বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তখন ২০১৪ সালে নিউইয়র্কের লাগর্ডিয়া এয়ারপোর্ট হয়ে কোনো গন্তব্যে যাওয়ার সময় এয়ারপোর্টের সার্বিক অব্যবস্থায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ‘এটি তৃতীয় বিশ্বের কোনো বিমানবন্দরের সঙ্গে বেশি মানানসই।
বিশ্ব রাজধানীর জন্য একটি কল্ঙ্ক।’ বহু দশক পর্যন্ত লাগর্ডিয়া বিমানবন্দর অবহেলিত অবস্থায় ছিল, ছাদ চুঁয়ে পানি পড়ছিল, সরু করিডোর, ইঁদুরের অভয়ারন্য এবং হঠাৎ থেমে পড়া একসেলেটরে প্রায়ই দুর্ঘটনার অভিযোগ করতো যাত্রীরা। বিমানবন্দরটি সম্পর্কে যাত্রীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের বিরূপ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন, যা বিশ্বের রাজধানী খ্যাত নিউইয়র্ক সিটিতে প্রবেশ অনেকের জন্যই বিব্রতকর। সাবেক গভর্নর এন্ড্রু ক্যুমো পোর্ট অথরিটির ওপর চাপ প্রয়োগ করেন এয়ারপোর্টকে ঢেলে সাজানোর জন্য এবং দেশের বৃহত্তম সিটির প্রবেশপথের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য।
কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে লাগর্ডিয়া এয়ারপোর্টের সম্পূর্ণ নতুন মেইন টার্মিনাল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পুরনো এয়ারপোটে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ঝকঝকে তকতকে বিমানবন্দর নতুন রূপে ধরা দিয়েছে যাত্রীদের কাছে। আন্তর্জাতিক বিচারকদের একটি প্যানেল লাগর্ডিয়া এয়ারপোর্ট ভবনকে বিশ্বের সর্বোত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ভবন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
নিউইয়র্ক স্টেট গভর্নর ক্যাথি হকুল এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, আমরা অত্যন্ত বাজে অবস্থা থেকে এটিকে সেরা এয়ারপোর্টে রূপান্তরিত করেছি। লাগর্ডিয়াকে অত্যাধুনিক করে গড়ে তুলতে ৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে এখনো কাজ শেষ হয়নি। দ্বিতীয় আরেকটি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ডেল্টা এয়ারলাইন্স কাজ করে যাচ্ছে, যা আগামী বসন্তকালের শেষ দিকে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন পোর্ট অথরিটি অফ নিউইয়র্ক এণ্ড নিউ জার্সির এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর রিক কটন। সকল সুবিধা সত্বেও যে বিঘ্নটি বরাবর রয়ে যাবে তা হলে লাগর্ডিয়া এয়ারপোর্টে সীমিত আকৃতি, যা কখনো পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। যার ফলে সামনের দিনগুলোতেও ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ার শঙ্কা রয়েই গেছে।
করোনা ভাইরাস মহামারীতে সকল ক্ষেত্রে কর্মতৎপরতা হ্রাস পেলেও লাগর্ডিয়া এয়ারপোর্টের টার্মিনাল ভবনসহ অন্যান্য নির্মাণ কাজে গতি সঞ্চারিত হয়েছিল। কারণ যাত্রী সংখ্যা সীমিত থাকায় ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সিও কম ছিল এবং নির্মাণ ঠিকাদাররা পূর্ণ উদ্যমে দিনরাত কাজ করেছে। ২০২০ সালে লাগর্ডিয়া এয়ারপোর্ট ব্যবহারকারী যাত্রীসংখ্যা হ্রাস পেয়েছিল প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ, অর্থ্যাৎ ৭৩ শতাংশ।
তবে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটছে। তবে লাগর্ডিয়া এয়ারপোর্টে এখনো কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে আরো কিছু সময় লাগবে। লাগর্ডিয়ায় আগে এয়ারট্রেনের সুবিধা ছিল না, সেজন্য পৃথক একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এয়ারট্রেনের সংযোগের জন্য ব্যয় হবে ২ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি অর্থ, যা একই সঙ্গে সিটির সাবওয়ে সিস্টেম এবং একটি কমিউটার ট্রেন লাইনের সঙ্গে যুক্ত হবে।
কিন্তু স্টেট গভর্নর হকুল সাবওয়ে বা ট্রেনের জন্য এটি ঘোরাপথ হবে, যা এসব ট্রেন ব্যবহারকারীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে বলে সমালোচনার প্রেক্ষিতে ক্যাথি হকুল পোর্ট অথরিটিকে নিদেৃশ দিয়েছেন বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাজ করার জন্য। সাবওয়ের কোনো একটি লাইন, যেটি সুবিধাজনক বিবেচিত হবে সেটিকে লাগর্ডিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়ন কবে নাগাদ শেষ হবে সে সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি।
পোর্ট অথরিটি অফ নিউইয়র্ক এন্ড নিউ জার্সি জনএফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপার্টে ৯.৫ বিলিয়ন ব্যয়বরাদ্দ সম্বলিত নির্মাণ প্রকল্প এবং ২.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়বরাদ্দ সম্বলিত ন্ওিয়ার্ক লিবার্টি এয়ারপোর্টে টার্মিনাল ‘এ’ এর স্থলে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
Posted ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh