বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ০৭ এপ্রিল ২০২২
করোনা মহামারীর ধকল সামলে ওঠার পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার চাঙ্গা হয়ে ওঠেছে এবং বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগজনক খবরও দিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। কর্মসংস্থানের অবস্থা মহামারী পূর্ব অবস্থার কাছাকাছি পৌছে গেছে এবং তা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে পৌছেছে বলে ফেডারেল সরকার মনে করছে। বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ ক্রমেই কমে আসছে এবং ছোটবড় সকল প্রতিষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে কাজ করার সময় আবারও ফিরে আসছে। নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত মার্চ মাসে ৪৩১,০০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে, যা মহামারী পূর্ব অবস্থার কাছাকাছি পর্যায়ে এসেছে। ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগোর প্রফেসর এবং বারাক ওবামার সময়ে কাউন্সিল অফ ইকনমিক এডভাইজারসের চেয়ারম্যান অস্টান গুলসবি বলেছেন, গত প্রায় দুই বছর যাবত শুধু ভাইরাসের কথা শোনা যাচ্ছিল, এখন মনে হয় আমেরিকান মনস্তত্বের উপর ভাইরাসের থাবা শিথিল হয়েছে। আমেরিকান অর্থনীতি আবার চাঙ্গা হতে যাচ্ছে।
২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে গত বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২২ মিলিয়ন লোক কর্মচ্যুত হয়েছিল, যার মধ্যে ৯৩ শতাংশ লোক আবার কাজে ফিরে এসেছে। অবশিষ্ট কর্মসংস্থান শুধু সময়ের ব্যাপার। কর্মী চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধিতেও সুবাতাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কারণ করোনা মহামারী পরিস্থিতি যখন শোচনীয় পর্যায়ে ছিল এবং কর্মসংস্থানের বিজ্ঞাপন দিয়েও লোক নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি, তখন কোম্পানিগুলোকে অধিক বেতনের প্রস্তাব দিয়ে লোক নিয়োগ করতে হয়েছে। প্রচলিত রীতিতে বর্ধিত বেতন হ্রাস করা প্রায় ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না এবং সমপর্যায়ের লোক নিয়োগ দিতে হলে তাদেরকেও বর্ধিত বেতনে নিয়োগ করতে হয়। ফলে যারা এখন নিয়োগ লাভ করছেন তারা বেশ আকর্ষণীয় বেতনে নিয়োগ পাচ্ছেন। তাছাড়া করোনা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এলেও ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার জন্য কর্মসংস্থান পরিস্থিতি চাঙ্গা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে বিনোদন ও হসপিটালিটি, বিজনেস সার্ভিস, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, খুচরা ব্যবসা, প্রস্তুত ও নির্মাণ খাতে। এদিকে পন্যমূল্য, বিশেষ করে ভোগ্যপন্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৮ শতাংশ, যা ১৯৮২ সালের পর সবচেয়ে অধিক বৃদ্ধি। এ নিয়ে রিপাবলিকানরা প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নীতির কঠোর সমালোচনা করছেন।
Posted ১১:২২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৭ এপ্রিল ২০২২
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh