতিশীল করতে চায় আমরা এর বিরুদ্ধে ফাইট করে যাচ্ছি। আমরা মুসলিম কমিউনিটিসহ সব কমিউনিটির সাথে কাজ করব, যাতে করে নিরাপদ নিউইয়র্ক গড়ে তুলতে পারি। এ সময় তিনি লিয়নর কমরি ও ডেভিড ওয়েপ্রিনকে উদ্দেশ করে বলেন, তারা আছেন, তারা গ্রেট লিডার। তাদের মতো লিডার থাকলে আমরা আশ্বস্ত হই। এ ছাড়া আছেন কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি।
তিনি অপরাধীদের শাস্তি দিতে কাজ করছেন এবং শাস্তি দিচ্ছেন। গভর্নর তাদের কাজের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এতে ধর্মপ্রাণ মানুষেরা নির্বিঘ্নে তাদের ধর্ম পালন ও ধর্মচর্চা করতে পারবেন। ভয়ভীতি মানুষকে অচল করে দেয়। তাই আমরা এই ভীতি থেকে উদ্ধার পেতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি। করোনা মহামারি রোধে ভ্যাকসিন নেয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি। গভর্নর বলেন, এটি আমার প্রথম ভিজিট হলেও অবশ্যই শেষ ভিজিট নয়। স্বল্প সময়ের জন্য আসায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমি আবার আসব। তখন সবার সাথে কথা বলব। ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী মেলিন্দা কার্টজ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার কথা ঘোষণা করেন। এদিকে কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মিলিন্ডা ক্যাটস তার বক্তৃতায় কুইন্সের অবস্থা তুলে ধরে পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জেএমসিসহ জ্যামাইকার নেতাদের ধন্যবাদ জানান।
স্বাগত বক্তব্যে গভর্নর ক্যাথি হকুলের প্রশংসা করেন ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান। জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন তিনি। । তিনি গভর্নরকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তিনি হেইট ক্রাইমের বিষয়টি তুলে ধরেন। বর্তমানে উঠতি বয়সের সন্তানেরা ওভার ডোজ নিয়ে যে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে সেই বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। এ ধরনের ২৩ জনের ওভার ডোজের কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করে সিদ্দিক বলেন, ওভার ডোজের এই প্রবণতা রোধ করতে হবে। ড্রাগ বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি গভর্নরের সহযোগিতা কামনা করেন।
জেএমসি ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ার জায়েদুর রহমান গভর্নর ক্যাথির গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির আলবেনী প্রশাসনের সােেথ যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের কারণে স্থানীয় পরিবেশ ও প্রতিবেশের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে।জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের জেনারেল সেক্রেটারি আফতাব মান্নান তার বক্তৃতায় কমিউনিটির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি জেএমসির গুরুত্বও তুলে ধরেন গভর্নরের কাছে।
জেএমসি পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মনজুর আহমেদ চৌধুরী ও জয়েন্ট সেক্রেটারি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার সহ জেএমসির কর্মকর্তারা গভর্নর হকুলকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানের সভাপতি ডা: সিদ্দিকুর রহমান জেএমসি’র সাবেক ও বর্তমান কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। অনুষ্ঠান শেষে গভর্নর জেএমসি প্রাঙ্গণে ফটো সেশনে মিলিত হন।
Posted ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২২
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh