বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২
বাইডেন প্রশাসন নন-ইমিগ্রান্ট ভিসা ফি ক্যাটাগরি বিশেষে ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। বর্ধিত ফি আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্যকর হবে বলে স্টেট ডিপার্টমেন্ট আশা করছে, তবে প্রস্তাবিত ফি বৃদ্ধি সম্পর্কে তারা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মন্তব্য ও পরামর্শ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে। ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে ভিসা ফি বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রস্তাবটি রয়েছে।
ভিসা বৃদ্ধিতে সমালোচকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, প্রশাসন যদি ভিসা প্রাপ্তির জন্য অপেক্ষার সময় হ্রাস করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে সেক্ষেত্রে ভিসা ফি বৃদ্ধির অর্থ দাঁড়াবে খুব স্বল্প সংখ্যক পর্যটক ও ছাত্রের পক্ষে কাক্সিক্ষত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আগমণ করা সম্ভব হবে। ক্যাটো ইন্সটিটিউটের ইমিগ্রেশন পলিসি এক্সপার্ট ডেভিড বিয়ার ভয়েস অফ আমেরিকার সঙ্গে আলোচনাকালে বলেছেন, নন-ইমিগ্রান্ট ভিসার সকল ক্ষেত্রে ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব এমন এক সময়ে করা হয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন শিল্পে নাজুক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এবং এবং পর্যটক সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় স্টেট ডিপার্টমেন্ট ভিসার জন্য অপেক্ষার সময় ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করায় ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ট্রাভেল ভিসার জন্য আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে আগমণে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নন-ইমিগ্রান্ট ভিসাধারী কোনো বিদেশি সুনির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে পর্যটক হিসেবে, সাময়িকভাবে কাজ করতে বা পড়াশোনা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারেন। ট্যুরিস্টদের জন্য ‘বি-১’ ও ‘ভি-২’ ভিসা এবং স্টুডেন্ট ভিসা ‘এফ,’ ‘এম’ এবং ‘জে’ ভিসার ফি বিদ্যমান ১৬০ ডলার থেকে ২৪৫ ডলারে বৃদ্ধি (৫৪%) করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কর্মসংস্থান-ভিত্তিক ‘এইচ,’ ‘এল,’ ‘ও,’ ‘পি,’ ‘কিউ,’ এবং ‘আর’ ভিসার জন্য বিদ্যমান ফি ১৯০ ডলার থেকে ৩১০ ডলারে উন্নীত (৬৩%) করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ডেভিড বিয়ার বলেছেন ভিসা ফি বৃদ্ধির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে ভিসার জন্য আবেদন করা হলে তা দ্রুততার সঙ্গে পাওয়া যাবে কিনা। প্রশাসন ফি বৃদ্ধি করেও যদি অপেক্ষার সময় কমাতে না পারে তাহলে ভিসা গ্রহণকারীর সংখ্যা অনিবার্যভাবেই হ্রাস পাবে।
প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিল ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর অতিক্রান্ত হলেও তিনি এ ব্যাপারে বাস্তব কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেননি, যদিও তিনি তার পূবসূরী ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন বিষয় অনেক নীতির পরিবর্তন করেছেন, যার মধ্যে একটি হচ্ছে সীমিত ইমিগ্রেশন এবং সাময়িক কর্মসংস্থান ভিসা ইস্যু করা।
কিন্তু সব ধরনের নন-ইমিগ্রান্ট ভিসার জন্য অপেক্ষার সময় বৃদ্ধি। কোভিড ১৯ এর বিস্তারে কারণে আরোপিত বিধিনিষেধে ২০০০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সকল দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নিয়মিত ভিসা সার্ভিস সংকোচন করেছে এবং এক চতুর্থাংশ স্থানে ভিসা ইস্যু আংশিখ বা পূর্ণভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল, সেগুলোর পরিপূর্ণ কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। ফলে যেসব দূতাবাস ও কনস্যুলেট ভিসা ইস্যু করছে সেখানে বাড়তি চাপ পড়ছে এবং এক ডজনের বেশি স্থানে ভিসা আবেদন থেকে শুরু করে ভিসা ইস্যু করা পর্যন্ত এক বছর পর্যন্ত সময়ে লেগে যাচ্ছে।
ডেভিড বিয়ার ভয়েস অফ আমেরিকাকে আরো বলেছেন যে, রিপোর্টে দেখা যায় অধিকাংশ কনস্যুলেট বিজনেস ও ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য গত জানুয়ারি মাসে যাদেরকে ভিসার ইন্টারভিউয়ের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছিল তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০২ দিন।
২০২১ সালের এপ্রিলে এই অপেক্ষার সময় ছিল ৯৫ দিন। ছাত্রদের ভিসার পেতে অবশ্য এতটা সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। উল্লেখ্য, বিদেশ থেকে আগত ছাত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও ইউনিভার্সিটিগুলোতে বার্ষিক ৪১ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখে এবং ২০১৮-১৯ এর হিসাব অনুযায়ী ৪৫৮,২৯০টি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে ২০২০-২১ সালে বিদেশি ছাত্রসংখ্যা ব্যাপক হ্রাস পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদের বার্ষিক অবদান ছিল ২৮.৪ বিলিয়ন ডলার।
Posted ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh